৯ ডিসেম্বর নকলা মুক্ত দিবস

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

৯ ডিসেম্বর নকলা মুক্ত দিবস

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৫৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৯ ডিসেম্বর নকলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে মুক্তিযোদ্ধারা শেরপুরের নকলা উপজেলাকে পাকিস্থানি হানাদারমুক্ত করেছিলেন। ১১নং সেক্টরে আওতায় নকলা অঞ্চলকে হানাদার মুক্ত করে বিজয়ের পতাকা উড়ান তাঁরা।

১১নং সেক্টরের ব্র‏হ্মপুত্র নদের উত্তরে পাকবাহিনীর হেড কোয়াটার আহম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মেজর রিয়াজ। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনীর গুরুদায়িত্ব ছিলেন এম. হামিদুল্লাহ এবং ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের। হানাদার বাহিনীর মূল টার্গেটে থাকা নকলাতে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে গৃহহীন করেছিল হাজার হাজার মানুষকে। হত্যা করেছিল শত শত মুক্তিকামী যুবকদের। শহীদ হয়েছিলেন ১৯ জন মুক্তিযুদ্ধা। তবুও মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় বানাজিৎ শিং ত্যাগী ও ব্রিগেডিয়ার সানাতন শিং এর উদ্যোগে এবং কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে টু-আইসি আব্দুর রশিদ ও সিকিউরিটি কর্মকর্তা একলিম শাহ্ সহ ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। 

হানাদাররা পিছু হটলেও ১৩০ জন আল  বদর বাহিনীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বন্দী হয়। পরের দিন ১১৭ জন রাজাকার-বদর ১১০ টি অস্ত্রসহ কোম্পানী কমান্ডারের কাছে আত্মসমর্পন করে। সকাল ১১ টায় নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বর্তমানে সরকারি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলণ করা হয়। ওই সময় মিত্রবাহিনীর মেজর বানাজিৎ শিং ত্যাগী, ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের, কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরী ও গিয়াস উদ্দিন, ইপিআর ওয়্যার্লেস অপারেটর ফরহাদ হোসেন, নকলা, নালিতাবাড়ী  ও শেরপুরের প্লাটুন কমান্ডার যথাক্রমে নূরুল ইসলাম হিরু, জমির উদ্দিন ও এবি সিদ্দিক; কোয়ার্টার মাস্টার জুলহাস উদ্দিন ফকির এবং মুক্তিযোদ্ধের গোয়েন্দা বিভাগের আবুল হাশেম ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সহ হাজারো মুক্তি কামী সাধারন জনগনের ঢল নামে।

দিবসটির স্মরণে নকলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা প্রশাসন, আমরা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক কমান্ডার স্মৃতি সংসদ, পারফেক্ট পাবলিক স্কুলসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ সম্পন্ন ও ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর স্থাপন হওয়ায় নতুন আমেজে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে বলে জানান উপজেলা কমান্ডিং কর্মকর্তাগণ। 

মুক্তিযোদ্ধ চলাকালে শেরপুর জেলা ছিল ১১নং সেক্টরের অধীনে। তখন জেলার বর্তমান ৫ টি উপজেলায় ছোট বড় ৩০ কি ৩৫ টি সম্মূখ যুদ্ধ হয়েছিল। ওইসব লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করায় ৮৪ জন বীর সন্তান শহীদ হন, নির্মমতার স্বীকার হন হাজারো নিরীহ বাঙালি। তাছাড়া নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর এলাকায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮৭ জনকে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। শ্রীবরদীতেও ৬১ জনকে হত্যা করে তারা। সূর্য্যদীতে গণহত্যা ও প্রতিরোধ যুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ হন আরও ৬৯ জন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য জেলার একজন বীর বিক্রম ও দুইজন বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম