ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

কিমের দেহরক্ষী যারা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১২:১৭ ১৩ জুন ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যখন সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছালেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, তখন থেকে নিরপাত্তা দেয়ার জন্য তাকে ঘিরে রাখে একদল দেহরক্ষী। আর সেই সঙ্গে এবার পুরো বিশ্ব দেখল কিমের দেহরক্ষীদের। যারা স্যুট পরে তাদের নেতাকে ঘিরে বলয় তৈরি করে দৌঁড়িয়েছেন সারাক্ষণ।

অবশ্য এই সুদর্শন ও সুসজ্জিত দেহরক্ষীদের কেবল চোখ ধাঁধানোর জন্যই রাখা হয়েছে বলে ভাবলে ভুল হবে। উত্তর কোরিয়া তাদের নেতার নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো রকমের ঝুঁকি নিতেই রাজি নয়। কীভাবে এই রহস্যময় দেহরক্ষী দলের সদস্যদের বাছাই করা হয়, কীভাবে তারা কাজ করেন, তা ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাডেন।

আরো পড়ুন>>> বৈঠক প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে: ট্রাম্প

কিম জং উনের দেহরক্ষী দলকে ডাকা হয় সেন্ট্রাল পার্টি অফিস-সিক্স নামে। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম অবশ্য ভিন্ন। সরকারি কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয় ‘মেইন অফিস অ্যাডজুট্যান্টস’ বলে। কিমের একেবারে খুব কাছে তাকে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন তারা।
কোরিয়ান পিপলস আর্মির বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা হয় এই দল। কিমের শারীরিক উচ্চতা যতটুকু, দেহরক্ষী দলের সদস্যদের অন্তত ততটুকু উচ্চতার হতে হবে। তাদের দৃষ্টিশক্তি হতে হবে প্রখর, চোখে সমস্যা থাকলে চলবে না। সদস্য বাছাই করা হয় আরো অনেক ধরনের দক্ষতার ভিত্তিতে, যেমন মার্কসম্যানশিপ। কত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বন্দুকের গুলি চালিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারেন তারা। এর পাশাপাশি দেখা হয় মার্শাল আর্টে তাদের দক্ষতা।

আরো পড়ুন>>> বৈঠকের পর সেন্তোসা ছাড়লেন ট্রাম্প

দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার আগে তার পুরো পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোভাবে যাচাই করা হয়। দেহরক্ষীদের অনেকেই কিম জং উনের পরিবার বা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীনদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়।

দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার পর তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কোরিয়ান পিপলস আর্মির স্পেশ্যাল অপারেশন ফোর্সেসের সদস্যদের যে ধরনের প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এই দেহরক্ষীদেরও সেই একই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আরো পুড়ন>>> দুপুরে কী খেলেন ট্রাম্প-কিম?

কিম জং উনকে ঘিরে সাধারণত একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন দেহরক্ষীরা। যেসব লোকজন কিমের কাছাকাছি থাকেন, তাদের সারাক্ষণ নজরে রাখেন এরা। তিনি যখন গাড়িতে থাকেন, এরা আগে আগে ও পাশাপাশি দৌঁড়াতে থাকে। আর তার সঙ্গে থাকে চার থেকে ছয়জন দেহরক্ষী। এদের মধ্যে দেহরক্ষী দলের প্রধানও আছেন।

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের কাছাকাছি থাকা লোকজনের মধ্যে এই দেহরক্ষী দলের সদস্যরাই একমাত্র সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান বহন করতে পারে। দেহরক্ষীরা সাধারণত পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরেন। কিমের গাড়িচালক পরেন লিনেনের স্যুট ও হাতে থাকে চামড়ার দস্তানা।

আরো পড়ুন>>> যুদ্ধ বন্দিদের ফিরিয়ে নিতে ট্রাম্প ও কিম সম্মত

দেহরক্ষী দলের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক দুশো হতে তিনশো। সাধারণত একজন সদস্য দশ বছর পর্যন্ত কাজ করেন।

অবশ্য দেহরক্ষীদের দ্বিতীয় একটি দল আছে, যার নাম গার্ড কমান্ড। এরা কিমের চারপাশে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। সাধারণ কিম জং উন যখন কোনো জায়গায় যান, সেই জায়গাটিকে তার জন্য নিরাপদ করা তাদের কাজ। সেটা অফিস ভবন হতে পারে, কারো ব্যক্তিগত বাড়ি হতে পারে বা উত্তর কোরিয়া কিংবা দেশের বাইরে অন্য কোনো জায়গা হতে পারে।

আরো পড়ুন>>>  বৈঠক শেষে ট্রাম্প কিমের যৌথ চুক্তি, অজানা রহস্য

গার্ড কমান্ডের আরো অনেক কাজ আছে। কিম জং উনের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের যাবতীয় জিনিস বহন ও জোগানো তাদের কাজ। এদের বাছাই ও নিয়োগের ক্ষেত্রে দেহরক্ষীদের মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কিমের সাম্প্রতিক সফরের সময় দেখা গেছে, তার সঙ্গে উত্তর কোরিয়া থেকে তিনটি বিমান এসেছিল। সেখানে একটি বিমান ভর্তি ছিল এই গার্ড কমান্ডের লোকজন। এরা কিমের জন্য গোপন ও সুরক্ষিত টেলিফোন লাইনের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে তার কম্পিউটার ও আইটি সুবিধা জোগানো, সব কিছুই করে থাকে। সেই সঙ্গে কিমের জন্য পানীয়, খাবার, সিগারেট থেকে শুরু করে তার যা যা চাহিদা, সেগুলোও তাদের মেটাতে হয়। দলে থাকেন কিমের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও।

আরো পড়ুন>>> ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবো: ট্রাম্প

কিম পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে স্যুট পরে দৌঁড়ানো দেহরক্ষীদের তৎপরতাই হয়তো বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন যারা, তারা কিন্তু চোখের আড়ালেই থাকেন। -বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে