ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

গরমে রোগ বালাই এড়াতে করণীয়

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ০৭:১৩ ১৮ জুন ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমরা একটু সচেতন হলেই এই গরমে ভালো থাকতে পারি। আসুন জেনে নেই এই সময়ের করনীয়-

(১) গরমের সময় অতিরিক্ত ঘামের চাপে ঘর্মগ্রন্থিটি কিংবা ঘাম শরীরের বাইরে বহনকারী সেই নালীটিই ফেটে যায় এবং ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। ত্বকের নিচে জমে থাকা এ ঘামই ঘামাচি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পানির মধ্যে চন্দন পাউডার মিশিয়ে ওই পানি গরম করে নিন। গোসলের পানির মধ্যে ওই পানি মিশিয়ে গোসল করুন। এতে আপনার মধ্যে দিনভর সতেজ ভাব বজায় থাকবে।

(২) গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় লবণ আর পানি। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু এ পানির অভাবও পূরণ হওয়া চাই। গরমে ডাবের পানি ভালো। ডাবের পানি ঘামের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। পানি আছে এমন শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন লাউ, শসা, গাজর, আলু, তরমুজ, ফুটি, পেঁপে ইত্যাদি।

(৩) প্রচুর পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে বেশি গরমে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হতে পারে হিট স্ট্রোক। জ্বর, ঘামহীন শুষ্ক ত্বক, শ্বাস প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি, হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা, খিঁচুনি, এমন কি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

(৪) বাইরে বের হলে মুখে সানস্কিন দিন, ছাতা ব্যবহার করতে পারেন রোদে। এই গরমে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিন, প্রচুর পানি খান, বার বার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন এবং সবার ওপরে নিজের ত্বককে ভালোবাসুন। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী হলো সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন। এর পাতার ভেতরের থকথকে আঠালো অংশটুকু সরাসরি ত্বকে লাগাতে হবে। সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করবেন, ত্বকের জ্বালাভাব কমে যাচ্ছে এবং নিয়মিত ব্যবহারে উজ্জ্বল স্বাস্থ্যকর ত্বক ফিরে পাবেন। এটি যে কোনো ধরনের ত্বকের জন্যই উপকারী এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অতি সংবেদনশীল ত্বক কিংবা ব্রণ ওঠার প্রবণতা যাদের বেশি তারা এর থেকে অনেক বেশি উপকার পাবেন।

(৫) গরমে বাইরে রোদে ধুলোময়লা, রোদের তাপ, বেশিক্ষণ এয়ারকন্ডিশনে থাকা, এ রকম নানা কারণে আমাদের চুল সৌন্দর্য ও কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে যায়।খেয়াল রাখবেন চুলের মধ্যে যেন হাওয়া চলাচল করতে পারে। ধুলো-ময়লা, বৃষ্টির পানিতে ভিজে অনেক সময় চুল নিস্তেজ হয়ে যায়। চুলে শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই ভালো কোম্পানির কন্ডিশনার লাগান।প্রতিকদিন কিছুটা সময় চুলের যত্ন নিন।

(৬) গরমকাল মানেই ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসের বেশি বংশবিস্তারের আশঙ্কা থাকে। খাবার বা পানিবাহিত অসুখ, সেমন- টাইফয়েড, জন্ডিস এসব অনাকাঙ্ক্ষিত রোগ এ সময় বেশি হয়। সে জন্য ফুটপাতের শরবত, খোলা খাবার বা কাটা ফল খাওয়া পরিহার করা উচিত। বাহিরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। একসঙ্গে বেশি পরিমাণ খাবার না খেয়ে বার বার অল্প পরিমাণে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। টক দই আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গরমে নানাভাবে টক দই খাওয়া দরকার।

(৭) প্রতিদিন সকালে নরম তরল জাতীয় খাবার খান, সাথে সব্জি জাতীয় খাবার আবশ্যই তাছাড়া শরীর কষা হয়ে যাবে। লেবুর শরবত খান বেশিবেশি। অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার পরিহার করুন। ভাজা পোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। (না খাওয়াই ভাল)

(৮) পাতলা সুতি পোষাক পরিধান করুন। আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করুন যে কোন পার্টিতে/অফিসে।

(৯) রোদ থেকে এসেই গোসল করবেন না, একটু ঠান্ডা হয়ে গোসল করুন। রোদ থেকে এসেই হালকা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ও চুল ধুয়ে ফেলুন। বাইরে থেকে এসে সাথে সাথেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাবেন না।

(১০) রাতে ও সকালে ২ বেলা গোসল করুন পারলে। রাতে ঘুমানোর আগে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে ঘুমাতে যান, আরাম পাবেন।

(১১) ডায়রিয়া হলে প্রচুর তরল খাবার খান এবং খাবার স্যালাইন খান। দ্রুত নিকিটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রে নিজের ব্যাগে সবসময় প্যাকেট খাবার স্যালাইন সাথে রাখুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে