.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

ভাঙলো ২০ দলীয় জোট; ঐক্যফ্রন্টে নারাজ গাণি-মোর্তজা

 প্রকাশিত: ১৭:০১ ১৬ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২২:৩২ ১৬ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ওয়ান-ইলেভেন কুশীলবদের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য গড়ার অভিযোগ এনে ২০ দলীয় জোট ছাড়লো বাংলাদেশ ন্যাপ ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ভেঙে গেল বিএনপির জোট। 

বিএনপির সঙ্গ ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মর্তুজা।

জেবেল রহমান গানি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি যোগ দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সঙ্গে থাকাদের প্রায় সবাই ১/১১ এর অরাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের অনেকেই মাইনাস টু ফর্মুলার সঙ্গে ছিলেন। 

প্রয়াত রাজনীতিক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি
তিনি বলেন, এমনকি খালেদা জিয়া এখন যেই মামলায় কারাগারে আছেন, সে মামলা দায়েরের নেপথ্য নায়করা এখন বিএনপির পাশে। এটা হতাশজনক।

এক প্রশ্নের জবাবে গানি বলেন, জোটনেত্রী খালেদা জিয়া আট মাস আগে কারাগারে যাওয়ার পর জোটের ব্যানারে কোনো কর্মসূচি করতে না পেরে তারা ‘ব্যথিত’।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাত্র কয়েক মাস আগে গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ছাড়াও আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। তবে ঐক্যের মূল উদ্যোক্তা যুক্তফ্রন্ট নেতা বি চৌধুরী ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জোটভুক্ত দলগুলো ছিটকে পড়েছে বিএনপি যুক্ত হওয়ার পর।

জোট গঠনের উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন ওয়ানি ইলেভেন সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। আছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। যিনি সংস্কাপন্থি হিসেবে চিহ্নিত। একই অতীত নাগরিক ঐক্যের মান্নারও। শুধু তাই নয়, মূল নেতৃত্বদানকারী ড. কামাল হোসেনও অগণতান্ত্রিক সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন বলে প্রচার রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন জোট আত্মপ্রকাশের উদ্দেশ্যও ষড়যন্ত্র।

গানি বলেন, আতঙ্ক কারণ এই যে, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা কি আরেকটি অগণতান্ত্রিক অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রে অংশ নিচ্ছি?

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে ২০১২ সালে ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোটের পরিসর বাড়িয়ে ১৮ দল গঠন করা হয়। তখন ওই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি। পরে আরো দুটি দল যোগ দিলে, তা ২০ দলীয় জোট নামে পরিচিতি লাভ করে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল ২০ দল। ওই দাবিতে সরকারের সাড়া না পাওয়া এবং দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার কারাগার মুক্তি আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি।

গেলো শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর সোমবার রাতে ২০ দলের সঙ্গে বসে বিএনপি। ওই বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি অবস্থান পরিস্কার করা হয়। আর তাতে জোট শরীকদের সমর্থনের কথা জানানো হলেও পরদিনই বিএনপির সঙ্গ ছাড়লো দুটি দল। তবে ওই বৈঠকে গানি কিংবা মর্তুজা ছিলেন না। প্রতিনিধিত্ব করেন দুই দলের মহাসচিব।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে গানি ও মর্তুজার সঙ্গে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া ও এনডিপির মহাসচিব মন্জুর হোসেন ঈসাও ছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তারা কেউ কথা বলেননি। শুধু গানিই কথা বলেন।    

বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যে আচরণ করেছেন, তাও ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’। ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি নেতারা।

গানি অভিযোগ করেন, বিএনপি নতুন জোটে যাওয়ার বিষয়ে সব সময় ২০ দলীয় জোট শরিকদের ‘অন্ধকারে রেখেছেন’। জাতীয় নির্বাচন খুব কাছাকাছি হলেও বিএনপি শরিকদের কোনো কিছুই পরিষ্কার করছে না। বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে তারা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে বার বার। অন্যদিকে এক-এগারোর কুশীলবদের সঙ্গে যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তখন আমরা মনে করি, বিএনপি তার সব নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত।

বিএনপির অবহেলার অভিযোগও করেন দল দুটির নেতারা। আসন ভাগাভাগির বিষয়ে সাড়া না পাওয়ার কথাও বলেন তারা।

গানি বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, মতপার্থক্য ও মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব সময় আন্তরিক থাকার। তিনি বলেন, এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনে লোভনীয় অনেক প্রস্তাব থাকার পরও জোট ত্যাগ করিনি। ওই ত্যাগ বিএনপি মূল্যায়ন করেনি। ভাবখানা এরকম যে আমরা কোথায় যাব?

আওয়ামী লীগ বা মহাজোট থেকে কোনো প্রস্তাব পেয়েছেন কি না- জানতে চাইল গানি বলেন, কোনো দল আমাদের কাছে তালিকা চায়নি। মহাজোট থেকেও কোনো অফার পাইনি। আমরা এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব। তবে বিএনপি জোটে ফেরার পথও রাখছেন গানি। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমান কর্মকাণ্ড থেকে সরে এলে, ফের তাদের সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনা আছে।

এদিকে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির জোট ছাড়ার বিষয়ে ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে কোনো সিদ্ধান্ত জোট নেতাদের জানিয়েই নেয়া হয়। গতকালের বৈঠকেও তো দল দুটির শীর্ষ নেতারা ছিলেন। আলোচনা হয়েছে, সবাই সম্মত হয়েছে।

মূল্যায়ন নিয়ে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উনারা দুটি দলের শীর্ষ নেতা। আসন তো তারা পেতেই পারেন। তবে এখনো তো নির্বাচনের তফসিলও হয়নি। আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনাও তো শুরু হয়নি।

ছয় বছরের জোটসঙ্গী দুটি দলের আকস্মিক সম্পর্কোচ্ছেদের ঘোষণায় বিস্মিত নজরুল ইসলাম বলেন, আসন বণ্টন এখানে বিষয় নয়। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেন তিনি। 

তবে এনডিপির মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে তারা ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশ ন্যাপ ইসিতে নিবন্ধিত দল হলেও এনডিপির নিবন্ধন নেই।

অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এক কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা ভেঙে যাচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এমআরকে/আরআই /এলকে