উঠে যাচ্ছে ১৫ বছরের পুরনো অটোরিকশা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৯ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

উঠে যাচ্ছে ১৫ বছরের পুরনো অটোরিকশা

 প্রকাশিত: ০৩:৪৯ ২৭ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১১:৩৮ ২৭ মার্চ ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকা এবং চট্টগ্রামে চলাচল করা ১৫ বছরের বেশি পুরনো অটোরিকশা তুলে দিতে সময় বেঁধে দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

গত ১৫ মার্চ বিআরটিএকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর চট্টগ্রামে তা করতে হবে জুলাইয়ের মধ্যে।

এজন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তার অনুলিপি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে বিআরটিএকে। প্রতিস্থাপন দ্রুত করতে প্রয়োজনে দুই মহানগরে একাধিক স্থানে কাজ করার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।

ঢাকায় ১৩ হাজার ৬৫২টি এবং চট্টগ্রামের ১৩ হাজার মিলিয়ে ২৬ হাজার ৬৫২টি অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২০০২ সালে পাঁচ হাজার ৫৬১টি এবং চট্টগ্রামে সাত হাজার ৪৫৯টির নিবন্ধন দেওয়া হয়। এই ১৩ হাজার ২০টি অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

নিবন্ধিত অটোরিকশার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের বিপরীতে আবার নতুন মডেলের অটোরিকশা নামানো হয়েছে। পুনঃনিবন্ধিত এসব অটোরিকশা প্রতিস্থাপন করতে হবে না।

দুই মহানগরে চলাচলকারী বাকি ১৩ হাজার ৬৪২টি অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

পুরনো অটোরিকশা ধ্বংস করতে ঢাকা ও চট্গ্রাম বিআরটিএর দুজন উপ-পরিচালককে আহ্বায়ক করে এরইমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছি। এটা একটা বিরাট কর্মযজ্ঞ, অটোরিকশা ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে হবে। বুলডোজার, গ্যাস কাটারসহ যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। এজন্য ফান্ডের প্রয়োজন আছে।

নুরুল ইসলাম জানান, অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের জন্য উপ-পরিচালকদের কাছে আবেদন করতে হবে মালিকদের। দরখাস্ত হাতে পেলে উপ-পরিচালক একটি সিরিয়াল দেবেন। প্রতিদিন ৫০টি অটোরিকশার নম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্ধারিত তারিখে দরখাস্ত, মালিকানার মূল কাগজপত্র, সিরিয়াল নম্বরসহ অটোরিকশা মালিকরা যেখানে অটোরিকশাগুলো ভাঙা হবে সেখানে হাজির হবেন। মালিক ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত হতে পারবেন না।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অটোরিকশাগুলো ধ্বংস করা হবে। ধ্বংসের পর মালিকদের একটি প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হবে। এই কাগজটি দেখিয়ে নতুন অটোরিকশার নিবন্ধন করতে পারবেন মালিক।

চালকরা চান, পুরনোগুলো বাতিল করে তাদের নামে নতুন নিবন্ধন চালকরা চান, পুরনোগুলো বাতিল করে তাদের নামে নতুন নিবন্ধন এ প্রক্রিয়া শেষ করতে কতদিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো সঠিক তারিখ দেয়া সম্ভব না। কিছুটা সময় লাগবে এগুলো ঠিক করে কাজ শুরু করতে। যদি সবার সহযোগিতা পাই তাহলে আমাদের দুই মাস লাগবে না। সব শেষ করে আগামী দুসপ্তাহের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।

অন্যদিকে মেয়াদ না বাড়ানোর সুপারিশ করে দেওয়া বুয়েটের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা মহানগর অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু।

আমরা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিলাম। বুয়েট যে কোনো কারণে দেয় নাই। এটা নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের মাত্র ২৬টা গাড়ি পরীক্ষা করে সব গাড়ির বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়ে দিল! যেগুলো সবচেয়ে খারাপ গাড়ি।

তবে এখন আর বিরোধে না গিয়ে তারা অটোরিকশা প্রতিস্থাপন করবেন বলে জানান বুলু।

একটি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরা মোটর্সে আমরা শুনেছিলাম ৩ লাখ ৭০ টাকা। এখন নাকি আবার ১০ হাজার টাকা বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন খরচ, গেট লাগানো- আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা পড়তে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ

English HighlightsREAD MORE »