.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

শনিবার জাপার মহাসমাবেশ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

 প্রকাশিত: ২২:০৬ ১৮ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২২:১৪ ১৮ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। এ সমাবেশ সফল করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।  

এদিকে কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতারা। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সারাদেশে এরশাদ, রওশন ও শরিক দলের শীর্ষ নেতা মাওলানা এম মান্নানসহ বিভিন্ন নেতার ছবি দিয়ে মহাসমাবেশের পোস্টার লাগানো হয়েছে। ঢাকা শহরের অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে মহাসমাবেশের ব্যানার ও পোস্টার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলীতে সুত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানা জাপার এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি। অারো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল অালম রুবেলসহ নগর নেতারা। বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় কৃষক পার্টির এক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্ব সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

সভায় রুহুল অামিন হাওলাদার বলেন, অাসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ মহাসমাবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অামরা লাখো জনতার উপস্থিতিতে প্রমান করবো জাতীয় পার্টি এককভাবেই ক্ষমতায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। 

অপরদিকে বিকেলে রাজধানীর লালবাগে জাপার মহাসমাবেশ সফল করতে অামলীগোলায় এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন অাহমেদ মিলন।

সন্ধ্যায় জাপার কাকরাইল কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টি ও জাতীয় ছাত্রসমাজ যৌথসভা করেছে। সভায় দলের মহাসচিব ছাড়াও প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর অাব্দুস সবুর অাসুদ, উপদেস্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যন ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, অারিফুর রহমান খান, অালমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম-মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ অালমগীর হোসেন, মনিরুল ইসলাম মিলন, ফখরুল অাহসান শাহাজাদা, বেলাল হোসেন, অাবু সাঈদ স্বপন, এমএ রাজ্জাক খান, সুমন অাশরাফ, ছাত্রসমাজের সভাপতি মোড়ল জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মেজবাহ উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় পার্টিসহ জোটের শরিক দলগুলো। সারাদেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এজন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চে নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন মহাসমাবেশে। ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে বাদ্য-বাজনা সহকারে মিছিল নিয়ে আসতে বলা হয়েছে নেতাকর্মীদের। মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতারা নিজ নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন জোরেশোরে।

এদিকে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভিড়। কেউ পোস্টার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত লোকসমাগম নিয়ে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত দলের প্রত্যেকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। নেতারা মহাসমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। মহাসমাবেশের সার্বিক সফলতায় সার্বক্ষণিক তদারকিতে ব্যস্ত দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি। তিনি একবার পার্টি অফিসে, আরেকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, কখনো এরশাদের বনানী অফিসে, কখনো এরশাদের বারিধারার বাসায়, আবার কখনো ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিংবা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভায় ছুটছেন। সারাদেশ থেকে কীভাবে লোকসমাগম হবে তার নির্দেশনাও দিচ্ছেন। মহাসমাবেশ সফল করা নিয়ে তার ব্যস্ততা অনেক। 

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, পার্টির মহাসচিবের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে জাতীয় পার্টির এই মহাসমাবেশ হবে নির্বাচনের আগে সবচাইতে বড় শোডাউন। তিনি যেভাবে রাতের ঘুম হারাম করে নেতাকর্মীদের সময় দিচ্ছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় তার সার্বিক তদারকিতে মহাসমাবেশ ঘিরে জাতীয় পার্টি দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলেছে। আশা করছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই কর্মসূচি জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখা, জাতীয় কৃষক পার্টি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, যুব সংহতি, মহিলা পার্টি, ছাত্রসমাজ, জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন, শ্রমিক পার্টি, ওলামা পার্টিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতিমূলক সভা-সমাবেশ করেছেন।

জাতীয় জোটের মহাসমাবেশের মাঠ ও মঞ্চের প্রস্তুতি দেখতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুইয়াসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

এছাড়া মহাসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় কৃষক পার্টির প্রস্তুতি সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সভায় তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্য হলো ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগই কৃষক। দেশের যত উচ্চ স্থানেই থাকুক না কেন কৃষকই সবার মূল ঠিকানা। পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ কৃষকদেরই প্রকৃত বন্ধু। তাই আগামী ২০ অক্টোবরের মহাসমাবেশে জাতীয় কৃষক পার্টি দেশের কৃষকদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত করে প্রমাণ করবে এ দেশ এখনো কৃষকের।

কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন চাকলাদারের পরিচালনায় সভায় কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, ২০ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশে আমরা প্রমাণ করব, সারা দেশে আমরা সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী।

এদিকে মহাসমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলীতে সুত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানা জাপার এক যৌথসভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি। বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেলসহ নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মহাসমাবেশ সফল করতে বিকেলে রাজধানীর লালবাগের আমলীগোলায় কর্মীসভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। এ সময় তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরী এরশাদের সৈনিকদের দখলে থাকবে। আমাদের প্রত্যেকটি এলাকা থেকে নেতাকর্মী মহাসমাবেশ যোগ দেবেন। এরশাদের মহাসমাবেশে আসতে আগ্রহী এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। মহাসমাবেশ রাজধানীবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ছাত্রসমাজের সভাপতি মোড়ল জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মেজবাহের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যন ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, মনিরুল ইসলাম মিলন, ফখরুল আহসান শাহাজাদা, বেলাল হোসেন, আবু সাঈদ স্বপন, এমএ রাজ্জাক খান, সুমন আশরাফ প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে/জেডআর