Alexa ৩৩ বছর পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সাত্তার

ঢাকা, সোমবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৩ ১৪২৬,   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

৩৩ বছর পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সাত্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

দারিদ্র্যের কষাঘাতে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে চাকরির খোঁজে ঘর ছাড়েন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাইয়ের তিতকাটার আব্দুস সাত্তার প্যাদা। 

প্রায় তিন যুগ পর পরিবারের কাছে তিনি ফিরেছেন। তবে লাশ হয়ে। 

শুক্রবার রাতে তার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়। 

খুলনায় অনশনরত পাটকল শ্রমিক আবদুস সাত্তার প্যাদার মৃত্যুর ঘটনায় তার নিজ বাড়িতে চলছে এখন স্বজনের আহাজারি। 

দরিদ্র এই পরিবারের সম্পদ বলতে তার বড় ছেলে রাজমিস্ত্রী শ্রমিক কাজে নিয়োজিত ইমরান প্যাদা, ছোট ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র হুমায়ন প্যাদা। বড় মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা পিয়ারা আর এক মেয়ে ফেরদৌসি বেগম এবং স্ত্রী রওশন আরা বেগমের আত্মবিলাপ। 

সাত বছর আগে তার মেজ ভাই সামসের প্যাদাও এই মিলের শ্রমিক থাকা অবস্থায় মারা যান। 

স্ত্রী রওশন আরা বেগম জানায়, অর্থাভাবে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ১৯৮৬ সালে নিজ বাড়ি-ঘর ফেলে চাকরির খোঁজে এলাকা ত্যাগ করে তার স্বামী আব্দুস সাত্তার প্যাদা। ভাগ্যক্রমে খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলে হেসিয়ান তাঁতের শ্রমিক হিসেবে চাকরি জুটিয়ে নেয়। স্ত্রীসহ পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। নাম মাত্র বেতনের কিছু অংশ রেখে বাকিটা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন তিনি। পাঠানো ওই টাকায় সন্তানদের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতো স্ত্রী রওশন আরা। বড় ছেলে ইমরান মাদরাসা থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। ছোট ছেলে হুমায়ুন মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ছে। বাড়ি বলতে বসত ভিটি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই তার। 

স্ত্রী আরো জানায়, জীবিকার তাগিদে ভিক্ষা ছাড়া সব কাজ করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। ৩৩ বছর আগে কাজের জন্য বাড়ি ছাড়লো। কিন্তু বাড়িতে ফিরলো লাশ হয়ে। 

ছেলে ইমরান জানান, বাবা ১১ মাস ধরে বেতন পাচ্ছিল না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে মা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন চলতি বছরের মার্চ মাসে। সেই টাকায় ইদানিং আমাদের ভরনপোষণ, পড়াশোনা অন্যন্য খরচ চলছিল। এখন এই টাকার কিস্তি পরিশোধ কিভাবে হবে তাও অনিশ্চিত।

খুলনা অঞ্চলের আটটি পাটকলের শ্রমিকেরা ১১ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করে। অনশন চলার সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সাত্তার প্যাদা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

সাত্তার প্যাদার লাশ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি তিতকাটায় এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ