ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সবুজ অরণ্যের গুলিয়াখালী সৈকত

নাছির উদ্দিন, মীরসরাই

 প্রকাশিত: ১৮:১১ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:১৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। সবুজ মাঠের পাশে যদি হয় নদী তাহলেতো কোনো কথাই নেই। শুধু অপেক্ষা সময় আর সুযোগের। জীবনের চালিকা সময় থেকে কাজকে ছুটি দিয়ে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার।দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠ।গাছ গাছালি ঘেরা প্রান্তর।প্রকৃতির সবুজ সমারোহের এমন চৈতন্য পাওয়া যাবে গুলিয়া খালী সমুদ্র সৈকত। 

সৌন্দর্য ভরা সৈকতটির অবস্থান হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায়।স্থানীয়দের কাছে মুরাদপুর বিচ নামেই পরিচিত।সীতাকুণ্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সি বিচের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। 

একদিকে আছে সাগরের জলরাশি আর কেওড়া বন। বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারিদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল চোখে পড়বে। এই বন সমুদ্রের অনেকটা ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে। এখানে পাওয়া যাবে সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত পরিবেশ। গুলিয়াখালি সৈকতকে ভিন্নতা দিয়েছে সবুজ গালিচার বিস্তৃত ঘাস। 

সাগরের পাশে সবুজ ঘাসের উন্মুক্ত প্রান্তর নিশ্চিতভাবেই সকলের চোখ জুড়াবে। সবুজ ঘাসের এই মাঠে প্রাকৃতিক ভাবেই জেগে উঠেছে আঁকা বাঁকা নালা। এইসব নালায় জোয়ারের সময় পানি ভরে উঠে। চারপাশে সবুজ ঘাস আর তারই মধ্যে ছোট ছোট নালায় পানি পূর্ণ এই দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। অল্প পরিচিত এই সৈকতে মানুষজনের আনাগোনা কম বলে পরিবেশও রয়েছে নিরিবিলি। সাগরের এত ঢেউ বা গর্জন না থাকলেও এই নিরবিলি পরিবেশের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত কাছে ধরা দিবে ভিন্ন ভাবেই। চাইলে উপযুক্ত অর্থদিয়ে জেলেদের বোটে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো যাবে।

যেতে চাইলেঃ

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে চড়ে সীতাকুন্ডে নামতে হবে। ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনেও চট্টগ্রাম শহর। চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড বাজার। পাবেন বাস ও মেক্সি। পছন্দমতো জায়গা থেকে চলে আসতে পারবেন সীতাকুণ্ড বাজারে। বাসস্ট্যান্ড সরাসরি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে গুলিয়াখালি বিচের বাঁধ পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

সুবিধা-অসুবিধা 

গুলিয়াখালি সি বিচে থাকা-খাবার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাত্রী যাপনে সীতাকুণ্ডে আবাসিক হোটেলে থাকতে হবে। ভ্রমণকে নিরাপদ করতে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিন। জোয়ারে বিচের কাছে না থাকাই ভালো। পানির ঢেউ যখন বাড়বে বিচে থেকে দূরে থাকতে হবে। আর জোয়ারের সময় পানি উঠে নালাগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। তখন পারাপার হতে সমস্যা হতে পারে। তাই সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম