Alexa কীভাবে উদঘাটন হলো ৩৩ লাখ টাকা প্রতারণার রহস্য!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

কীভাবে উদঘাটন হলো ৩৩ লাখ টাকা প্রতারণার রহস্য!

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৬:৩৫ ২৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৭:২৭ ২৩ আগস্ট ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঞ্চল্যকর সোয়া ৩৩ লাখ টাকার প্রতারণার রহস্য উদঘাটনসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পাবনা পিবিআই।

গ্রেফতাররা হলেন- নাটোর জেলার লালপুর থানার পুরাতন ঈশ্বরদী (রিফুজীপাড়া এয়ারপোর্ট মোড়) এলাকার বাবলু রহমানের ছেলে মো. ইমন হোসেন ও একই থানার সাদীপুর এলাকার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মনজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাবনার পিবিআই কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের ওই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতাররা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ী মাহবুব হকের মোবাইল ব্যাংকিং ‘শিওর ক্যাশ’-এর এবং তার রুপালী ব্যাংক লিমিটেড, ঈশ্বরদী শাখার সিসি অ্যাকাউন্টের দেখাশোনা করতেন। তাদের মধ্যে মনজুর রহমান ছিলেন ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার আর ইমন হোসেন ছিলেন এসআর। এই সুযোগে তারা দুইজন প্রায় ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
 
এ প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী ঈশ্বরদীর মাহবুব হক ঈশ্বরদী থানায় মামলা করলে প্রথমে অভিযোগটি ঈশ্বরদী পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু এতে চক্রের কারো কোনো সন্ধান না মিললে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলার তদন্তভার পাবনার পিবিআইয়ের ওপর দেয়া হয়।
 
পিবিআই সূত্র বলছে, পাবনা পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত এসপি তরিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে এসআই সবুজ আলীর ওপর তদন্তভার অর্পণ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সবুজ আলী কিছুদিনের মধ্যেই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার রহস্য উদঘাটন করে এ প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরকে শনাক্ত করেন।
 
পরে প্রধান অতিরিক্ত এসপি মো. তরিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মূল আসামিকে গ্রেফতারের জন্য একটি  টিম গঠন করা হয় এবং মামলার মূল আসামিকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুর থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

পাবনার পিবিআই প্রধান তরিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুবজ আলী জানান, আসামি মনজুর রহমান মামলার বাদীর সিসি অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় টাকা তুলে ধারের টাকা হিসেবে চলতি জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার বিভিন্ন অংকের টাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঈশ্বরদীর হীরক ও বদরুলকে দিতেন। এভাবে মনজুর নিজে ও তার নির্দেশে আসামি ইমন হোসেন হীরককে প্রায় ২০ লাখ টাকা দেন। এছাড়া মনজুর নিজে বদরুলকে প্রায় আট লাখ টাকা দিতেন। 

তদন্তের সময় আরো জানা যায়, হীরক ও বদরুল তার বন্ধু মনজুররের কাছে বিভিন্ন অংকের টাকা গ্রহণ করে প্রতি মাসেই তা পরিশোধ করতেন। এ টাকা হতে কিছু টাকা মনজুর মামলার বাদী ব্যবসায়ী মাহবুব হকের সিসি অ্যাকাউন্টে জমা দেন। কিন্তু আসামি মনজুর তার বন্ধু হীরক ও বদরুলের থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করলেও এক সময় বাদীর সিসি অ্যাকাউন্টে তা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

পিবিআই জানায়, দুই প্রতারক দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবসায়ী মাহবুব হকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করেন। তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ব্যবসায়ী মাহবুব হকের মোট ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গ্রেফতার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই কৌশল অবলম্বন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পলাতক ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম