রবীন্দ্রনাটকে প্রান্তজনের কথা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রবীন্দ্রনাটকে প্রান্তজনের কথা

আফরোজা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ৮ মে ২০২০   আপডেট: ২০:১৮ ৮ মে ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এদেশের টেলিভিশন নাটকগুলোর প্রথম দিকের একটি নাটক ‘রক্তকরবী।’ মুগ্ধ হয়ে দিখেছিলাম। রাজার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন গোলাম মুস্তাফা, নন্দিনীর ভূমিকায় দিলশাদ খানম। দিলশাদ খানম অসামান্য সুন্দরী। অসাধারণ ছিল তার অভিনয়। আর অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার রাজসিক চেহারা, জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর, সংলাপ প্রক্ষেপণে পারদর্শিতা ‘রক্তকরবী’ যারা দেখেছেন তারা কখনোই ভুলতে পারবে না। বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা এটি। 

তখনো আমার ‘রক্তকরবী’ পড়া হয়নি। বলতে দ্বিধা নেই, রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমি যতটা পড়েছি তখন পর্যন্ত গল্প উপন্যাস নাটক ততটা পড়িনি। টেলিভিশনে নাটকটি দেখার পর ‘রক্তকরবী’ পড়ি। একবার নয়, একাধিকবার। এরপর আগ্রহী হয়ে অন্য নাটকগুলোও পড়তে থাকি। পরবর্তীতে মহিলা সমিতি মঞ্চে ‘রক্তকরবী’র মঞ্চায়ন দেখি। কলকাতায় ‘বহুরূপীর’ করা ‘রক্তকরবী’র অসাধারণ মঞ্চায়নও দেখার সুযোগ হয়। আমার নিজের দল ‘নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়’ও নাটকটি মঞ্চস্থ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

রক্তকরবী নাটকের একটি দৃশ্য

রবীন্দ্রনাথের অনেক নাটক, অনেক কবিতাতেই সাধারণ মানুষের কথা, প্রান্তজনের কথা আছে। কিন্তু মুক্তধারা, রক্তকরবী আর রথের রশিতে তা প্রবলভাবে উপস্থিত। আমি আপাতত এই তিনটি নাটকেই রচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। 

‘মুক্তধারা’ নামটির মধ্যেই এ নাটকের কাহিনির আভাস পাওয়া যায়। এমন সার্থক নামকরণ সত্যিই হয় না। ধারা মুক্ত করে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ এ নাটকে। একটা বাঁধ নিয়ে নাটকের কাহিনি। নদীর ধারাকে বেঁধে রাখার জন্য যন্ত্র ব্যবহার করে বাঁধ দেয়া হয়। কাহিনির শেষ হয় বাঁধ মুক্ত করার মধ্য দিয়ে। উত্তরকূটের মানুষ যে বাঁধ বাঁধল তাতে শিবতরাইয়ের দিকে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হলো। আর এই বাঁধ নির্মাণের জন্য জীবন দিতে হলো কয়েকজন মানুষকে। তাতে কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করল না । যেন তারা বিশ্বাস করে বাঁধ বাঁধতে গেলে এমন দু’চারজনেক জীবন দিতে হয় দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য। তাই বটুর দুই নাতির রক্তে বাধের ভিত মজবুত হলো। অম্বার পুত্র হারিয়ে গেল সূর্য ডোবার আগে। সে আর ফিরলো না। এ নিয়ে কেউ ভাবলো না, যেন এটাই হবার ছিল। যেন কিছু দরিদ্র দুর্বল অসহায় মানুষের আত্মদানের পরণতিতে সবলের উদ্ধত চূড়া আকাশ ছোঁবে এটাই নিয়ম। 

বিজ্ঞানের প্রতি অপরিসীম আগ্রহ ছিল রবীন্দ্রনাথের। বিভিন্ন রচনায় তিনি সেকথা বলেছেন। যন্ত্র পছন্দ করতেন। তাহলে তিনি কেন এ নাটকে যন্ত্র বিরোধী হলেন! বাঁধ তো অনেক সময় মানুষের কাজে লাগে, উপকারে লাগে। বাঁধ দিয়ে বন্যা প্রতিরোধ করা যায়। মানুষের জীবন আর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচায় বাঁধ। নদীর পানি শুধু মানুষের পান করা, গোসল বা নিত্য কাজে লাগে তাতো নয়, এ পানি কৃষিকাজে লাগে। সভ্যতার অগ্রগতিতে নদীর বিশাল ভূমিকা রয়েছে। প্রকৃতি যখন ক্ষ্যাপাটে হয়ে দিকবিদিক ভাসিয়ে দেয় বেহিসেবি আনন্দে তখন তো মানুষের জীবন রক্ষা করে বাঁধ, রক্ষা করে জনপদ। কৃষির জন্য পানি সঞ্চয় করে রাখে। বাঁধ মানুষের জন্য প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ বাঁধের বিপক্ষে লিখলেন কেন তাহলে! কেন যন্ত্রকে অস্বীকার করলেন! কারণ যে যন্ত্র মানুষের উপকার না করে অপকার করতে উদ্যত হয় তার সঙ্গে কোনো আপস করেননি তিনি। মানুষকে ভালোবেসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। জমিদারপুত্র হয়েও সাধারণ মানুষের জীবন দেখেছেন তিনি।

জেনেছেন যন্ত্র সবসময় মানুষের উপকারে লাগে না। অপকার করে বিস্তর। ওই বাঁধ কিছু মানুষের সর্বগ্রাসী হীন আকাঙক্ষা আর লোভ চরিতার্থ করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বাঁধ দেয়া হয়েছিল কিছু মানুষের সংকীর্ণ স্বার্ধসিদ্ধির জন্য। তাদের দূরভিসন্ধি চরিতার্থ করে লোভের ঘড়া পূর্ণ করার জন্য। ওই বাঁধ একদল মানুষ দম্ভ করে বেঁধেছিল। ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আরেকদল মানুষের। তৈরি হয়েছিল বিভেদ ঈর্ষা আর বিচ্ছিন্নতার দেয়াল। শিবতরাইয়ের মানুষ পানি না পেয়ে কাঁদছিল। যে বাঁধের কারণে পার্শ্ববর্তী মানুষ পানি বঞ্চিত হয়, তাদের কৃষিকাজ ব্যাহত হয় সে বাঁধ কখনই উপকারী হতে পারে না। তাই এ বাঁধ তো ভাঙতেই হবে। 

কিন্তু বাঁধ ভাঙবে কে! মানুষের কষ্টে দুলে উঠেছিল অভিজিৎ-এর মন। কান্নায় দ্রবীভূত হয়েছিল অন্তর। পাশাপাশি প্রান্তজনের প্রতি এ অন্যায় সইতে পারছিলো না। সে প্রতিবাদ করেছিল। এগিয়ে গিয়েছিল বাঁধ ভাঙতে। অনেক বাঁধা পেরিয়ে বাঁধ ভাঙতে পেরেছিল নিজের জীবনের বিনিময়ে। যন্ত্রদানব পরাজিত হয়েছিল মানুষের মানসিক শক্তির কাছে, মূল্যবোধের কাছে। 

মুক্তধারা মঞ্চায়নের এক দৃশ্যে নৃত্য

এই যে বাঁধের ব্যাপারটা এটা কোনো গল্প নয়। কমবেশি সবাই আমরা জানি, দেখি। একদেশ বাঁধ দেয় আর এক দেশে চর পড়ে। প্রমত্তা নদীগুলো শুকিয়ে যায়। জেলেদের জীবন বিপন্ন হয়। এসব তো আমাদের দেখা। যেসব দেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী আছে সেসব দেশের মধ্যে এ ঘটনা প্রায়শই ঘটে। রবীন্দ্রনাথ দূরদর্শী ছিলেন। ১৯২২ সালে মুক্তধারা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ। সেই তখনই একটা বাঁধের মধ্য দিয়ে  তুলে এনেছিলেন বৈশ্বিক চিত্র। 

শুরু করেছিলাম ‘রক্তকরবী’ নাটকের কথা দিয়ে। ১৯২৬ সালে ‘রক্তকরবী’ লিখেছিলেন  রবীন্দ্রনাথ। অন্যায় অবিচার লোভের  বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ ‘রক্তকরবী’। যে কারণে ক্ষমতালোভী রাজাকে শেষ পর্যন্ত খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়। কিন্তু এই পরিণতি আসে চরম মূল্য দিয়ে। আসে রঞ্জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। নাটকে রাজা ও রঞ্জন প্রায় অনুপস্থিত। রঞ্জনকে আমরা একটিবারের জন্যও দেখতে পাই না। এমনকি তার কণ্ঠস্বরও শুনি না। রাজার কণ্ঠস্বর আমরা শুনি। কিন্তু দেখি মাত্র একবার, নাটকের শেষে। কিন্তু দেখা না দিয়েও, চিত্রপটে না এনেও যে চরিত্রকে কতটা শক্তিশালী করা যায়, আড়ালে থেকেও একটা চরিত্র কতটা প্রেরণাদায়ী হতে পারে তা আমরা দেখি রঞ্জনের চরিত্রের মধ্য দিয়ে। 

রাজার লোভ ছিল ক্ষমতার, ঐশ্বর্যের। খোদাইকারকদেরও লোভের কমতি ছিল না। ছিল বেশি উপার্জনের লোভ। এদের লোভ প্রতিনিয়তই প্রলুব্ধ করেছিল রাজাকে। সেই লোভের তাড়নাতেই খোদাইকারকদের উপর অত্যাচারের খড়গ চালাত রাজা।  রাজা চাইতো আরো সোনা। খোদাইকাররা চাইত আরো মজুরি। লোভের তাড়নাতেই যক্ষপুরিতে বন্দি ছিল উভয় পক্ষ। কারখানার শ্রমিকদের কোনো নাম নেই। তাদের পরিচয় ৩৮ছ বা ৬৯ঙ। মানুষের কী চরম অবমাননা, চরম অপমান! সংখ্যা দিয়ে পরিচয়! মনে প্রশ্ন জাগে, রবীন্দ্রনাথ তো জমিদারনন্দন, কারখানার জীবনের এই কাহিনি, শ্রমিকদের এই চরম অবমাননার চিত্র তিনি জানলেন কিভাবে! তিনি কখনও কারখানায় কাজ করেননি, হয়ত শুনেছেন কারো কাছে। কিন্তু এই লেখা প্রমাণ করে, না দেখে শুধু শুনে কোনো বিষয় কতটা বাস্তবোচিত করে তোলা যায়। দরকার নৈর্বিক্তিকতা। ওই মানুষদের একজন ভাবা নিজেকে। সেটা পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাই সার্থক বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পেরেছিলেন খোদাইকারকদের সংখ্যাভিত্তিক পরিচয়ের অবমাননাকে।

আর নন্দিনী! তাকে তো কম ভয় দেখায়নি রাজা। মৃত্যুভয়ও ছিলো। রাজা তাকে পিষে ফেলতে চেয়েছিল, টিপে মেরে ফেলতে পারে সে হুঙ্কারও দিয়েছিল। কিন্তু ভয় পায়নি নন্দিনী। বরং প্রতিবাদ করেছে। দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেছে, ‘তারপরে আমার মৃত্যুই তোমাকে মারবে। আমার অস্ত্র মৃত্যু।’ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশীলন নাট্যদল কলকাতায় রথের রশি মঞ্চায়ন করে

নন্দিনী এ নাটকের প্রতিটি চরিত্রকে প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। সবার কাছে বাস্তবতার মেসেজ পৌঁছে দিতে পেরেছে। তাই খোদাইকাররা পর্যন্ত লোভ থেকে মুক্ত হয়েছে। তারা অবাস্তবতার খোলস থেকে বের করে আনতে পেরেছে নিজেদের। বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে তারা, এককাট্টা হয়েছে। নন্দিনীর জয়ধ্বনি করেছে। 

একজন দুজন মানুষ যখন মোহাচ্ছন্ন বা লোভাচ্ছন্ন হয় তাকে বোঝানো যায় কিন্তু অনেক বড় জনগোষ্ঠী যখন লোভাচ্ছন্ন হয় তখন তাদের মুক্তি ঘটানো শক্ত। তারা মনে করে ওটাই নিয়ম। ওই নিয়ম ভেঙে বেরিয়ে আসার সাহস তাদের থাকে না। গ্রাস করে প্রচণ্ড ভীরুতা। ওই ভীরুতা ভাঙার জন্য দরকার প্রচণ্ড ধাক্কা, প্রবল প্রাণশক্তি। সেই ধাক্কা দিয়েছে রক্তকরবীর নন্দিনী, মুক্তধারার অভিজিৎ। 

রক্তকরবীর রাজার সাথে কারখানার মালিক বা চা বাগানের মালিকের কোন তফাৎ দেখি না। এদের একই উদ্দেশ্য, লাভ, মুনাফা, এশ্বর্য। মানুষ নিংড়ে নিংড়ে সম্পদ বাড়ানো। আবার তাকে ভুলিয়ে রাখার জন্য ধর্মের আরক ব্যবহার করা। ধনতান্ত্রিক সমাজের  বৈশিষ্ট্য এটাই। নন্দিনী রাজাকে বোঝাতে পেরেছে ক্ষমতা অর্থ প্রতিপত্তি সব নয়। প্রেম বলে একটা জিনিস আছে যা দেখা যায় না। নন্দিনী ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ গানের মাধ্যমে মাটির নিচের সোনা রূপার চেয়ে প্রকৃতির দান, পাকা ফসল যে অনেক মূল্যবান সে বার্তাও দিয়েছে রাজার কানে। মাটির নিচের সম্পদ আহরণে যার আগ্রহ, যে উন্মত্ত, তাকে মাটির উপরের প্রাকৃতিক সম্পদের, আনন্দের ইঙ্গিত দিলো নন্দিনী।  মহাশক্তিশালী রাজার হৃদয়ে নন্দিনীর এই বার্তা একসময় পশেছিল। তিনি কবি হয়ে উঠেছিলেন। নন্দিনীর একঢাল কালো  চুল, তার সৌন্দর্য, কমনীয়তা তাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল রাজা। নেপথ্যে ছিল রঞ্জন। 

সৌন্দর্য্য আহরণে অসামর্থ মানুষকে ক্ষমতার দম্ভ, সঞ্চয়ের লোভ অমানুষে পরিণত করে। রাজনীতি অর্থনীতির চেয়ে সংস্কৃতির শক্তি অনেক বেশি, প্রেম ভালবাসা সহমর্মিতা অনুরাগের শক্তি অনেক বেশি সেটাই দেখালেন রবীন্দ্রনাথ রক্তকরবীতে। 

অনেকে মনে করেন রক্তকরবীর রাজা আসলে বিজ্ঞান, যন্ত্র। তাও যদি হয় শেষাবধি তো এটাই দেখানো হল যে, যন্ত্রদানব হার মানল। রাজার মুক্তির মাধ্যমে ভেদবুদ্ধি সংকীর্ণতা লোভ লালসাকে হারিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। গাইলেন মানবতার জয়। 

রবীন্দ্রনাথ ‘রথের রশি’ লিখেছিলেন ১৯৩২ সালে। ১৯২৩ সালে ‘রথযাত্রা’ নামে একটা নাটক লেখেন। ‘রথের রশি’ সেই নাটকেরই পরবর্তী রূপ। এ নাটকেও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। নাটকে তিনি সমাজের নিম্নস্তর থেকে তুলে এনেছেন সমাজ চালানোর চালিকাশক্তি। রথ অচল হলে সমাজের কোনো উচ্চস্তরের লোক রথ চালাতে পারলো না। পারল শূদ্ররা। ওরাই তো কাজ করে, খাটে। চালায় অর্থনীতির চাকা।

বাঁধ যারা বাধে, সোনা যারা তোলে, রথ যারা চালায় তাদের পরিশ্রমকে পুঁজি করে ফুলে ফেঁপে ওঠে বড় মানুষেরা, রাজারা। সে কথাই বললেন রবীন্দ্রনাথ। 

আজকের মতো বলো সবাই মিলে 
যারা এতদিন মরে ছিল তারা উঠুক বেঁচে 
যারা যুগে যুগে ছিল খাটো হয়ে, 
তারা দাঁড়াক এবার মাথা তুলে।

রক্তকরবীতে একই কথা বরেছেন রবীন্দ্রনাথ। ‘যে মুখে নামকীর্তন করি সে মুখে অন্ন জোগাও তোমরা, শরীর পবিত্র হল যে নামাবলিখানা গায়ে দিয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সে নামাবলিখানা বানিয়েছ তোমরাই।’

রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতায়, গানে রয়েছে সাধারণ মানুষের কথা, ব্রাত্যজনের কথা, প্রান্তজনের কথা। রবীন্দ্রনাথের বৈশিষ্ট্য এখানেই। তিনি নিজেকে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, পরিব্যাপ্ত করতে পেরেছেন সবার মাঝে। সব ধর্ম বর্ণ গোত্র শ্রেণি পেশার মানুষ ভাবতে পেরেছে তিনি তাদের একজন। যেমন এই তিনটি নাটকে বাঁধের কারণে পানি না পাওয়া আর জীবন বিসর্জনকারী প্রান্তজন, গরিব খোদাইকার আর শুদ্র শ্রেণি জানবে রবীন্দ্রনাথ ঠিকই বলেছেন, আমি তোমাদেরই লোক। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর