৫০ বছরে ২৫৬ বর্গমাইল জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

নাসা প্রতিবেদনের ফলাফল

৫০ বছরে ২৫৬ বর্গমাইল জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন

 প্রকাশিত: ১৩:০১ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৪১ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রীক আকার পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করে

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রীক আকার পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করে

পদ্মা নদীর ভাঙনে ১৯৬৭ সালের পর থেকে গত ৫০ বছরে ৬৬ হাজার হেক্টরের (২৫৬ বর্গমাইল) বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর শিকাগোর সমান।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র 'নাসা'র আর্থ অবজারভেটরির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইটের ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রীক আকারের পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করে থাকে। নাসার 'ভাঙনের আকৃতি' শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক-রঙের স্যাটেলাইট ছবিগুলোর সাথে ১৯৮৮ সাল থেকে পদ্মার আকৃতি এবং প্রস্থের পরিবর্তনগুলো তুলনা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের দু'টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত এটি প্রাকৃতিক ও দ্বিতীয়ত নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে।

প্রত্যেক 'টুয়িস্ট এন্ড জিগজ্যাক' স্যাটেলাইট ছবি নদীর একটি ভিন্ন কাহিনী তুলে ধরছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা হয়। 

নাসা আর্থ অবজারভেটরির অ্যানিমেশনটির মাধ্যমে ১৪টি রঙিন স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে পদ্মা নদী কিভাবে তার আকৃতি ও পথ পরিবর্তন করেছে তা দেখানো হয়েছে।

নদীর নিচে পলি মাটি বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে। এক তত্ত্বমতে, কিছু পলিমাটি ১৯৫০ সালে সৃষ্ট ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধসের অবশিষ্টাংশ। গবেষকরা মনে করেন, এসব বালির মতো ক্ষুদ্র উপাদান নদীর মধ্য দিয়ে অর্ধ শতাব্দী ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশক ধরে পদ্মা নদী তুলনামূলকভাবে সোজাসুজি অবস্থান পরিবর্তন করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীটি আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে হরিরামপুর উপজেলার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে। যেখানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন লক্ষ্য করা গেছে। 

১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে 'চর জানাজাতের' কাছে নদীর রেখাচিত্র তীব্রভাবে বেঁকে যায়। বক্ররেখাটি ১৯৯২ সাল থেকে বিকশিত হতে শুরু করে, ২০০২ সালে তার পতন শুরু হয়। একপর্যায়ে রেখাটি অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রতিবেদনটিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা এবং নদী ভাঙনের ফলে এটি কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে সেদিকটিও উঠে এসেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে নদীর ভাঙন কিছুটা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে নাসা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরআই