.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

‘আমার ভাইরে মেরে ফেলছে ওরা’

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ২১:৩১ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:৫৪ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তহিদুর রহমান প্রতিকের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত প্রতিক শাবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী।

প্রতিকের বোন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শান্তা তৌহিদা ভাইয়ের আত্মহত্যা নিয়ে নিজ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, “আমার কলিজার টুকরা ফ্যানে ঝুলে সুইসাইড করছে ...আমি আসতেছি ভাইয়া...আল্লাহ তুমি কোনো মিরাকল করে দাও...আমার ভাইরে ফেরত দাও।”

প্রতিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আমার কলিজার টুকরা আমার আদরের একমাত্র ভাই আমার প্রতিক আর নাই...  শাবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগকে আমি ছাড়বনা, অনার্স-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ছেলেটাকে বিভিন্ন ইস্যু বানায়ে মাস্টার্স এ সুপারভাইজার দেয় নাই... বিভিন্ন কোর্সে নম্বর কম দিয়েছে! আমার ভাইটা টিচার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল এটাই তার অপরাধ... গত ছয় মাস ধরে ডিপার্টমেন্ট তিলেতিলে মেরে ফেলছে আমার ভাইকে...আমার কলিজার টুকরা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করেছে..আমার কলিজার টুকরা ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচব? ভাইরে আমি আসতেছি তোর কাছে ভাই…”

এছাড়া শান্তা তৌহিদা আরেক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, “আমার ভাইটারে গত মাসেও আমি জিজ্ঞেস করেছি, আমি কী তোর বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করব? আমার ভাই বলেছে, আপু আমি জিআরআই দিয়েছি, আপু আমি ইউকে চলে যাব, আমার তো রেফারেন্স লাগবে! শিক্ষকরা ভয় দেখাইছে কিছু করলে রেফারেন্স লেটার দিবে না...আমার ভাইরে মেরে ফেলছে ওরা ...আমি কই পাব আমার টুকরারে আমি কই পাব?”

এ বিষয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানার এসআই আকবর হোসাইন ভূইয়া বলেন, সোমবার বিকেলে রুমের দরজা ভেঙ্গে প্রতিকের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। রোববার মধ্যরাত বা শেষ রাতে তহিদুর রহমান প্রতিক আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা না হত্যা সে বিষয়েও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ