Alexa ৭ হাজারেই ঘুরে এলাম মেঘালয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

৭ হাজারেই ঘুরে এলাম মেঘালয়

পিয়াস চৌধুরী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৪ ২৩ জুন ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

তুলনামূলক কম খরচে যারা দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে মেঘালয়। জীবনের একঘেয়েমি ক্লান্তিকর মুহূর্ত গুলোকে আড়াল করতে ঘুরে আসতে পারেন মেঘ, পাহাড়-পর্বত, ঝরনা আর জলপ্রপাতের রাজ্য থেকে। এটিকে ভারতের স্কটল্যান্ড ও পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের এলাকা বলা হয়ে থাকে। আমাদের ৩ রাত ৪ দিনের ট্যুরে সাত জনের জন প্রতি খরচ হয়েছিল সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ সিলেট সীমান্ত থেকে চেরাপুঞ্জি সোজাসুজি কুঁড়ি কিলোমিটারেরও কম। বাড়ির পাশেই বিশ্বের বৃষ্টিবহুল এই এলাকা, সেখানে আষাঢ় কিংবা শ্রাবণের বৃষ্টি উপভোগ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ভিসা লাগবে ডাউকি বর্ডার দিয়ে। ট্রাভেল ট্যাক্স দেশেই দিয়ে যাবেন, তাইলে বর্ডার দ্রুত পার হতে পারবেন।

প্রথম দিনের ট্যুর প্ল্যান

সকালে তামাবিল বর্ডার পার হয়ে ওপারে গিয়ে জীপ ঠিক করে নেবেন। ডলার শিলং এ ভাঙ্গাতে পারেন। সেখানে ডাউকি বাজারের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যায়। আমরা জীপ ভাড়া করেই বরহিল ফলস, উমক্রেম ফলস, লিভিং রুট ব্রিজ, মাওলিনং ভিলেজ ঘুরে একেবারে চেরাপুঞ্জি চলে গেলাম। পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ডাউকি থেকে চেরাপুঞ্জি যাওয়ার পথে অনেক দোকান চোখে পড়বে। গাড়ি থামিয়ে খেয়ে নিতে পারেন গরম গরম মম আর নুডলস।

রাতে থাকলাম চেরাপুঞ্জিতেই। ২ টা ডাবল বেড ও ২টা সিঙ্গেল বেড ছিল। হোটেল ভাড়া ৬০০০ রুপি। খাবারের জন্য আশেপাশে বেশ কয়েকটি হোটেল আছে। তবে মনে রাখতে হবে, ৮টায় সব রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে খেয়ে নিবেন অথবা ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে হোটেলে নিয়ে যেতে পারেন।

ছবি : লেখক

দ্বিতীয় দিনের ট্যুর প্ল্যান

তারপর দিন জীপ নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন, নোহকালিকাই ফলস, মৌসুমি কেইভ, সেভেন সিস্টার ফলস, ওয়াকাবা ফলস, এলিফেন্ট ফলস দেখে শিলং শহরে চলে আসলাম। ডলার ভাঙ্গাতে চাইলে সেন্টাল পয়েন্ট, পুলিশ বাজারে ভাঙিয়ে নিতে পারেন। শিলং এর স্ট্রিট ফুড অবশ্য চেখে দেখবেন পারেন। এছাড়াও সেন্টাল পয়েন্টের পাশে মসজিদ গলিতে পাবেন ডমিনোজ এর পিজ্জা। সব দোকান রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। শপিং করতে চাইলে এখানে করে নিন। কারণ আর কোথাও কোনো মার্কেটের দেখা পাবেন না। সেদিন রাতে আমরা দনিয়া গেস্ট হাউজে ছিলাম। হোটেলের মান যথেষ্ট ভাল। রুমে ব্যালকনি ছিল। তা দিয়ে রাতের শিলং শহরের আলোগুলো খুব সুন্দর দেখা যায়। 

৩য় দিনের ট্যুর প্ল্যান

লাইটরুম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখুন এদিন। অসম্ভব রকমের সুন্দর।বিশাল সবুজের চত্বর আর মেঘ পাহাড়ের খেলা দেখতে পাবেন এখানে গেলে। এরপর ক্রাংসুরি ফলস দেখে সোনাংপেডাং এ চলে আসলাম আমরা।

৪র্থ দিনের ট্যুর প্ল্যান

সকাল বেলা দেখতে পারেন সাসপেনশান ব্রীজ। এরপর উমংগট নদীতে বোটিং করে এদিক সেদিক ঘুরে ডাউকি এসে বর্ডার পার হবেন। আমরা বর্ডার থেকে নিয়ে যাওয়া থেকে বর্ডার অবদি পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত মোট খরচ ১৫ হাজার রুপি দিয়েছি। কোনো থাকা-খাওয়া খরচ দিতে হবে না ড্রাইভারকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে