Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২০ জুন, ২০১৮
Advertisement

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারে অবহেলা নয়

 নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩২, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আপডেট: ১৫:৪৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

২৯৫৩ বার পঠিত

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

এটা কৈশরের একটি মানসিক রোগ। সাধারণত ১৫ বৎসর বা তার চেয়ে কম বয়সের কিশোর-কিশোরীরা এতে আক্রান্ত হয়। জনগোষ্ঠীর শতকরা প্রায় ১ ভাগ এই মানসিক রোগে আক্রান্ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলেদের হয়, তবে মেয়েদেরও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের কারণ:

এ রোগের আসল কারণ এখানো অজানা।

১. জেনেটিক- বংশগত মানসিক রোগের প্রভাব কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটে।

২. পরিবেশগত- অস্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ, দাম্পত্য কলহ, শিশু-কিশোরের ওপর বাবা-মার বা অন্য অভিভাবকের শারীরিক, মানসিক নির্যাতন। মেয়ে শিশু কিশোরীদের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা অন্য কারো দ্বারা যৌন নির্যাতন; যা পরবর্তীতে মানসিক রোগের কারণ হয়। নেশাগ্রস্ত পিতার অস্বাভাবিক আচরণ কিশোরদের মনের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলে।

৩. উগ্র আচরণ প্রত্যক্ষণ- শিশু যা দেখে তা শিখে। এটাকে বলে Observation Learning পারিবারিক পরিবেশ অস্বাভাবিক হলে এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।

৪. প্রযুক্তির অপব্যবহার- টিভি বা ইন্টারনেটে কার্টুনের এ আক্রমণাত্মক দৃশ্য বার বার দেখা।

৫. আর্থসামাজিক মূল্যবোধ- ভালবাসার অভাব, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত অংশের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়।

৬. অন্যান্য সমস্যা- অবৈধ যৌনাচারে জড়িয়ে পড়া, Pornographs এ আসক্তি।


কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলো:

১. অপরাধ প্রবণতা- অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া, অবাধ্যতা, বাবা-মা, শিক্ষকসহ অভিভাবকের কোনো কথা না শোনা, কোনো কারণ ছাড়াই হট্টগোল করা।

২. হিংস্র আচরণ- মানুষ এমনকি পশু-পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, কোনো অপরাধ বোধ কাজ না করা, সবসময় মিথ্যা কথা বলা, চুরি করা, রাতে বাড়ির বাইরে অবস্থান (অভিভাবককে না জানিয়ে), জিনিসপত্র-সম্পদ ধ্বংস করা, কথার মাধ্যমে অন্যদেরও উত্যক্ত করা, অন্য কৌশলেও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা: দীর্ঘমেয়াদী

সাইকোথেরাপি মূল চিকিৎসা (বাবা-মাকে লালন পালনের গাইডলাইন দেয়া), বাচ্চা কথা শুনলে তাকে পুরস্কৃত করুন, কথা না শুনলে তাকে বঞ্চিত করুন, সুবিধা কমিয়ে দিন, শারীরিক নির্যাতন না করে মানসিক চাপ অব্যাহত রাখুন।

রাগ নিয়ন্ত্রণ: এর জন্য কাউন্সেলিং করুন।

আবাসিক সুবিধা:

আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হতে পারে। যেখানে পড়াশোনায় কড়াকড়ি বা চাপ বেশি থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের একটা সুশৃঙ্খল জীবনের মধ্যে নিতে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ঔষধ- উগ্র আচরণ অথবা অনাকাঙ্খিত আচরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঔষধ লাগে। সাইকিয়াট্রিস্ট্রের তত্ত্বাবধানে ঔষধ খাওয়াতে হবে। অনাড়ী দিয়ে বা নিজে নিজে ডাক্তারি করতে যাবেন না, বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ফলোআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের পরিণতি:

চিকিৎসা না করালে অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব (Anti-Social Personalities Disorder) হতে পারে। নেশায় জড়িয়ে পড়তে পারে। বিষণ্নতা বা অন্য কোনো মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে। মানসিক সমস্যাকে অবহেলা করবেন না। অবহেলার কারণে সন্তানের জীবন বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মো. হারুনুর রশীদ- এমবিবিএস, এমফিল, এমসিপিএস, এফসিপিএস (সাইকিয়াট্রি),

সহকারী অধ্যাপক ডেল্টা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

যোগাযোগ:

মনোভুবন সেন্টার
বাড়ি নং- ২/৫, রোড নং-৫ (ব্লক-এ)
নীচ তলা, লালমাটিয়া (পানির ট্যাংকের পূর্ব পাশে)
ফোন: ০২-৫৮১৫২৫১৮, ০১৭৫৯-৯১১৬১১ (ডাক্তার)
চেম্বার খোলা: বিকাল ৫টা- রাত ৯টা

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই/এমএম

সর্বাধিক পঠিত