.ঢাকা, শনিবার   ২৩ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৬ রজব ১৪৪০

৪৩ শহীদ পরিবারের দুর্বিষহ জীবন

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:৫২ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৫২ ১ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউপির তেরশ্রী গ্রামের ৪৩ জন নিরস্ত্র মুক্তিকামী বাঙালি। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে এ শহীদ পরিবারগুলো।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও তাদের খোঁজ খবর নেয়নি কেউ। তাই নিহতদের পরিবারের অনেকেই কায়িক শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তেরশ্রী বাজার সংলগ্ন শহীদ মাখন চন্দ্র সরকারের ছেলে মনোরঞ্জন সরকারেরবসতবাড়ি। এ বাড়ি টুকু ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই তার। ছোট টিনের ঘরটির মধ্যে তাদের বসবাস। কোনো কোনো দিন দুপুরে খাবার জুটলেও অসুখের কারণে খেতে পারেনা। একটি বয়স্ক ভাতা কার্ডের জন্য এবং একটি ভিজিডি কার্ডের জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে অনেক ঘুরেও কিন্তু কোনো লাভ হয়নি তাদের।

তেরশ্রী কালী নারায়ন ইনস্টিটিউশনের কেরানী ছিলেন শহীদ মাখন চন্দ্র সরকার। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর রাতে দেশীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। অসহায় পরিবারগুলোর ভাগ্যে ন্যুনতম একটি বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড, ভিজিএফ কার্ড জুটেনি। 

শহীদ জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী জমিদারের ছেলে সমেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী বলেন, আমার বাবা হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পর থেকে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি, সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের যখন ব্যাপক সুযোগ সুবিধা প্রদান করছেন সেখানেও আমরা আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি।

১৯৭১ সালের ২২ শে নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী তেরশ্রী এস্ট্রেটের সে সময়ের জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী, তরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানসহ ৪৩ জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে হত্যা করে। হানাদাররা ঘুমন্ত গ্রামবাসীর উপর নারকীয় হতাযজ্ঞ শুরু করে।  প্রথমে তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। এরপর তেরশ্রীর তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। একইভাবে ওই গ্রামের আরো ৪১জন মানুষকে হত্যার পর পুরো গ্রামে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

সেই দিনের ভয়াল স্মৃতি মনে করে ওই গ্রামের অনেকে এখনো আঁতকে উঠেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা রয়েছে তাদের মনে। শহিদ পরিবারের সদস্যরা চায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।

ডেইলি বাংলাদেশ/ জেএস