Exim Bank
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ মে, ২০১৮
iftar

আইপিএলের দ্রুততম যত ফিফটি

 সঞ্জয় বসাক পার্থ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৫, ৯ এপ্রিল ২০১৮

আপডেট: ১৮:০৭, ৯ এপ্রিল ২০১৮

৬৭৯ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গতকাল একই দিনে দুইটি ঝোড়ো ফিফটি দেখেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)।

বিকালে লোকেশ রাহুলের রেকর্ড ভাঙা ইনিংসের পর রাতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন কলকাতার সুনীল নারাইনও।

২০ বলের কমে করা আইপিএলের দ্রুততম ফিফটিগুলো নিয়েই আজকের আয়োজন।



লোকেশ রাহুল; ১৪ বল; কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম দিল্লী ডেয়ারডেভিলস; ২০১৮: গত মৌসুমেও খেলেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে, এইবার দল বদলে এসেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে।

নতুন দলের হয় প্রথম ম্যাচটাই লোকেশ রাহুল রাঙিয়ে রাখলেন রেকর্ড গড়া ফিফটিতে। আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটা নতুন করে লিখেছেন ভারতীয় জাতীয় দলের এই ওপেনার।

দিল্লী ডেয়ারডেভিলস বোলারদের তুলোধুনো করে মাত্র ১৪ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি, দলকেও জিতিয়েছেন ম্যাচ।

ট্রেন্ট বোল্টের বলে টপ এজে ছয় মেরে শুরু, এরপর আর কোনো থামাথামি নেই।

এরপর মোহাম্মদ শামির প্রথম ওভারে কভার ড্রাইভ ও পুলের বন্যা বসিয়ে দিলেন। নয় বলে যখন ২৭ রানে দাঁড়িয়ে, তখনো রেকর্ড করতে পারেন বলে মনে হচ্ছিল না। কিন্তু অমিত মিশ্র’র এক ওভার থেকেই ২৪ রান নিয়ে রেকর্ড ভেঙে দেন রাহুল।

সুনীল নারাইন; ১৫ বল; কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু; ২০১৭: গত মৌসুম থেকে যেন ব্যাটসম্যান সুনীল নারাইনকে নতুন করে চিনেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ওপেনিংয়ে নেমে পিঞ্চ হিটিংয়ে নিয়মিতই ঝোড়ো শুরু এনে দিয়েছেন দলকে।

রাহুল ভেঙে দেয়ার আগে পর্যন্ত আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটা যুগ্মভাবে ছিল নারাইনেরই। গত মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ফিফটি করেছিলেন ১৫ বলে।

১৫৯ তাড়া করতে নেমে নারাইন ও লিন যেন ১০ ওভারের মধ্যেই খেলা শেষ করার টার্গেট নিয়ে নেমেছিলেন!

শ্রীনাথ অরবিন্দকে টানা তিন চার মারার পর স্বদেশী স্যামুয়েল বদ্রিকে মেরেছিলেন টানা ৩ ছয়।

অরবিন্দকে ছয় মেরেই আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে ইউসুফ পাঠানের পাশে বসেছিলেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান।

ইউসুফ পাঠান; ১৫ বল; কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ; ২০১৪: প্রথম মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে যেই বিধ্বংসী পাঠানকে পাওয়া গিয়েছিল, কলকাতায় এসে সেই পাঠানই যেন কেমন নিষ্প্রভ হয়ে গিয়েছিলেন।

মাঝে একটানা রান খড়ায় ভুগেছেন, কলকাতা তার উপর আস্থা হারায়নি তারপরেও। শেষ পর্যন্ত সেই আস্থার প্রতিদান পাঠান দেন ২০১৪ আসরে সানরাইজার্সের বিপক্ষে আইপিএলের দ্রুততম ফিফটি করে।

কলকাতার শেষ লীগ ম্যাচ ছিল সেটি, পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থেকে লীগ পর্ব শেষ করার জন্য ১৫.২ ওভারের মধ্যে ১৬১ রান তাড়া করে জিততে হতো কলকাতাকে।

ইনিংসের শুরুতে দুইবার জীবন পাওয়া পাঠান সুযোগটা কাজে লাগালেন ষোল আনা, ডেল স্টেইনের এক ওভার থেকেই নেন ২৬ রান। কলকাতাও জয় পায় ১৪.২ ওভারেই।



সুরেশ রায়না; ১৬ বল, চেন্নাই সুপার কিংস বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব; ২০১৪: আইপিএল ইতিহাসের সেরা ইনিংসের তালিকা করতে গেলে রায়নার এই ইনিংসটি অবশ্যই থাকবে। স্ট্রোক মেকিংয়ের অনন্য পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি সেদিন।

ফাইনালে ওঠার শেষ লড়াইয়ে পাঞ্জাবের মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই। মুম্বাইয়ে বীরেন্দর শেবাগের সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করে পাঞ্জাব তুলেছিল ২২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ।

জবাব দিতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা খোলার আগে ফেরত যান ফ্যাফ ডু প্লেসি। এরপর উইকেটে এসেই তাণ্ডবলীলা চালানো শুরু করেন রায়না।

কতটা বিধ্বংসী ছিলেন সেদিন রায়না, তা বোঝাতে একটি ছোট্ট তথ্যই যথেষ্ট। রান আউট হয়ে ফেরার আগে ৮৭ রান করেছিলেন রায়না, তার মধ্যে ৮৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে!

মেরেছিলেন ১২ টি চার ও ৬ টি ছয়, স্ট্রাইক রেট ৩৪৮! ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন মাত্র ১৬ বলে। ৭ম ওভারেই রান আউট না হয়ে গেলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও হয়তো সেদিন করে ফেলতেন রায়নাই।

রায়নার তাণ্ডবে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ডটাও সেদিন করেছিল চেন্নাই। ম্যাচটা চেন্নাই জিততে পারেনি ঠিকই, কিন্তু রায়নার ইনিংসটি জায়গা করে নিয়েছে আইপিএলের সেরা ইনিংসগুলোর তালিকায়।

ক্রিস গেইল; ১৭ বল; রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু বনাম পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া; ২০১৩: তালিকায় একমাত্র এই ইনিংসটিই ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পরিণত হয়েছিল। ১৭ বলে ফিফটি করার পরে মাত্র ৩০ বলে পূর্ণ করেছিলেন সেঞ্চুরি, যা এখনো টি-২০ ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরি হয়ে আছে।

৬৬ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটি টি-২০ ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরও।



অ্যাডাম গিলক্রিস্ট; ১৭ বল; ডেকান চার্জার্স বনাম দিল্লী ডেয়ারডেভিলস; ২০০৯: আইপিএলের দুই বছরের ইতিহাসে গিলক্রিস্টের ইনিংসটি ছিল দ্রুততম ফিফটি। ২০০৯ আইপিলের প্রথম সেমিফাইনালে দিল্লী বোলারদের বেদম পিটিয়ে ফিফটি করেছিলেন ১৭ বলে।

ডার্ক ন্যানেসের প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি মেরেছিলেন পাঁচটি।

ক্রিস মরিস; ১৭ বল; দিল্লী ডেয়ারডেভিলস বনাম গুজরাট লায়ন্স; ২০১৬: ১৭৩ তাড়া করতে নেমে ৫৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লী। এরপরই ম্যাচে মরিস রোমাঞ্চ। মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১৭ বলের ৭ টিতেই ছয় মেরে ফিফটি তুলে নেন সাউথ আফ্রিকান অলরাউন্ডার।

উত্তেজনাকর ম্যাচটি অবশ্য দিল্লী হেরে যায় ১ রানে।

সুনীল নারাইন; ১৭ বল; কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু; ২০১৮: গতকাল রাতে তালিকায় দ্বিতীয়বারের মত নিজের নাম উঠিয়েছেন নারাইন, কাকতালীয়ভাবে এবারও সেই ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষেই।

১৭৭ তাড়া করতে নেমে দলকে বিধ্বংসী সূচনা এনে দেন নারাইন।

ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি নারাইনকে বশে রাখার জন্য বল দিয়েছিলেন মূল দুই স্পিনার চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে।

কোহলির সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত করে দুজনকেই মাঠের বাইরে আছড়ে ফেলেছেন নারাইন। সাবেক কলকাতা সতীর্থ উমেশ যাদবের বলে আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করে গেছেন ১৭ বলেই।



কায়রন পোলার্ড; ১৭ বল; মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স; ২০১৬: ১৭৫ তাড়া করতে নেমে যখন উইকেটে এলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের তখনো দরকার ৪২ বলে ৬৯ রান।

সমীকরণটাকে আরও সহজ বানিয়ে দিলেন কায়রন পোলার্ড, অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিত শর্মা শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পোলার্ড শো উপভোগ করলেন।

মাত্র দুই চার ও ছয় ছক্কায় ১৭ বলে ৫১ রান করে মুম্বাইকে জিতিয়ে দেন ২ ওভার বাকি থাকতেই।

ক্রিস লিন; ১৯ বল; কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাট লায়ন্স; ২০১৭: বিগ ব্যাশের ফর্ম আইপিএলেও টেনে এনেছিলেন ক্রিস লিন, টুর্নামেন্টের মাত্র ৩য় ম্যাচেই ৪১ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ইনিংসটি খেলার পথে ফিফটি ছুঁয়েছিলেন ১৯ বলে।

ইনিংসে আটটি ছয় মেরেছিলেন, পঞ্চাশ ছোঁওয়ার আগেই মেরেছিলেন পাঁচটি। লিন ও গৌতম গম্ভীর মিলে কোন উইকেট না হারিয়েই তাড়া করে ফেলেছিলেন ১৮৪ রান, আইপিএলে যা রেকর্ড।

ডেভিড মিলার; ১৯ বল; কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম রাজস্থান রয়্যালস, ২০১৪: শারজায় ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১৯২ তাড়া করতে নেমেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। শুরুটা করেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ৪৫ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে।

ডেভিড মিলার যখন উইকেটে এলেন, পাঞ্জাবের তখনো দরকার ৩৭ বলে ৬৬ রান। পাঞ্জাব সেটি করে ফেলল ৮ বল হাতে রেখেই, মিলারের ঝোড়ো ইনিংসের কল্যাণে।

কোন চার মারেননি, ছয় মেরেছিলেন ৬ টি। এর মধ্যে ধবল কুলকার্নির শেষ ওভারেই মেরেছিলেন ৪ টি।

রবিন উথাপ্পা; ১৯ বল; রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব; ২০১০: ব্যাঙ্গালোরে গেইল-ডি ভিলিয়ার্স যুগের শুরু হয়নি তখনো। ২০৪ তাড়া করতে নেমে জ্যাক ক্যালিস ও মনীষ পান্ডে মিলে ৮ ওভারেই তুলে ফেলেছিলেন ৭৪ রান।

পান্ডের আউটের পর উইকেটে এসে ঝড় তোলেন উথাপ্পা, ৪ টি করে চার ছয়ে ১৯ বলে করেছিলেন ফিফটি।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শ্রীশান্ত ও পিয়ুশ চাওলাকে বেধড়ক মেরেছিলেন উথাপ্পা।

আন্দ্রে রাসেল; ১৯ বল; কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব; ২০১৫: আগের ১০ ম্যাচের ৮ টিতেই হেরেছে, এই ম্যাচে পাঞ্জাব তাই খুব করেই চাইছিল জয়টা। পাঞ্জাবের জয়ের আশায় পানি ঢেলে দেন রাসেল।

১৮৩ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে ১১ ওভারের মধ্যে কলকাতার টপ অর্ডারকে ফিরিয়ে দিয়েছিল পাঞ্জাব।

কিন্তু ক্রিজে এসে ৫ চার ও ৪ ছয়ে ৫১ রান করে রাসেল যখন ফিরছেন, কলকাতার তখন দরকার ১৯ বলে মাত্র ২৫ রান। চাওলার সুবাদে ১ উইকেটের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল কলকাতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত