Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জাতীয় ঐক্যে বিভাজন

কাজী লুৎফুল কবীর ও আব্দুল্লাহ আল মামুনডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
জাতীয় ঐক্যে বিভাজন
ফাইল ফটো

যুক্তফ্রন্টের আহ্বানে জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয়নি জাতীয়তাবাদী ধারার অনেকেই। আর সবশেষ মূল উদ্যোক্তাকে বাদ দিয়ে জোটের নাম ও ঘোষণাপত্র প্রকাশ করায় বিভাজন বা ভাঙন এখন স্পষ্টতায় রূপ নিয়েছে। অথচ দাবি করা হয়েছিল যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্যে জামায়াত ছাড়া সবাইকে ডাকা হয়েছে।

বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলোর অনেক শীর্ষনেতাও যাননি ড. কামালের ঐক্যে। পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী মাওলানা ইসহাকের ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব কাদেরের উপস্থিতি দৃশ্যত ড. কামালের ইমেজকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিএনপির জাতীয় ঐক্য বিরোধী অংশের মতে, জামায়াত প্রসঙ্গে এত বির্তক তুলে ফের কি করে ইসহাকের মতো একজন স্বাধীনতাবিরোধীর দলকে জাতীয় ঐক্যে সুযোগ করে দেয়া হলো?

এদিকে, ২০ দলের সিনিয়র নেতা কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ বা তার কোনো প্রতিনিধিকে জাতীয় ঐক্যের সভায় দেখা যায়নি। একই পথ অনুসরণ করেছেন মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গণি। মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টিরও কাউকে দেখা যায়নি ওই সভায়। এছাড়া ওই নাগরিক সমাবেশে যায়নি ন্যাশন্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। যার নেতৃত্বে আছেন খন্দকার গোলাম মরতুজা। মুফতি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং মুসলিম লীগের কেউ সমাবেশে যোগ দেননি।

২০ দলের একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, কর্নেল অলির নেতৃত্বে এলডিপি, ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি ও এনডিপিসহ আরো কয়েকটি দলের বোঝাপড়া চমৎকার পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির ভোটহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করাকে তারা ইতিবাচক চোখে দেখছে না। অথচ জোটের দুর্দিনে তারা কখনো বিএনপিকে ছেড়ে চলে যায়নি। এমনকি আপসও করেনি অন্য কারো সঙ্গে।

খোদ বিএনপিতেও ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর জোট নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিএনপির মধ্যেও বইছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। যেকোনো মুহূর্তে তা চলে আসতে পারে সামনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, যতই ড. কামাল হোসেন তারেক রহমানকে গালমন্দ করুক কিংবা জামায়াত বর্জনের কথা বলুক, বাস্তবতা ভিন্ন। জাতীয় ঐক্যের মূল লক্ষ্য- গণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো।

তিনি বলেন, বিএনপির সারা দেশের নেতারা মূলত নির্বাচন করতে চান। কিন্তু এই জোট মূলত নির্বাচনমুখী নয়। তবে যারা এর নেতৃত্বে আছেন মোটের ওপর তাদের ইমেজ খারাপ নয়।

তবে কর্নেল অলিসহ জোটের অনেক নেতা এ ঐক্যে না যাওয়ায় শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক আরো কিছু ঘটনা আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে। বিএনপির বড় অংশ ও কর্নেল অলি আবার আলোচনায় চলে আসতে পারেন।

যে কারণে ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির বিভাজন-

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে বিএনপির কয়েকজন নেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. মঈন খান। জানা গেছে, বিএনপির এই নেতারা আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে।

অন্যদিকে, দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতারা যারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনোভাবেই নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে নয়, তাদের দেখা যায়নি এই সমাবেশে। যার ফলে বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়ার কথা হলেও শুরুতেই দলটির মধ্যে ঐক্য নিয়ে মতপার্থক্যের বিষয়টিই সামনে আসে।

অনেকের ধারণা, জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিএনপিতে বিভাজনের দুটি কারণ থাকতে পারে। যার প্রথমটি হলো- ডা. কামাল-বি. চৌধুরীর ঐক্য প্রক্রিয়া হলো সরকারের আরেকটি ফাঁদ। তাদের মতে, এই ঐক্য শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হবে এবং এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন বি. চৌধুরী। আর শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের এক পর্যায়ে যদি জোট ভেঙে যায় এবং এর একটি অংশ যদি নির্বাচনে যায়, তখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি। আর এমনটি ঘটলে পরিস্থিতি হবে ২০১৪’র চেয়েও ভয়াবহ। ২০১৪ তে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচন বর্জন করেছিল। আর এবার জাতীয় ঐক্য করে অর্ধেক অংশ যদি নির্বাচনে যায়, তাহলে সেটি হবে এক বড় প্রহসন। আর এই প্রহসনের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হবে বতমান ক্ষমতসীন সরকারকেই।

অপরটি হলো, বিএনপি একটি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপি যদি কোনো ঐক্যে যায় তবে সেই ঐক্যটি হতে হবে তাদের নেতৃত্বে। যেমন ঐক্য বিএনপি করেছিল এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। ওই সময় বিএনপি গঠন করেছিল ৭ দলের ঐক্য। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ছিল দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি ঐক্য করেনি। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য না করেও স্বৈরাচার পতনে ভূমিকা রেখেছিল বিএনপি। আওয়ামী লীগ বিএনপি পাশাপাশি থেকেই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। বিএনপির দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষিত নেতারা মনে করেন, বিএনপি যদি কারো অধীনে ঐক্যে যায়, তাহলে তাদের অবস্থানই দুর্বল হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আন্দোলনে বিএনপি সামনের কাতারে থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি যে পয়েন্টগুলো দিয়েছিলেন এখন দেখছি আমাদের বাম রাজনৈতিক দলগুলো, যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়া সেই একই দাবি করেছেন। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, ইভিএম করা যাবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে সেনা মোতায়েন করতে হবে এই দাবিগুলো খালেদা জিয়া বৃহত্তর ঐক্যের ডাকে বলেছিলেন। আর যাদের সঙ্গে আমাদের দাবি এক, তাদের সঙ্গে মিলে লড়াই আমরা অবশ্যই করতে পারবো। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বলেছি- আমরা শুধু বৃহত্তর ঐক্যে রাজি নই, বৃহত্তর ঐক্যের আন্দোলনে আমরা সামনের কাতারে থাকবো।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গত ৩০ তারিখে বিএনপির সমাবেশে বলেছেন, গণতন্ত্রে জন্য যারা রাজপথে থাকবে তারা যদি আমাদের শত্রু কিংবা প্রতিপক্ষও হয় তারপরও তাদের জন্য সম্মানের জায়গা থাকবে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির ঐক্যে যাওয়া নিয়ে দলটির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ বা মতপার্থক্য রয়েছে। অবশ্য এমন মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপির একটি অংশ জাতীয় ঐক্যে গেছে। এখন ঐক্যে গিয়ে বিএনপির একটি অংশ যদি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে থাকে তাহলে দলটির মধ্যে ভাঙন অনিবার্য।

সন্দেহের তীর যাদের দিকে-

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া জোরেসোরে চলছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা সম্পৃক্ত হতে যাওয়া দলগুলোর কয়েকজন রাজনীতিবিদকে নিয়ে এখনো সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েই গেছে। প্রধানত, এটি একটি সরকার বিরোধী জোট। কিন্তু অনেকে মনে করছেন এই জোটে সরকারের কিছু এজেন্ট আছে যারা জোটকে গতিশীল করার সময়টাতে সবকিছু ভণ্ডুল করে দেবে। এমন কিছু একটা করবেন যাতে ঐক্য প্রক্রিয়ার পুরো ফসলটা সরকারের ঘরে চলে যায়।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য বেশ কয়েকজনকে ঠিক বিশ্বাসভাজন বলে ভাবা হচ্ছে না। এই রকম সন্দেহের তালিকায় যারা আছে তাদের মধ্যে প্রথম হলেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। তিনি প্রথম থেকেই জামায়াত ইস্যুতে সোচ্চার। তিনি বলছেন যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জামায়াতের সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে জোটে তার আগ্রহ নেই। আর জামায়াতের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত বলতে বিএনপিকেই বোঝায়। এসব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত যদি যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় থেকেও যায় তাহলে মাহীকেই সবচেয়ে বেশি সন্দেহের চোখে দেখা হবে। মাহী যে কোনো সময় বিশ্বাস ভঙ্গ করতে পারেন বলে মনে করছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ব্যাপারে তার অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তিনি সবসময় বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বীকার করে না তাদের সঙ্গে তিনি ঐক্য করবেন না। তবে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যের নেতা ড. কামাল হোসেনের বেশ ভালো সখ্যতা রয়েছে, সে কারণে শেষ পর্যন্ত কাদের সিদ্দিকী ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকতেও পারেন। কিন্তু একটি পর্যায়ে গিয়ে কাদের সিদ্দিকীও যে বিগড়ে যাবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে সন্দেহের তালিকায় উপরের দিকে আছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

সন্দেহের তীর আছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদের দিকেও। এলডিপি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হওয়ায় ২০ দলীয় জোট থেকে যে দলগুলো ঐক্য প্রক্রিয়ায় যাবে তার মধ্যে অন্যতম ধরা হচ্ছে এলডিপিকে। তবে, বিএনপি থেকে সরে আসার কারণে বিএনপির ব্যাপারে তার একটি ক্ষোভ ও বেদনার জায়গাও রয়েছে। কাজেই তিনিও যে জোটের সংকটকালীন সময়ে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তরুণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হচ্ছেন বিজেপি (মঞ্জুর) বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। দল হিসেবে বিজেপির তেমন নামডাক না থাকলেও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ঐক্য প্রক্রিয়ায় এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু আন্দালিব রহমান পার্থ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়। গত কিছুদিন ধরে ঐক্য প্রক্রিয়া বিষয়ে তার নীরবতাই একথা প্রমাণ করে। তাই নতুন জোটের নেতারা আশঙ্কা করছেন, ঐক্য প্রক্রিয়া যখন হবে আন্দালিব রহমান পার্থর দিক থেকেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে গেলেও এই চারজন রাজনীতিবিদকে প্রক্রিয়াটির জন্য বিশ্বস্ত ভাবা হচ্ছে না। এই লোকগুলোর জন্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত কি না সেটি নিয়ে বিএনপির মধ্যেও সন্দেহ আছে। আর নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না থেকে শুরু করে জাসদের আ স ম আব্দুর রব- যারাই এই ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা তারাও এদের সন্দেহের চোখে দেখছেন।

জাতীয় ঐক্য নিয়ে ২০ দলে কোনো বিভাজন আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিভ পার্টি এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জাতীয় ঐক্য নিয়ে ২০ দলীয় জোটের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের যে বৈঠক হয়েছে সেখানে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০ দলীয় জোট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া করার জন্য বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যেই ২০ দলের পক্ষ থেকে বিএনপিই নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের নেতারাও যে যার মতো করে দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কোনো বিভাজন নেই।

জাতীয় ঐক্যের নেতাদের নিয়ে কর্নেল অলি আহমেদের সমালোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্নেল অলি আহমেদের বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে কথা হয়েছে। তিনি যেহেতু একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ, তাই তার প্রতি যেন আমরা সেভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে পারি সেটি ২০ দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। আজকে জাতীয় ঐক্যের যারা আছেন, ডা. বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন তারা যেমন সিনিয়র রাজনীতিবিদ এবং তাদের যেমন আমরা সম্মান করি তেমন কর্নেল অলি আহমেদকেও সেই সম্মানের জায়গাটা বিএনপিকে দেয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আগামী দিনে আমরা মনে করি, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দৃশ্যমান ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল অলিও একটা সিদ্ধান্ত দেবেন। বৈঠকে এরকম একটা প্রস্তাবনা ছিলো, যা বিএনপি স্বীকার করে নিয়েছে।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জামায়াত-বিএনপি, জামায়াত-বিএনপি করতে করতে রাজনীতিটা কেমন যেন একটা এক ঘেয়েমি নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আব্দুর রব, স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্র নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন আজ বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে, আজকে তাদের যে দাবি সেই দাবির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

আজকে যদি কেউ আসে বা না আসে, যদি কেউ চলেও যায়; এতে করে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। বিএনপির নেতাকর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে ডা. বি চৌধুরীর বিরাট অবস্থান ছিলো। কারণ হলো তিনি হলেন এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। অতীতে তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা হয়তো তৎকালীন সময়ে ঠিকই ছিলো। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা অনুতাপ ছিলো সে কারণেও তার প্রতি তাদের একটা বিশেষ দুবর্লতা ছিলো। আজকের এই দুর্দিনে সবাই প্রত্যাশা করেছিল, আমাদের নেতা বি. চৌধুরীও সঙ্গে আছেন। আজকে ম্যাডামের দুর্দিনে তিনি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন।

কিন্তু তার ছেলে আবারো যে কাজটি করেছে, বিএনপির কাছে সবচেয়ে ঘৃণীত ব্যক্তি হচ্ছে মাহী বি. চৌধুরী। তিনি পেছন থেকে যে ছুরিকাঘাত করেছেন সামান্য পয়সার লোভে, এতে তিনি তার বাবার মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন আজ বিএনপি নেতাকর্মীদের মনের কোঠায়। লক্ষ-কোটি সমর্থক ড. কামাল হোসেনকে শ্রদ্ধা করেন। সে কারণেই তার কোনো কথায়ও বিএনপিসহ কারো কোনো আক্রোস নেই।

ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে বিএনপি বা ২০ দলে কোনো বিতর্ক নেই। তিনি তার আচরণ, ব্যবহার কথা-বার্তা দিয়ে ২০ দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। এই দুর্দিনে যেন আমাদের একজন অভিভাবক আছে। তিনি কিছু করতে পারুক বা না পারুক তাতে ২০ দলের কিছু আসে যায় না। কিন্তু তিনি খালেদা জিয়ার দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোতে আজকে ২০ দলে তার অবস্থান তৈরি হয়েছে।

আর বি. চৌধুরী এখনো সঠিক অবস্থানে আছেন। তবে তার ছেলের বিষয়ে সবার মত হলো, সে সরকারের গুপ্তচর। আর একজন লোক যদি চিহ্নিত হয়ে যায়...। সে কারণেই বলছি ছেলের এসব কর্মকাণ্ডে তিনি হয়তো আজ সন্দেহের তালিকায় আছেন। তবে বিএনপি বা ২০ দল ডা. বি চৌধুরীকে কখনো অসম্মান করে না। তবে তারা বিশ্বাস করে তিনি যে কোনো সময় এ জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।

কর্নেল অলি আহমেদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্নেল অলি ২০ দলের একটা পিলার। সবাই বিশ্বাস করে খালেদা জিয়ার পরেই ২০ দলে তার অবস্থান। সম্মানের দিক থেকে বলছি। আমরা ২০ দলের বৈঠকে দেখেছি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরে বৈঠকে তিনি নিজে উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠান। তো- সবাই তাকে সেভাবেই সম্মান দেয়। তিনি একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের পালস বোঝেন। তাই হঠাৎ করেই তিনি কোনো সিদ্ধান্তে যেতে রাজি নন। তিনি সরকারের সঙ্গে আতাত করবেন এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কেননা তিনি জনগণের জোয়ার বোঝেন।

জাতীয় ঐক্য নিয়ে ২০ দলের মধ্যে কোনো বিভাজন আছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তোফা ভূইয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জাতীয় ঐক্য হলো বিএনপির সঙ্গে, আমাদের সঙ্গে না। আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম কোন কোন বিষয় নিয়ে জাতীয় ঐক্য করতে চান? সেই বিষয়ে তারা তাদের অবস্থান আমাদের কাছে স্পষ্ট করতে পারেনি। তাই জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব সম্পর্কে কোনো মতবিরোধ আছে কি না সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। আমরা জোট করেছি খালেদা জিয়াকে প্রধান করে। আমরা তাকেই নেতা মানি। তবে বিএনপি কাকে নেতা মানবে সেটা বিএনপির বিষয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএইচআর/এসআই/এমআরকে/আরআই

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
জন্ম ভারতে, পর্ন স্টার আমেরিকার!
জন্ম ভারতে, পর্ন স্টার আমেরিকার!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
সুস্মিতার বিয়ে পাকা ১৪ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে!
সুস্মিতার বিয়ে পাকা ১৪ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে!
মোনালিসার বিয়ে, পাত্র কে জানেন?
মোনালিসার বিয়ে, পাত্র কে জানেন?
আদালতে যা বললেন খালেদা জিয়া
আদালতে যা বললেন খালেদা জিয়া
​সম্পর্ক ছিল না তাদের, তবুও সমালোচনায়...
​সম্পর্ক ছিল না তাদের, তবুও সমালোচনায়...
শিরোনাম:
ময়মনসিংহে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু; অসুস্থ দেড় শতাধিক ময়মনসিংহে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু; অসুস্থ দেড় শতাধিক যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে মনোনয়ন দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী; দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহ করলে কঠোর ব্যবস্থা যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে মনোনয়ন দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী; দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহ করলে কঠোর ব্যবস্থা নির্বাচন না পেছাতে ইসিকে আওয়ামী লীগের অনুরোধ: এইচ টি ইমাম নির্বাচন না পেছাতে ইসিকে আওয়ামী লীগের অনুরোধ: এইচ টি ইমাম নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল তফসিল পেছানো যায় কি না, কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব তফসিল পেছানো যায় কি না, কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব