.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

ন্যাপ, এনডিপির পর এবার ভাঙছে বিকল্পধারা

 প্রকাশিত: ১২:০২ ১৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৩৯ ১৯ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের ন্যায় এবারো রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ভাঙা-গড়ার খেলা। ন্যাপ, এনডিপির পর সেই খেলায় এবার নাম লেখালো সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসা বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

জানা গেছে, বি চৌধুরী-মান্নানের গড়া বিকল্পধারা দলটির একটি অংশ পাল্টা-বিকল্পধারা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজেদেরকে মূলস্রোত দাবি করে দল থেকে বি চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে বহিস্কার করে ৭১ সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে বি চৌধুরী-মান্নান বিদ্রোহী গ্রুপ। 

এ উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এতে বিকল্পধারার তিন প্রতিষ্ঠাতাকে বহিস্কার করে নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হবে। 

সূত্র থেকে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ভেঙে নতুন করে গড়া এ দলটির সভাপতি হচ্ছেন দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল আমীন বেপারী। আহমেদ বাদল হবেন মহাসচিব। আর জানে আলম থাকবেন যুগ্ম মহাসচিব হয়ে।

নতুন এ অংশের নেতারা বলছেন, বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গেই থাকবে। সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের বিকল্পধারার জন্য অপেক্ষা করছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনের আগেই দলটি কাউন্সিল করবে। নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া বিকল্পধারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই কাউন্সিল করে কমিটি দিবে। তবে যদি কোনো কারনে তা সম্ভব না হয় তবে নির্বাচনের পরে কাউন্সিল হবে।

নতুন অংশের মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে একটা বড় প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের অধিকার আদায় সম্ভব হবে বলে আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে যারা বিকল্পধারায় আছি, তারা আশাবাদি হয়ে ওঠেছিলাম। কিন্তু মাহি বি চৌধুরী আমাদের কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার আগে নানা শর্ত জুড়ে দেন এবং একটা সময় এককভাবেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলারও প্রয়োজন মনে করেননি। বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন। তবে বাবার নাম ব্যবহার করে রাজনীতিতে আসা মাহী বি. চৌধুরীর এমন সিদ্ধান্তে দলের অধিকাংশ নেতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমরা একটি অংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আমরা প্রেস কনফারেনন্স ডেকেছি, সেখানে আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করবো।

তিনি বলেন, বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গেই থাকবে। সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের বিকল্পধারার জন্য অপেক্ষা করছে।

বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর ২০০৪ সালে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। পরে বিএনপির আরেক নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানকে নিয়ে গড়ে তোলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় কুলা।

প্রতিষ্ঠার এই ১৪ বছরে দলটিতে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক উদারতাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ দলটি তৃণমূলে সেভাবে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতিতে ভাগ বসাতে পারেনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টে যোগ দেয়ার পর পুরনো দল বিএনপি শিবিরের সঙ্গে আবারো রাজনৈতিক যোগসাজশ শুরু হয়। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরির পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে সামনে আসায় তৃণমূলেও আলোচনায় উঠে আসে বিকল্পধারার রাজনীতি।

তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত গত ১৩ অক্টোবর দলটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দিলে বিভাজনের আভাস ফুটে উঠে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/ টিআরএইচ