Exim Bank Ltd.
ঢাকা, শনিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫

নারী জাগরণের অনন্য দৃষ্টান্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধিডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
নারী জাগরণের অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কবির ভাষায়, ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

ওপরের লাইন দুটির কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ব্যাখ্যাতীত লাইন দুটির ব্যাখ্যা কোনোভাবেই শেষ হওয়ার নয়। প্রতিনিয়তই যেন ভাঁজ খুলছে নারী। এগিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। সৃষ্টি করছে নতুন নতুন ইতিহাস। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ আসন থেকে রান্না ঘর পর্যন্ত একজন নারীর বিচরণ। সবকাজে নারীদের অংশ গ্রহণ সমানভাবে থাকলেও নরসুন্দরের কাজে সাধারণত নারীদের দেখা যায় না। ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বলতলা বাজারে দেখা মিলল এক নারী নরসুন্দরের।

শোনালেন তার জীবনের গল্প। ‘পশ্চিম ছিটকী গ্রামের দরিদ্র যাদব শীলের চতুর্থ সন্তান শেফালী শীল। দারিদ্রতার কারণে ৫ম শ্রেণি পর্যন্তই লেখাপড়ার সুযোগ হয়েছিল। নিজের অমতে পরিবারের চাপে মাত্র ১২ বছর বয়সে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। শুরু হয় দারিদ্রতা আর মানিয়ে নেয়ার জন্য জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ। জীবনকে বুঝে উঠার আগেই ৪ মেয়ে ও ১ ছেলের মা হন তিনি। একদিকে স্বামীর অবহেলা ও বেপরোয়া উদাসী জীবনযাপনের কারণে তার জীবন বিষন্নময় হয়ে ওঠে। এরপর প্রথমে বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করেন এবং এক সময় বলতলা গ্রামের দোগনা বাজারে চলে আসেন। বলতলা গ্রামের দোগনা বাজারে আসার পরও স্বামী কাজ করতেন। কিন্তু ৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালে স্বামী প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভাবের কারণে ভালো চিকিৎসা করাতে না পারায় একসময় তার স্বামী মানসিক বিকারস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থার কিছুদিনের মধ্যে তার স্বামী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

এরপর থেকেই ৫সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের দায়িত্বভার পুরোটাই শেফালিকে নিতে হয়। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য প্রথমে তিনি অন্যের বাড়ি কাজ করলেও সংসার যখন চলছিল না তখন ছেলেবেলায় বাবার বাড়ি থেকে চুল কাটার পেশা বেছে নেন।

শুরুতে অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। অসহযোগিতা ও হাসি-ঠাট্টা করেছে অনেকে। আবার সহযোগিতাও করছে অনেকে। এ সময় গ্রামের লোকজন টাকা তুলে চুল কাটার জন্য তাকে একটি চেয়ারও কিনে দিয়েছিল। কিন্তু এর পরেও সম্পদহীন জীবনে তিনি কোনো স্বপ্ন দেখতে পারছিলেন না। জীবনের পথচলা যখন তার কাছে দূর্বিসহ, স্বপ্নগুলি যখন মরীচিকার মত ঠিক তখনই ২০১৬ সালে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া ব্র্যাক অফিসের টিইউপি কর্মসূচির আওতায় জরিপ এর মাধ্যমে চুড়ান্তভাবে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন এবং তার মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে গবাদী প্রাণী পালন এন্টারপ্রাইজের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে একটি বকনা গরু ও একটি ছাগল প্রদান করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সহায়ক ভাতা, হোম ভিজিটের মাধ্যমে ইস্যু শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি একটু একটু করে জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

শেফালির বাড়িতে এখন একটি গর্ভবতী গরু আছে যার আনুমানিক মূল্য-৪০ হাজার টাকা, তার ৩টি ছাগল ও ৩০টি হাঁস/মুরগি আছে। তার বড় মেয়েটি বি-এ (পাস কোর্স), ছেলেটি এইচএসসি আর বাকি ৩টি মেয়ে যথাক্রমে অষ্টম, সপ্তম ও প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছে। সে আগে অন্যের ঘরে ছিল। এখন ব্র্যাক কর্মীদের অনুরোধে বলতলা জিডিবিসি কমিটি দোগনা বাজারের পাশে ৩ কাঠা খাস জমিতে শেফালিকে একটি ঘর তুলে দিয়েছে। শেফালি এখন সামাজিক ও মানসিক ভাবে অনেক সচেতন। তার ছেলে-মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিবেন না বলে নিজে নিজে অঙ্গীকার করেছেন শেফালি।

তার মেয়েকে বিএ পাশ করার পর চাকরি করানোর স্বপ্ন দেখছেন। ব্র্যাক কর্মীরা তার সেলুনের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দিয়েছে। সে এখন গরু-ছাগল, হাঁস, মুরগি-লালন-পালনের পাশাপাশি দোকানে চুল কেটে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দিয়ে সংসার এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালায়। শেফালি বর্তমানে একজন জীবন যুদ্ধে হার না মানা একজন নারী। পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক কণ্ঠ। নারী হয়েও ব্যতিক্রমী পেশা গ্রহণ করে জীবনযুদ্ধে হার না মেনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

কাঠালিয়ার শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, শেফালী আমাদের সমাজের অনুকরণীয় নারী জাগরণের দৃষ্টান্ত। লজ্জা এবং সমাজের ঠাট্টা উপেক্ষা করে তিনি এখন নারী সমাজের গর্ব। আমি তার সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
পোশাক শ্রমিকদের ৬ গ্রেডের বেতন বাড়ল
পোশাক শ্রমিকদের ৬ গ্রেডের বেতন বাড়ল
বাংলাদেশের মাঝে এক টুকরো ‌'কাশ্মীর'!
বাংলাদেশের মাঝে এক টুকরো ‌'কাশ্মীর'!
এমপি হচ্ছেন মৌসুমী!
এমপি হচ্ছেন মৌসুমী!
মদের চেয়ে দুধ ক্ষতিকর: মার্কিন পুষ্টিবিদ
মদের চেয়ে দুধ ক্ষতিকর: মার্কিন পুষ্টিবিদ
এই রিকশাচালক ৩৪টি কোম্পানির প্রধান!
এই রিকশাচালক ৩৪টি কোম্পানির প্রধান!
এশিয়ার সেরা ৭ বিশ্ববিদ্যালয়, নেই ঢাবি
এশিয়ার সেরা ৭ বিশ্ববিদ্যালয়, নেই ঢাবি
পাসওয়ার্ড না দেয়ায় স্বামীকে পুড়িয়ে মারল স্ত্রী
পাসওয়ার্ড না দেয়ায় স্বামীকে পুড়িয়ে মারল স্ত্রী
স্ত্রীর ‘বিশেষ’ আবেদনে মলম মাখিয়ে বিপাকে স্বামী!
স্ত্রীর ‘বিশেষ’ আবেদনে মলম মাখিয়ে বিপাকে স্বামী!
ফুলশয্যার রাতে স্ত্রীর কাছে কী চায় স্বামী
ফুলশয্যার রাতে স্ত্রীর কাছে কী চায় স্বামী
ওটিতে রোগীর সামনেই অন্তরঙ্গে নার্স-চিকিৎসক, ভিডিও ভাইরাল
ওটিতে রোগীর সামনেই অন্তরঙ্গে নার্স-চিকিৎসক, ভিডিও ভাইরাল
শুধুই নারীসঙ্গ পেতে পর্যটকরা যেসব দেশে ভ্রমণ করেন
শুধুই নারীসঙ্গ পেতে পর্যটকরা যেসব দেশে ভ্রমণ করেন
শাহনাজের স্কুটি উদ্ধার, হিরো পুলিশ
শাহনাজের স্কুটি উদ্ধার, হিরো পুলিশ
সেই কিশোরীকে বিয়ে করল ধর্ষক
সেই কিশোরীকে বিয়ে করল ধর্ষক
বিয়ের খবর প্রকাশ করলেন সালমা
বিয়ের খবর প্রকাশ করলেন সালমা
গণিতে ভীত ছাত্রী এখন নাসার ইঞ্জিনিয়ার
গণিতে ভীত ছাত্রী এখন নাসার ইঞ্জিনিয়ার
মিলিয়ে দেখুন, ১৮৯৫ ও ২০১৯ এর ক্যালেন্ডার হুবহু
মিলিয়ে দেখুন, ১৮৯৫ ও ২০১৯ এর ক্যালেন্ডার হুবহু
ষাট বছরের বরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনে!
ষাট বছরের বরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনে!
স্থগিত শনিবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
স্থগিত শনিবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
ইসলাম ধর্মে গোসলের প্রকারভেদ
ইসলাম ধর্মে গোসলের প্রকারভেদ
১৯ জানুয়ারি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
১৯ জানুয়ারি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
শিরোনাম :
রংপুর রাইডার্সকে ১৯৫ রানের টার্গেট দিল সিলেট সিক্সার্স রংপুর রাইডার্সকে ১৯৫ রানের টার্গেট দিল সিলেট সিক্সার্স আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী মহাসমাবেশ আজ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী মহাসমাবেশ আজ