Alexa মানহীন খাবার লাগামছাড়া দাম

ঢাকা, রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৫ ১৪২৬,   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

মানহীন খাবার লাগামছাড়া দাম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৪ ২০ মার্চ ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দোকানগুলোতে থামছে না মানহীন খাবার পরিবেশনের প্রবণতা। প্রশাসনের একের পর এক নির্দেশনার পরও সবকিছু চলছে আগের মতো। প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্য তালিকারও তোয়াক্কা করছেন না দোকানদাররা। একাধিক দোকানদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগও করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির হাজারো শিক্ষার্থী। তাদের দাবি খাবারের দাম নিয়ে রীতিমতো ডাকাতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং- ক্যান্টিনের খাবারের মান নিন্মমানের হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একমাত্র খাবারের জায়গা বটতলার খাবারের দোকানগুলো। পুরো বটতলা জুড়ে ৬০টি খাবারের দোকান রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আহার করেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে ইতিমধ্যে প্রশাসন থেকে কয়েকবার খাবারের দোকানগুলোর মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দোকান-মালিকরা প্রথমদিকে মূল্য তালিকা মেনে দাম রাখলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই প্রশাসনের টানানো মূল্য তালিকা সরিয়ে ফেলে। দ্রব্য-সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত তুলে মানহীন খাবার পরিবেশন করে অতিরিক্ত দাম আদায় শুরু করেন। দোকান-মালিকদের এমন কর্মকাণ্ডে রীতিমতো অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বটতলার রাবেয়া বিরানী হাউজ, বাংলার স্বাদ কনফেকশনারী অ্যান্ড রেঁস্তোরা, মক্কা ও মদিনা রেঁস্তোরা, নূরজাহান রেস্টুরেন্ট ও জান্নাতুলসহ একাধিক দোকানে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। সেই সব দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ভাতের প্লেট ৮ টাকা, যা তালিকা অনুযায়ী ৬ টা দাম রাখার কথা। ভাজি ১৫ টাকা যা তালিকা অনুযায়ী ১০ টাকা। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা যা তালিকা অনুযায়ী ৬০ টাকা। অন্যদিকে গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকা যা মূল্য তালিকায় ৬৫ টাকা রয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন,  ১ টুকরো গরু, খাসি বা বয়লার মুরগীর মাংস ৮০, ৯০, ৪০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া খাবারের মান ও পরিবেশ অনেক নিম্নমানের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুরাদ হোসেন অভিযোগ করেন, রাবেয়া বিরানী হাউজের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। খোলা পাম ওয়েল, নিম্নমানের মসলা, লবণ দিয়ে রান্না করা হয়। যা খেয়ে রীতিমতো পেটের পিড়া দেখা দিয়েছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ বলেন, বাংলার স্বাদ এন্ড কনফেশনারী রেঁস্তোরার রান্নার জায়গা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাছাড়া যারা রান্না করেন তারাও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত বলেন, গরু ও মুরগীর মাংস ৮০ টাকা রাখছে দোকানদাররা। কিন্তু প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী গরু ৬৫ টাকা এবং মুরগীর মাংস ৪০ টাকা দামে রাখার নিয়ম রায়েছে।

বাংলার স্বাদ কনফেকশনারী অ্যান্ড রেঁস্তোরার মালিক ইমাম হোসেন বলেন, চালের দাম বাড়ায় ভাত ৮ টাকা প্লেট রাখা হচ্ছে। গরু এবং খাসির মাংসের দাম বেড়েছে।আমরাও বাড়িয়েছি। বাড়তি দাম বৃদ্ধির কোন মূল্য তালিকা রয়েছে কিনা দেখতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

শুধু যে খাবারের মান বা দামের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তা নয় একাধিক দোকানে বাসি খাবার রাখার অভিযোগও করেছেন তারা। বাসি খাবার পরিবেশনে দোকানদারদের নিষেধ করলেও অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি।

এ বিষয়ে বটতলার খাবারের দোকানগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা আ.ফ.ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ শিকদার মো. জুলকার নাইন এবং বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশাসন থেকে খাবারের নির্ধারিত মূল্য তালিকা দেওয়া হয়েছে। মূল্য তালিকা না মেনে কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বটতলার দোকানগুলোর খাবারের মান ও দাম নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। নিম্নমান এবং বাসি খাবার বিক্রি বটতলায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কেউ নিম্নমানের বাসি খাবার বিক্রি করলে তার জরিমানাসহ দোকান বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর