.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

কবুতরখালীতে সবচেয়ে বড় দুর্গা পূজার আয়োজন

 প্রকাশিত: ১১:৩৪ ৩ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১১:৩৪ ৩ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির রাজ মন্দিরে এবার ১৫৭ প্রতীমার দূর্গা পূজার আয়োজন চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দূর্গা পূজা শুরু হচ্ছে। এখানে টানা পাঁচদিন দূর্গা উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির রাজ মন্দিরে এবার ১৫৭টি দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। এ মণ্ডপে দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে চার হাজার বছরের পুরানো পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবছর দুর্গোৎসবে হালদার বাড়ি ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ তৈরি করে থাকে। গত বছর ৪৭টি প্রতিমায় পূজার আয়োজন করা হলেও এবছর এখানে ১৫৭টি প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। হালদার বাড়ির দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির দাবি এটি পিরোজপুর জেলার সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপ।

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দুর্গা পূজা শুরু হচ্ছে। এখানে টানা পাঁচদিন দূর্গা উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। (১৫ অক্টোবর) সোমবার ষষ্ঠী পূজা অর্থাৎ বেলগাছের নিচে বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার স্বর্গ থেকে মর্তলোকে আর্বিভাব ঘটবে। মঙ্গলবার নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাবউকে মণ্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার মহা অষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী পূজার মধ্য দিয়ে দেবীকে আরাধনা। শুক্রবার দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে চার দিনব্যাপী দূর্গা উৎসব শেষ হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ মণ্ডপে পূজার বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে বিভিন্ন দেবী দূর্গাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সারিতে মূল প্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতীমা। প্রতীমার কারিগরগণ তাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়া আর রং-তুলিতে অপরূপ সাজে প্রতিমা সাজাতে এখন মহা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রং তুলির সাজসজ্জার কাজের পাশাপাশি অলংকার পরানো হচ্ছে এসব প্রতিমার গায়ে। ১৫৭টি প্রতীমা এখন নানা বর্ণে বর্ণিল হয়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এখানে মানুষ প্রতীমা দর্শনে আসছেন।

এ রাজ মন্দিরের পুজা মণ্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো মণ্ডপে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতের কাহিনী। এখানে সর্বমোট ১৫৭টি প্রতিমার মধ্যে শিবের বিবাহ, দোযজ্ঞ, হনুমান, দশানন রাবন, রাধাকৃ, মা-যশোদা ও শ্রী কৃঞ্চ,লক্ষ্মী নারায়ণসহ কলিযুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে চলছে নানা কারুকাজ।

এ মণ্ডপে প্রতিমার কারিগর খুলনা কয়রা উপজেলার শংকর পাল বলেন,মণ্ডপে ১৫৭টি প্রতিমা তিনি এবারই প্রথম নির্মাণ করেছেন। ১০ জন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে দুই মাসের টানা পরিশ্রমে দেব-দেবীর ১৫৭টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। নানা রঙে আর নানাভাবে প্রতিমা সাজানো হয়েছে।

হালদার বাড়ির দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রধান আয়োজক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী শৈলেশ্বর হালদার বলেন,বর্তমানে এটি এ অঞ্চলে বৃহৎ দুর্গা মণ্ডপ। এলাকার লোক এভাবে ধর্মীয় সংস্কৃতি উপভোগ করার সুযোগ কম পায়। আমাদের এখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষসহ উৎসবে সমবেত হবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম