Exim Bank Ltd.
ঢাকা, রোববার ২১ অক্টোবর, ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫

‘পবিত্র আশুরা’

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
‘পবিত্র আশুরা’
ফাইল ছবি

আশুরার অর্থ দশ তারিখ। অর্থাৎ মহরমের আশুরা হলো চন্দ্র বছরের প্রথম মাস মহরমের দশম তারিখ।

মহান আল্লাহ তায়ালা ১২টি মাসের মধ্যে ৪টি মাসকে যথা: জিলক্দ, জিলহজ, মহরম, ও রজব মাসকে হারাম তথা সম্মানিত মাস করেছেন।

আশুরা শব্দটি শুনতেই সাধারণ মানুষের গা যেন শিউরে ওঠে, কারণ আশুরা বলতেই তাদের ধারণা কারবালা। আর কারবালার অর্থ নবী (সা.)-এর নাতি ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর স্বপরিবারে মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনা।

মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী:

‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর বিধানে মাস গণনায় বারটি। এর মধ্যে বিশেষ রুপে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত। এটাই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম। অতএব তোমরা এ মাসগুলোতে (ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করে) নিজেদের ক্ষতি সাধন করনা, আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সকলে একযোগে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সকলে একযোগে যুদ্ধ করে। আর জেনে রেখ যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সূরা: তাওবা, আয়াত: ৩৬)

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুয়ামর (রহ.) হতে আবদুল্লাহ ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, ‘জাহিলী যুগে লোকেরা আশূরার দিন সিয়াম পালন করত। রমজানের সিয়াম ফরজ হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণ এদিন সিয়াম পালন করেছেন। যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আশূরার দিন আল্লাহর দিনসমূহের একটি দিন। সুতরাং যার ইচ্ছা সে এ দিন সিয়াম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দেবে।’ (সহীহ মুসলিম (ইফা.), অধ্যায়: ১৪/ সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বর: ২৫১৩)

আশুরার ফজিলত:

পূর্বেই বলা হয়েছে হিজরি সালের ১২টি মাসের ৪টি হারাম (সম্মানিত) মাস। জিলকদ, জিলহজ, মহরম, ও রজব। প্রথম হারাম মাস মহরম ও শেষ হারাম মাস জিলহজ এবং মধ্যখানের হারাম মাস রজব।

আশুরার দিন নি:সন্দেহে একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দিন। এই দিন আমাদেরকে এক ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দ্বীন হেফাজতের উদ্দেশ্যে হিজরত ও হক প্রতিষ্ঠার জন্য এক মহান দিন। আর এই জন্যই দিনটিকে বিশেষ এক ইবাদত সিয়াম (রোজা)-এর সঙ্গে প্রতিটি মুসলিমের স্মরণ করা উচিত।

এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলের নাজাত ও 'ফেরাউন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ' এর ধ্বংস:

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল মুসা (আ.)-কে ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে এ দিনে নাজাত দেন এবং ফেরাউন ও তার সাঙ্গপাঙ্গকে বাহারে কালজুম তথা লোহিত সাগরে ডুবিয়ে হালাক-ধ্বংস করেন।

মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী:

‘এবং যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম, অত:পর তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম ও ফেরাআউনের স্বজনদেরকে নিমজ্জিত করেছিলাম এবং তোমরা তা প্রত্যক্ষ করেছিলে।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ৫০)

মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী:

‘আর আমি বানী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলাম, অত:পর ফেরাআউন তার সৈন্যদলসহ তাদের পশ্চাদানুসরণ করল যুলম ও নির্যাতনের উদ্দেশ্যে; এমনকি যখন সে নিমজ্জিত হতে লাগল তখন বলতে লাগল: আমি ঈমান এনেছি বানী ইসরাঈল যার ওপর ঈমান এনেছে, তিনি ছাড়া অন্য মাবূদ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি।

এখন ঈমান আনছ? অথচ পূর্ব (মুহুর্ত) পর্যন্ত তুমি নাফরমানী করছিলে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

অতএব আমি আজ তোমার লাশকে উদ্ধার করব, যেন তুমি তোমার পরবর্তী লোকদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপকরণ হয়ে থাক; আর প্রকৃত পক্ষে অনেক লোক আমার উপদেশাবলী হতে উদাসীন রয়েছে।’ (সূরা ইউনুসঃ আয়াত- ৯০-৯২)

ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশূরার দিনে সাওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আ.) সাওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন।’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়: ৩০/ সাওম/রোজা, হাদিস নম্বর: ২০০৪; আধুনিক প্রকাশনী: ১৮৬৩, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ১৮৭৫)

ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আশূরার দিনের সাওমের ওপরে অন্য কোনো দিনের সাওমকে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রমজান মাস (এর ওপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি)।’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়: ৩০/ সাওম/রোজা, হাদিস নম্বর: ২০০৬) (মুসলিম ১৩/১৯, হা: ১১৩২) (আধুনিক প্রকাশনী: ১৮৬৫, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ১৮৭৭)

এই দিনের রোজা রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে ফরজ ছিল:

আয়িশাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ‘আশূরার সাওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ সাওম পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় আগমন করেন তখনও এ সাওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমজানের সাওম ফরজ করা হলো তখন আশূরার সাওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়: ৩০/ সাওম/রোজা, হাদিস নম্বর: ২০০২; আধুনিক প্রকাশনী: ১৮৬১, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ১৮৭৩)

আশুরার রোজার মর্যাদা:

যুহায়র ইবনু হারব (র.) হতে আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ সালাতসমূহের পর কোন সালাত এবং রমজান মাসের সিয়ামের পর কোন সাওম (রোজা/সিয়াম) সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ফরজ সালাতসমূহের পর গভীর রাতের সালাত সর্বোত্তম এবং রমজান মাসের সিয়ামের পর আল্লাহর মাস মহরমের সাওম (রোজা/ সিয়াম) সর্বোত্তম।’ (সহীহ মুসলিম (ইফা:), অধ্যায়: ১৪/ সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বর: ২৬২৭)

এ দিনের রোজা গত এক বছরের পাপকে (সগিরা গুনাহ বা ছোট পাপ) মিটিয়ে দেয়:

আবু কতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করছি যে, তিনি বিগত এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহীহ মুসলিম হাদিস নং: ১৯৭৬)

আশুরার রোজা রাখার নিয়ম:

আশুরার রোজা হলো মহরম মাসের দশম তারিখে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নবম তারিখেও রোজা রাখা সুন্নত; যাতে করে ইহুদি-খ্রীষ্টানদের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকে। আর ইহাই হলো সর্বোত্তম যা সাহাবা কেরাম নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর করতেন।

হাসান ইবনু আলী দাওয়ানী (র.) হতে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশূরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পাননের নির্দেশ দেন তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহূদী এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। কিন্তু পরের বছর আশুরা আসার পূর্বেই রাসূলাল্লাহ (সা.) মৃত্যুবরণ করেন।’ (মুসলিম হাদিস নং: ১৯১৬) (সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/ সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৩)

কতিপয় বিষয়:

> উপরোক্ত হাদিসগুলো প্রমাণ করে আশুরার রোজা হাসান (রা.) বা হুসাইন (রা.) এর মৃত্যু উপলক্ষে নয়। বরং এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত এবং এই রোজা মুসা (আ.) থেকে প্রাপ্ত।

> যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা রেখেছেন তখন হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) জীবিত ছিলেন।

> ইসলামে জন্মদিবস ও মৃত্যুদিবস পালন নিষিদ্ধ।

> অনেকেই এই কথা বলে থাকেন যে- 'হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) ইসলামের জন্যে শাহাদাত বরণ করেছেন; তাই আমরা আশুরার দিনে শোক পালন করি।’

সমগ্র মুসলিম জাতি হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) মৃত্যুতে মর্মাহত। কিন্তু পূর্বেই বলা হয়েছে ইসলামে জন্মদিবস ও মৃত্যুদিবস পালন নিষিদ্ধ। আবার ইসলামের ইতিহাসে মুহম্মদ (সা.)-এর পরেই যে চারজন খালিফার স্থান রয়েছে তাদের মধ্যে হজরত ওমর (রা.), হজরত ওসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.) এরা তিনজনেই ইসলামের জন্যে শাহাদাত বরণ করেছেন। তাদের জন্যে তো শোক দিবস পালন করা হয় না। কারণ ইসলামে জন্মদিবস ও মৃত্যুদিবস পালন নিষিদ্ধ।

মহান আল্লাহ তায়ালা, মুহম্মদ (সা.) এর মাধ্যমে দ্বীন-ই- ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তারপরে ইসলামের মধ্যে নতুন কোনো কিছুই আসতে পারেনা। যদি মুহম্মদ (সা.) এর দেওয়া নির্দেশের বাইরে নতুন কোনো বিধি-বিধান বা ইবাদত ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করে তবে তা ইসলামের অঙ্গ হিসাবে গ্রহণ করা যাবেনা।

আবূ জাফর মুহম্মদ ইবনু সাব্বাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আওন হিলালী (রহ.) হতে আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মীয় ব্যাপারে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য। (সহীহ মুসলিম (ইফা:), অধ্যায়: ৩১/ বিচার বিধান, হাদিস নম্বর: ৪৩৪৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বলেতেন:

‘আমি প্রেরিত হয়েছি এমন অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত এ দুটির ন্যায় এবং মধ্যম অংগুলী ও শাহাদাত অংগুলী মিলিয়ে দেখাতেন। বলতেন, উত্তম বাণী হলো আল্লাহ তায়ালার কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিদায়াত। নিকৃষ্ট বিষয় হলো বিদআত (দ্বীনে নতুন আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ।) সকল বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।’ (সহীহ মুসলিম (ইফা:), অধ্যায়: ৮/ জুমা, হাদিস নম্বর: ১৮৭৮ )

তাহলে প্রশ্ন হলো মুহম্মদ (সা.) কি হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) মৃত্যু উপলক্ষে আশুরার দিন শোক পালন করতেন? উত্তর অবশ্যই 'না'। কারণ মুহম্মদ (সা.) মৃত্যু ১১ হিজরীতে অর্থাৎ ৬৩২ ঈশাইতে। আর হাসান (রা.)-এর মৃত্যু ৫০ হিজরীতে ৬৭০ অর্থাৎ ঈশাইতে এবং হুসাইন (রা.)-এর মৃত্যু ৬১ হিজরীতে অর্থাৎ ৬৮০ ঈশাইতে। অর্থাৎ কিনা মুহম্মদ (সা.) এর মৃত্যুর প্রায় ৩৯ বছর পর হাসান (রা.) এর মৃত্যু হয় এবং ৫০ বছর পর হুসাইন (রা.) এর মৃত্যু হয়।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) মৃত্যু উপলক্ষে আশুরার দিন শোক পালন ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটি ইসলাম বহির্ভুত বিষয়।

মহরম মাসের এই বিদআত অনেক সময় শিরকের রুপ নেয়। কিছু লোকদের বলতে দেখা যায় 'ইয়া আলী', 'ইয়া হুসেইন'। অর্থাৎ আলী বা হুসেইনের কাছে দোয়া (প্রার্থনা) করে। অথচ হাদীসে এসেছে ‘দোয়া হলো ইবাদত।’ (সুনানে আবু দাউদ-১৪৬৫)

আর এই ব্যাপারটা আমাদের সকলের বোঝা উচিত যে ইবাদত কেবল মাত্র মহান আল্লাহর জন্য, অন্য কারো জন্য নয়। আর দোয়া যখন ইবাদত তখন দোয়াও কেবল মাত্র মহান আল্লাহর জন্য, অন্য কারো জন্য নয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বল: তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও অথবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোনো অংশীদারীত্ব আছে কি? পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোনো জ্ঞান থাকলে তা তোমরা আমার নিকট উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামাতের দিন পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিবেনা? এবং তারা তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধে অবহিত নয়।

যখন কিয়ামাত দিবসে মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন তারা হবে তাদের শত্রু, তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।’ (সূরা: আহ্কাফ, আয়াত: ৪,৫,৬)

আর মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা শিরক। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন:

ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺃَﻥ ﻳُﺸْﺮَﻙَ ﺑِﻪِۦ ﻭَﻳَﻐْﻔِﺮُ ﻣَﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺫٰﻟِﻚَ ﻟِﻤَﻦ ﻳَﺸَﺎٓﺀُ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺪْ ﺿَﻞَّ ﺿَﻠٰﻠًۢﺎ ﺑَﻌِﻴﺪًﺍ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশী স্থাপনকারীকে ক্ষমা করেননা এবং এতদ্ব্যতীত তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন; এবং যে আল্লাহর সঙ্গে অংশী স্থাপন করে সে নিশ্চয়ই চরমভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ১১৬)

সুতরাং আমাদের উচিত ইসলামী তরীকায়, মুহম্মদ (সা.) এর সুন্নত হিসাবে আশুরার দিনটি পালন করা। আর ইনশাল্লাহ তায়ালা এই দিনটি আমরা মুহম্মদ (সা.) এর সুন্নত হিসাবেই পালন করব।

মহান আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে শির্ক, বিদাত সমূহ দূরিভূত করার তৌফিক দান করুন। কেবল মাত্র মুহম্মদ (সা.) এর প্রদর্শিত পথেই আমল করার তৌফিক দান করুন।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ‘সীরাতে মুস্তাকিম’ (সরল পথ) প্রদর্শন করুন। পরকালে জান্নাতুল ফিরদৌস প্রদান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

আরো পড়ুন>>> মহরম: তথ্যবহুল ঐতিহাসিক ঘটনার মাস

আরো পড়ুন>>> হিজরি সনের ইতিহাস

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
আজো হিমঘরে সন্তানের প্রতীক্ষায় ‘বাবা’!
আজো হিমঘরে সন্তানের প্রতীক্ষায় ‘বাবা’!
আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন
আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন
দুই স্বামীকে ‘ছেড়ে’ মন্ট্রিলে দেখা মিলল তিন্নির!
দুই স্বামীকে ‘ছেড়ে’ মন্ট্রিলে দেখা মিলল তিন্নির!
‘তিন ভাই’ একসঙ্গে আমাকে ধর্ষণ করেছিল’
‘তিন ভাই’ একসঙ্গে আমাকে ধর্ষণ করেছিল’
না ফেরার দেশে সালমানের ‘শেষ প্রেমিকা’
না ফেরার দেশে সালমানের ‘শেষ প্রেমিকা’
যেভাবে প্রথম বুবলীর ‘ভাই’
যেভাবে প্রথম বুবলীর ‘ভাই’
স্ত্রী ফিরে দেখে বাসায় অন্য নারী!
স্ত্রী ফিরে দেখে বাসায় অন্য নারী!
‘ওয়েব সিরিজে ভরপুর নগ্নতা’ দেখার কেউ নেই!
‘ওয়েব সিরিজে ভরপুর নগ্নতা’ দেখার কেউ নেই!
প্রেমিকের কবরে কনের সাজে প্রেমিকার কান্না
প্রেমিকের কবরে কনের সাজে প্রেমিকার কান্না
দাম শুনলে চমকে যাবেন যে কেউই!
দাম শুনলে চমকে যাবেন যে কেউই!
মৃত্যুর আগে কোথায় ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু?
মৃত্যুর আগে কোথায় ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু?
অনেকেই সাবান জমান কেউ গোসলই করেন না!
অনেকেই সাবান জমান কেউ গোসলই করেন না!
এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির, প্রার্থনায় নেই বিবাদ
এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির, প্রার্থনায় নেই বিবাদ
দুলাভাইয়ের কাছে শ্যালিকার আবদার!
দুলাভাইয়ের কাছে শ্যালিকার আবদার!
বন্ধুর ‘অকাল প্রয়াণে’ যা বললেন হাসান
বন্ধুর ‘অকাল প্রয়াণে’ যা বললেন হাসান
‘বেঁচে আছেন বাচ্চু?’ এ কী শোনালেন!
‘বেঁচে আছেন বাচ্চু?’ এ কী শোনালেন!
১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অনন্ত
১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অনন্ত
এবার মেয়েকে নিয়ে মারাত্মক কথা বললেন ঐশ্বরিয়া!
এবার মেয়েকে নিয়ে মারাত্মক কথা বললেন ঐশ্বরিয়া!
মিলনেই মৃত্যু, কারা ছিলো সেই ‘বিষকন্যা’?
মিলনেই মৃত্যু, কারা ছিলো সেই ‘বিষকন্যা’?
বাপ-বেটা-শ্বশুর বিকল্পধারা থে‌কে ব‌হিষ্কার
বাপ-বেটা-শ্বশুর বিকল্পধারা থে‌কে ব‌হিষ্কার
শিরোনাম:
মিরপুরে জিম্বাবুুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা মিরপুরে জিম্বাবুুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা পাবনায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত পাবনায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন বিকেলে শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন বিকেলে শুরু হচ্ছে