ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বার বার আশ্বাসেও মজুরি দিচ্ছে না

খুলনা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:২৯ ৬ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৪২ ৬ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘কর্তৃপক্ষ বার বার আশ্বাস দিয়েও মজুরি দিচ্ছে না। ফের আন্দোলনে নামতে হবে। তা না হলে হয়তো মজুরি পাবো নামজুরি নাই, ঘরে চাল, ডাল, তেল  নাই। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা নেই। তারপরও রাতদিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। পরিবারে চলছে হাহাকার ।

খুলনার ৯ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিকরা এমন অভিযোগ করেছেন। আব্দুল্লাহ নামের এক শ্রমিক বলেন, শ্রমিকদের পরিবারে চলছে হাহাকার। একবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে আর একবার ঈদকে সামনে রেখেই দেয়া হচ্ছে পাটকল শ্রমিকদের মজুরি। 

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে খুলনঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা সর্বশেষ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলার কথা।রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ব্যানারে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল ২০ সেপ্টেম্বর রাজপথে লাঠি মিছিল, ২১ সেপ্টেম্বর এক সঙ্গে নরসিংদী ও খালিশপুরে শ্রমিক সমাবেশ, ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে গেট সভা ও শ্রমিক বিক্ষোভ, ২৩ সেপ্টেম্বর হাফিজুট মিলে সারা দেশের পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠক, ২৪ সেপ্টেম্বর আমিন জুট মিলে একই কর্মসূচি, ২৭ সেপ্টেম্বর রাজপথে কফিন মিছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত রাজপথ, রেলপথ অবরোধ, ২ অক্টোবর আবারো রাজপথ রেলপথ অবরোধ এবং ৫ অক্টোবর পিপলস গোল চত্বরে শ্রমিক জনসভা ও পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা। কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর লাঠি মিছিলের পর আর কোন কর্মসূচি পালিত হয়নি। ২০ সেপ্টেম্বরের পর পরিষদের আহবায়ক ও পাটকল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সরদার মোতাহার উদ্দিন উদাসীন থাকেন। পরিষদের কার্যকরী আহবায়ক সোহরাব হোসেনও দায়িত্ব নিয়ে কোন কর্মসূচি দিকে এগিয়ে আসতে পারেননি। সাধারণ শ্রমিকদের কাছে তিনি এ ব্যাপারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন। 
শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহবায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, যেহেতু আহবায়ক সরদার মোতাহার উদ্দিন নিজে থেকেই কর্মসূচীর দিকে এগিয়ে আসছেন না সেহেতু তিনি এখন অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তার পরেও অন্যান্য নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করা হবে।

বিজেএমসির আঞ্চলিক অফিসের মহাব্যবস্থাপক (আরসিও)  রহমতউল্লাহ বলেন, তিনশ’ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য পড়ে থাকলেও নয় মিলে শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া রয়েছে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।বিজেএমসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সেখান থেকে বলা হচ্ছে পণ্য বিক্রির টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার জন্য। কিন্তু বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য পড়ে আছে অবিক্রিত অবস্থায়। তার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রমিকদের পাওনার ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদফতরের পরিচালক মো: মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যেই খুলনা-৩ আসনের এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া ও ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব দিক দিয়েই সরকারের সাথে আলোচনার চেষ্টা চলছে। 

এদিকে মজুরি না পেয়ে সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম