দাদ সারান প্রাকৃতিক উপায়ে

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১২ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

দাদ সারান প্রাকৃতিক উপায়ে

 প্রকাশিত: ২১:৫৫ ১৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২১:৫৫ ১৯ আগস্ট ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রিংওয়ার্ম বা দাদ চিকিৎসার পরিভাষায় ডার্মাটোফাইটোসিস নামে পরিচিত। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এই রোগের জ্বালা কিন্তু কম না। এই রোগ মূলত কিছু ফাঙ্গাসের আক্রমণে হয় এবং শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে। নখ, ত্বক এবং মাথার স্কাল্পে দাদ বেশি হয়। সমস্যার কথা হলো, এই রোগ ছোঁয়াচে। তাই এ রোগের চিকিৎসা প্রয়োজন, ঘরে বসেও অনেকটা নিরাময় সম্ভব।

পেঁপে

শুনে অবাক লাগতে পারে যে পেঁপে কীভাবে দাদের নিরাময় করতে পারে। আসলে এটি সম্ভব। কারণ এই ফলে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপাটিজ দাদ কমাতে দারুণ কাজে লাগে। এজন্য ছোট একটা পেঁপের টুকরো নিয়ে দাদের উপর লাগাতে হবে। তারপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে জায়গাটা। এছাড়া পেঁপে পাতার পেস্ট বা রস একইরকম কাজ দিতে পারে।

নিম পাতা

নিমের গুণের যে কোনো শেষ নেই, সে তো আমরা সবাই জানি। দাদ প্রতিরোধেও নিম পাতা ভালো কাজে লাগে। নিমে থাকা অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপাটিজ দাদের প্রকোপ কমায়। এজন্য অল্প পরিমাণ নিম তেল নিয়ে দাদের উপর একাধিকবার লাগান। আবার নিম তেলের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেলও লাগাতে পারেন। রাতারাতি উপকার পাওয়া যায়।

হলুদ

হলুদে রয়েছে অসংখ্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রপাটিজ। এটি দাদ সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে দারুন কার্যকর। এক্ষেত্রে প্রথমে অল্প করে হলুদের পেস্ট বা রস বানিয়ে নিন। তারপর তাতে তুলো চুবিয়ে যে যে জায়গায় দাদ হয়েছে সেখানে আলতে করে লাগান। দিনে নিয়মিত ৩ বার লাগালে দাদ কমে যেতে থাকবে।

রসুন

রসুনেও অনেক রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা আছে। রসুনে থাকা অ্যাজুইনা নামক প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান যেকোনো ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন কমাতে দারুণ কাজে লাগে। তাই দাদের ক্ষেত্রেও এই রসুন বেশ উপকারী। এজন্য অল্প রসুনের কোয়া নিয়ে সেগুলিকে ছোট ছোট করে কেটে নিন। তারপর সেগুলো দাদের উপর রাখুন এবং ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধুন। এভাবে সারারাত রাখলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। রসুনের কোয়ার পেস্টও লাগাতে পারেন।

অ্যালোভেরা

শুধু ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নয়, ফাঙ্গাল ইনফেকশন কমাতেও অ্যালোভেরা ভালো কাজে লাগে। এক্ষেত্রে রাতে শুতে যাওয়ার আগে অ্যালোভেরা থেকে জেল নিয়ে দাদের উপর সরাসরি লাগাতে হবে। সারারাত রেখে পর দিন সকালে ধুয়ে ফলতে হবে। প্রতিদিন এই ঘরোয়া চিকিৎসাটিতে অল্প দিনেই দাদ প্রতিকার হবে।

নারকেল তেল

এই তেলের মধ্যে দাদ কমানোর মতো প্রাকৃতিক শক্তি রয়েছে। নারকেল তেলের উপাদানগুলো সংক্রমণ নিরাময় করতে পারে। এজন্য রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে জায়গায় দাদ হয়েছে সেখানে অল্প করে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন। সকালে উঠে সেটা ধুয়ে ফেলুন। এতে ভালো ফল পাবেন।

ভিনেগার আর লবণ

দাদ কমাতে পরিমাণমতো লবণের সঙ্গে অল্প করে ভিনেগার মিশিয়ে একটা পেস্ট বানান। তারপর সেই পেস্ট দাদের উপর লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্রতিদিন এটা মেনে চললে ৭-১০ দিনের মধ্যে দাদ কমে যেতে থাকবে।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

একটা ছোট পাত্রে অল্প করে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার নিয়ে তাতে তুলো ভিজিয়ে দাদের ক্ষত স্থান পরিষ্কার করুন। এমনটা দিনে কয়েক বার করলেই দেখবেন সমস্যা কমতে শুরু করে দিয়েছে। আসলে এতে রয়েছে বিশেষ ধরনের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপাটিজ। এটি দাদ কমিয়ে দিতে পারে।

সরষে বীজ

ঝাঁঝালো সরষে বীজ যে শুধু খাওয়ার জন্যেই লাগে, এমনটা নয়। আপনার দাদসহ বিভিন্ন চর্মরোগেও সরষে বীজ কাজে লাগতে পারে। এজন্য আপনার দাদ হলে পরিমাণ মতো সরষে বীজ ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপরে সেগুলো বেটে নিন। সেই পেস্টটি এবার ক্ষতস্থানে লাগান। দেখবেন দাদ কমে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই