৬০০ কুমারীর রক্ত ও মাংস খেয়েছেন ইতিহাসের এই নৃশংসতম নারী!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=185807 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

৬০০ কুমারীর রক্ত ও মাংস খেয়েছেন ইতিহাসের এই নৃশংসতম নারী!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৩ ৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৬ ৫ জুন ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

চির যৌবনা থাকতে কে না চান। বিশেষ করে নারীরা নিজেদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে একটু যেন বেশিই সচেতন। ফিট থাকতে আর নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কতো কিছুই না করে থাকেন।

তবে কখনো কি শুনেছেন নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতেই কেউ হয়ে উঠেছিলেন একজন সিরিয়াল কিলার। চিরযৌবনা হতে পান করেছেন ৬০০ কুমারী নারীর রক্ত।  

অবাক হয়েছেন নিশ্চয়? হ্যাঁ আজকের লেখা থাকছে এই নারীকে নিয়েই। যিনি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম নারী সিরিয়াল কিলারের খেতাবপ্রাপ্ত। নিজেকে সুন্দর রাখতে শুধু যে কুমারী মেয়েদের রক্ত পান করতেন তাই না, রক্তে গোসল করতেন এমনকি তাদের মাংস খেতেন তিনি। 

ভয়ঙ্কর বদমেজাজি, হিংস্র আর অত্যাচারী ছিলেন এই নারী। অন্যের মৃত্যু যন্ত্রনা তাকে তৃপ্ত করত। তার বিশ্বাস ছিল, কুমারী মেয়েদের রক্ত তাকে চিরযৌবনা রাখবে। আর তাই একের পর এক কুমারীকে হত্যা করতেন তিনি। ইতিহাসে আলোচিত এই সিরিয়াল কিলার পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যার খুনী ছিলেন। তিনি এলিজাবেথ ব্যাথরি। যিনি ব্লাড কাউন্টেস বা কাউন্টেস ড্রাকুলা নামেও পরিচিত। 

এলিজাবেথ ব্যাথরিএলিজাবেথ ১৫৬০ সালের ৭ আগস্ট হাঙ্গেরির ট্রান্সিলভেনিয়ায় এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই এলিজাবেথ খিটখিটে, বদমেজাজি আর বিগড়ে গিয়েছিলেন। যদিও সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। সেখানে কখনো কোনো অত্যাচারের শিকার হতে হয়নি তাকে। তারপরও কেমন যেন অত্যাচারী হয়ে উঠছিলেন তিনি। খুব অল্পতেই তার মেজাজ খারাপ হয়ে যেত। খিঁচুনি আর মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে তিনি এমন হয়েছেন বলে মনে করেন অনেক ইতিহাসবিদ।  

শিশু বয়সেই ভয়ানক সব অত্যাচারের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত ছিলেন এলিজাবেথ। সেই সব ভয়ানক ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষীও হয়েছেন অনেকবার। একবার তিনি দেখেন একটি জীবন্ত ঘোড়ার পেট কেটে তার মধ্যে অপরাধীকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এরপর ঘোড়ার পেট সেলাই করে দেয়। এই ঘটনা তার মনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তার হিংস্রতা আরো বাড়িয়ে দেয়।     

অভিজাত বংশের মেয়ে হওয়ায় তার বিয়েও হয়েছিল সম্ভ্রান্ত পরিবারেই। তবে বিয়ের আগেই মাত্র ১৩ বছর বয়সে মা হন এলিজাবেথ। এরপর ১৫ বছর বয়সে ফেরেন্স নাডাসডি নামে এক উচ্চবংশীয় লোকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ফেরেন্স ছিলেন হাঙ্গেরির রাজ্যের সেনাপতি। কথিত আছে, ফেরেন্স তার স্ত্রী এলিজাবেথের মতোই অত্যাচারী ছিলেন। অটোম্যান বন্দীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালাতেন তিনি। নিজের দাসদের দুই পায়ের গোড়ালির মাঝে কাগজ রেখে আগুন ধরিয়ে দিতেন। 

এছাড়াও অটোম্যানদের যুদ্ধে তার হিংস্রতা আর অমানবিকতার কারণে তাকে ডাকা হত ব্ল্যাক হিরো অব হাঙ্গেরি।বিয়ের কিছুদিন পরই ফেরেন্স যুদ্ধে চলে যান। তবে সেখান থেকে এলিজাবেথকে তিনি অত্যাচারের নতুন নতুন পন্থার কথা জানাতেন। তবে এলিজাবেথের অমানবিক অত্যাচারের কথা বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। 

নৃশংসভাবে তিনি মেয়েদের খুন করতেনতিনি শুধু যে কুমারী মেয়েদের রক্ত পান এবং গোসল করতেন তাই নয়, তাদেরকে হত্যার জন্য অবলম্বন করতেন ভয়ঙ্কর সব পদ্ধতি। এক্ষেত্রে তিনি স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন সবসময়। এছাড়াও তার কয়েকজন বিশ্বস্ত দাস ছিল। যারা এলিজাবেথের সব অপকর্মের সাক্ষী। এলিজাবেথ কুমারী মেয়েদের খুবই ছোট্ট খাঁচায় বন্দী করত। এরপর তাদের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে শরীরে বরফ পানি দিত। যাতে তারা ঠাণ্ডায় জমে মারা যায়। 

তার দাস দাসিদের হাতের তালুতে গরম লোহা রেখে দিত। তাদের যন্ত্রনায় পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করত বিকারগ্রস্থ এলিজাবেথ। সাঁড়াশি দিয়ে দাসদের আঙ্গুল টেনে ছিঁড়ে ফেলত। একবার এলিজাবেথ এমন এক কাজ করেন যা ছিল সব নৃশংসতার উর্ধ্বে। এক দাসীর শরীর থেকে মাংস কেটে তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে তাকেই খেতে বাধ্য করেছিল সে। এছাড়াও মেয়েদের শরীরে মধু লাগিয়ে  সারাদিন বাইরে রেখে দিত। যাতে মৌমাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড় তাদের খেয়ে ফেলতে পারে। 

স্বামী ফেরেন্সের মৃত্যুর পর এলিজাবেথ আরো বেশি নৃশংস হয়ে ওঠে। সে মেয়েদের নখে, ঠোঁটে, গালের নিচে সুঁই ফুটিয়ে রাখত, শরীর থেকে মাংস কেটে নিত। এলিজাবেথ এভাবেই ক্ষান্ত হয়নি। অনেক পুরুষের জীবনও নিয়েছে। বিয়ের আগে এবং তার স্বামীর মৃত্যুর পর অসংখ্য পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর নতুন একজনকে পেলে আগের জনকে মেরে ফেলত সে। এছাড়াও এলিজাবেথের সম্পর্কে আরো একটি তথ্য জানা যায়, তিনি উভকামী ছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক মিলনের পর তাদেরকেও হত্যা করতেন এই নারী১৬০৩ সালে রাজা কাউন্ট গির্জি থুরজোকে সিসজে ক্যাসলে এলিজাবেথকে বিচারের আয়তায় আনেন। সেসময় রাজ্যের অনেক মেয়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সবাই শঙ্কায় থাকত। তবে খুব একটা পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একজন বিখ্যাত শিল্পী এলিজাবেথের প্রাসাদে গানের অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়। এতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আর তখনই ধরা পড়ে এলিজাবেথের অপকর্ম। সেসময় তার সঙ্গে চার সহযোগীকেও বিচারের আয়তায় আনা হয়। 

তার প্রধান দুই সহযোগীর ভাষ্য মতে, সে ৫০ জন মেয়েকে হত্যা করেছে। অন্য একজন বলেছে এর সংখ্যা ৮০। তবে এর আসল সংখ্যা ছিল ৬০০ এরও বেশি। এই তথ্য পাওয়া যায় এলিজাবেথের নিজের লেখা ডায়েরি থেকেই। একজন সহযোগীই তার ডায়রি আদালতে উপস্থাপন করেন। 

সে সময় রাজ্যের গরিব পরিবারের মেয়েদের কাজের লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসা হত এলিজাবেথের কাছে। আর অসহায় মেয়েরা শিকার হত এলিজাবেথের বিকারগ্রস্থ স্বভাবের নির্মম শাস্তির। একের পর এক মেয়েরা নিখোঁজ হতে থাকলে এসব পরিবার থেকে আর কোনো মেয়েকে পাঠানো হত না।

কারাবাসেই তার মৃত্যু হয়এরপর মধ্যবিত্ত পরিবার এমনকি অভিজাত পরিবারের মেয়েদেরকে ভালোভাবে লালন পালনের প্রতিশ্রুতিতে আনা হত। তার সহযোগীর তিনজনকে ফাঁসি এবং চতুর্থ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এলিজাবেথকে বন্দী রাখা হয় জানালাবিহীন ছোট্ট এক ঘরে। সেখানেই ১৬১৪ সালে ৫৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান। 

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, মানসিক সমস্যা থেকেই এলিজাবেথ এমন নৃশংস হয়ে উঠেছিলেন। তবে এলিজাবেথের পরিবারে শুধু সেই খুনি ছিলেন না। অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির। এলিজাবেথের ফুফু ক্লারা ছিলেন জাদুকরী এবং উভকামী। তিনি কালো জাদু চর্চা করতেন এবং এলিজাবেথকেও উৎসাহ দিতেন। নিজের স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন তিনি। অবশেষে ক্লারাকে জেলে পাঠানো হয়। সেখানেও তিনি কারারক্ষীদের তার ফাঁদে ফেলতেন। 

তবে অনেক ইতিহাসবিদ দাবি করেন, ক্লারা এবং তার এক প্রেমিক অটোম্যানদের হাতে বন্দী হন। এরপর তাদের হত্যা করা হয়। এলিজাবেথের চাচা স্টিফেন ব্যাথরি ছিলেন একজন দক্ষ যোদ্ধা। নির্মমভাবে হত্যা করতেন বিপক্ষের বন্দীদের। তিনি পোল্যান্ডের রাজাকে হত্যা করে রানিকে বিয়ে করেছিলেন।   

সূত্র: হিস্টোরিটুডে, দ্যভিন্টেজনিউজ

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস