ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বিশ্বকাপের সব গোল্ডেন বল জয়ীরা

মেহেদী হাসান শান্ত

 প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ১৬ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৪:৩০ ১৭ জুলাই ২০১৮

ইতিহাসে যারা গোল্ডেন বল পেয়েছিল

ইতিহাসে যারা গোল্ডেন বল পেয়েছিল

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটির নাম গোল্ডেন বল। টানা ১ মাস মাঠের লড়াইয়ে যে খেলোয়াড়টি তাঁর নৈপুণ্য দিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যান, তিনিই পান গোল্ডেন বল। এবারের বিশ্বকাপে যেমন এটি পেয়েছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মড্রিচ। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল দেয়ার রীতির প্রচলন হয় ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে। তখন থেকে লুকা মড্রিচের আগ পর্যন্ত মোট ৯ জন ফুটবলার পেয়েছেন এ পুরস্কারটি। তাদের কথা থাকছে আজ।

১। পাওলো রসি - ইতালি ( ১৯৮২ )

১৯৮২ বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম চালু হওয়া গোল্ডেন বল পান ইতালিয়ান স্ট্রাইকার পাওলো রসি। ওই বিশ্বকাপে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন শু'ও লাভ করেন। দলের পক্ষে ওই বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ৬ টি গোল করেন রসি। পোল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে করেন জোড়া গোল। ফাইনালের প্রথম গোলটিও তাঁর। আর সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তো ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যট্রিকই পেয়ে যান এই ইতালিয়ান গ্রেট !

২। ডিয়েগো ম্যারাডোনা - আর্জেন্টিনা (১৯৮৬)

১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে মেক্সিকো। পুরো পৃথিবী বিশ্বকাপের এ আসরকে মনে রাখবে 'ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ'হিসেবে। সেমিফাইনালে বেলজিয়াম ও কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে করা জর্জ বুরুগুচার গোলটিও বানিয়ে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনাই। কিন্তু বিশ্বাসীর কাছে হয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা গোল দুইটিই সবচেয়ে স্মরণীয়। হাত দিয়ে করা তাঁর অতি সমালোচিত 'হ্যান্ড অফ গড'আর তার পরপরই ৬০ গজ ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের ৯ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা তাঁর শতাব্দীর সেরা গোল; দুটিই যে এসেছিলো সেই ম্যাচে!

৩। সালভাতোর শিলাচি- ইতালি (১৯৯০)

তখনকার ইতালি দলে রবারতো মানচিনি, রবারতো বাগিও, জিয়ানলুকা ভিয়াল্লির মতো স্ট্রাইকারদের ভীড়ে বিশ্বকাপের আগে একরকম ঢাকাই পড়ে ছিলেন শিলাচি। কিন্তু প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই বাঘা বাঘা স্ট্রাইকাররা কিছুতেই ডেডলক ভাঙতে না পারায় মাঠে ডাক পড়ে তাঁর। পরেরটুকু ইতিহাস। ওই ম্যাচের একমাত্র গোল করে ইতালিকে জিতিয়ে দেন। সর্বমোট ৬ গোল করে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লোথার ম্যাথিউস এর থেকে ছিনিয়ে নেন গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন শ্যু দুটোই। তবে বিশ্বকাপ জিতে শেষ হাসিটা হেসেছিলেন কিন্তু ম্যাথিউসই!

৪। রোমারিও- ব্রাজিল (১৯৯৪)

রোমারিওকে বলা হয় পেনাল্টি এরিয়ার জিনিয়াস। অসাধারণ সব টেকনিক দিয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন সবাইকে। ১৯৯৪ এ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। ৩০ গোল করে বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছিলেন লা লিগা টাইটেল। ব্রাজিল ধুঁকছিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। উরুগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের দেশকে একাই নিয়ে যান বিশ্বকাপের মঞ্চে। বিশ্বকাপের মূল পর্বেও ৫ গোল করে দীর্ঘ ২৪ বছর পর ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দেন।

৫। রোনালদো - ব্রাজিল (১৯৯৮)

রোমারিওর পর আরও একজন ব্রাজিলিয়ান। রোনালদোকে শুধুমাত্র একজন স্ট্রাইকার বলে বিশেষায়িত করা যাবে না আসলে। তিনি ফুটবল নিয়ে ছুটলে মনে হত মাঠে অন্য রকমের একটা মূর্ছনা ঘুরে ফিরছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে চারদিকে শুধু একটিই নাম - রোনালদো ! কিন্তু কোচ প্রথম একাদশের জন্য প্রথমে তাঁকে বিবেচনাতেই রাখেন নি ! পরে আবার ম্যাচ শেষের ৪৫ মিনিট আগে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতসব নাটকের পর ফাইনালে আর জ্বলে ওঠা হয়নি রোনালদোর। ব্রাজিলও হেরে যায় ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। তবে গোল্ডেন বলের স্বীকৃতি ঠিকই লাভ করেন রোনালদো।

৬। অলিভার কান - জার্মানি (২০০২)

জাপান ও কোরিয়ায় বসে ২০০২ এর বিশ্বকাপ আসর। প্রথম বারের মত একজন গোল কিপারের হাতে ওঠে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। হ্যাঁ, বলছি সর্বকালের অন্যতম সেরা গোল কিপার অলিভার কানের কথা। ফাইনালে যাওয়ার পথে ৫ টি ক্লিনশীট আদায় করেন অলিভার।  অলিভার ছিলেন এক কথায় দুর্ভেদ্য। তবে ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ রক্ষা না হলেও এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলরক্ষক গোল্ডেন বল অর্জনকারী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছেন অলিভার কান ।

৭। জিনেদিন জিদান - ফ্রান্স (২০০৬)

২০০৬ এর জার্মানি বিশ্বকাপে 'জিজু'ছিলেন এক কথায় দুর্দান্ত। ফাইনালে ওঠার পথে করেছিলেন ৩ গোল, ফ্রান্সকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের। কিন্তু ফাইনালে মারকো মাতেরাজ্জিকে সই মাথা দিয়ে ঢুস কাণ্ডের পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এই ফরাসি কাপ্তানকে। জিদান বিহীন ফ্রান্সও টাইব্রেকারে হেরে যায় ইতালিয়ানদের কাছে। ভেঙ্গে যায় ফরাসিদের স্বপ্ন। যাই হোক, সবাইকে ছাপিয়ে ২০০৬ এর সেরা খেলোয়াড় ছিলেন জিদানই।

৮। ডিয়েগো ফোরলান - উরুগুয়ে (২০১০)

বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ১৯৩০ এর পর আবার তারা বিশ্বকাপ জয় করে ১৯৫০ সালে। কিন্তু তারপর থেকেই যেন ধুঁকছিল উরুগুইয়ান ফুটবল। ১৯৭০ থেকে ২০১০ , এই ৪০ বছরের মধ্যে কখনো সেমিফাইনালই খেলা হয়নি 'লা সেলেস্তে'দের। ২০১০ এ ডিয়েগো ফোরলান নামের এক জাদুকরের উপর ভর করে বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠে উরুগুয়ে। পাঁচ গোল করে যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপের সবথেকে বেশি গোলদাতাও হন ফোরলান। উরুগুয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করলেও নান্দনিক ফুটবল শৈলী এবং অসাধারণ সব গোলের জন্য গোল্ডেন বল পান ডিয়েগো ফোরলান।

৯। লিওনেল মেসি - আর্জেন্টিনা (২০১৪)

নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি এই গ্রহের সেরা ফুটবলের। তবে, অনেকেই মনে করেন , পেলে ম্যারাডোনার কাতারে যেতে হলে তাঁকে জিততে হবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ । ২০১৪ এর ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসি তা করেও ফেলেছিলেন প্রায়। একাই দলকে টেনে নিয়েছিলেন ফাইনালে। কিন্তু জার্মানির মারিও গোটশের ১১৩ মিনিটের গোলে সব চুরমার হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্ট সেরা না হতে পা রলেও মেসি হন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি