.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

নিরাপত্তার কি বাহার!

জুনায়েদ হোসেন

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৯ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মূল্যবান জিনিস সংরক্ষণে প্রত্যেকেই নানা ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মূল্যবান জিনিসগুলো সুরক্ষিত রাখতে সিন্দুক, লকার অথবা বিভিন্ন গোপন স্থান ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসে, আমাদের সামান্য মূল্যবান সামগ্রির জন্য যখন এত সুরক্ষাব্যবস্থা তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর জন্য কিরূপ সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে! তবে জেনে নিন পৃথিবীর এমন কিছু স্থানের কথা যেগুলো গচ্ছিত মালামালের জন্য সবেচেয়ে বেশি সুরক্ষিত স্থান-

ফোর্ট নোক্স

অনেকেই হয়তো ফোর্ট নোক্সের নাম শুনেছেন! শোনাটাই তো স্বাভাবিক, এত বড় সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের খুব কম স্থানেই রয়েছে। সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে নাই বা কেন? এ ভবনটিতে রয়েছে দশ হাজার টন স্বর্ণ, ঐতিহাসিক মূল্যবান নথিপত্র, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র। ১৯৩৬ সালে এই দালানটি তৈরি করা হয়েছিলো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এর সুরক্ষা ব্যাবস্থাও। সরকার এখানে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দ্বাররক্ষী নিযুক্ত করে রেখেছে। তারা অটোমেটিক মেশিনগান নিয়ে সদা প্রস্তুত থাকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। নিমেষেই শত্রুকে ঘায়েল করাই তাদের বিশেষত্ব। এ ভবনের দরজাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পারমাণবিক বোমাও এর ক্ষতি করতে না পারে। মূল ভল্টের ভিতরে প্রবেশ করার দরজার ওজন প্রায় বাইশ টন। দরজা ভেঙে কেউ ঢুকলেও ভল্টের ভিতর ঢুকতে পারা অসম্ভব। এ ভবনের দেয়ালের পুরুত্ব চার ফুট। এছাড়াও ভবনের প্রতি ইঞ্চিতে রয়েছে নানা স্তরের সুরক্ষা ব্যাবস্থা যার সবগুলোই আমাদের কাছে অজানা।

হোয়াইট হাউজ


এই তালিকায় হোয়াইট হাউজের নাম দেখে কেউ হয়ত অবাক হননি! কিন্তু এর সুরক্ষা ব্যাবস্থার কথা শুনলে আপনি অবশ্যই বিস্মিত হবেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাসীন অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রপতির বাসভবন। তাই এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারণা আমাদের চিন্তাভাবনার বাইরে। কাঁটাতার, লোহার গেট, বুলেট প্রুফ দরজা, নিজস্ব রাডার, এগুলো সবার চোখে দৃশ্যমান কিন্তু আসল সিকিউরিটি সিস্টেম পুরোটাই গোপন। কারণ একটাই, যদি কেউ সিকিউরিটি সিস্টেম সম্পর্কে অবগত না থাকে তাহলে সিকিউরিটি ব্রেক কিভাবে করবে? এখানে শুধুমাত্র মার্কিন নয় বরং পুরো বিশ্বের দক্ষ, বুদ্ধিমান, কৌশলী ২ হাজার ৩০০ কমান্ডো নিযুক্ত রয়েছেন। যারা ২৪ ঘন্টা হোয়াইট হাউজকে নিরাপত্তা প্রদান করে। এছাড়াও ১ হাজার ৩০০ কমান্ডো ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে। যা একটি মাঝারি ধাঁচের যুদ্ধকে আটকে দেয়া সম্ভব। হোয়াইট হাউজের ভিতর ১৯৮৭ সালে একটা বাঙ্কার স্থাপন করা হয়। যেকোনো আপতকালীন সময় প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া এই বাঙ্কার স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য এবং বাঙ্কারটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক বোমা প্রতিরোধী।

দ্য ফেডালের রিজার্ভ ব্যাংক 


ম্যানহাটনে অবস্থিত খুবই সুরক্ষিত একটি ব্যাংক এটি। কারণ এখানে বিশ্বের অনেক ধনী দেশ তাদের অর্থ গচ্ছিত রাখে। পুরো মার্কিন তল্লাটে বারোটি ফেডালের রিজার্ভ ব্যাংক রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে সুরক্ষিত ও উচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা থাকে ম্যানহাটনের রিজার্ভ ব্যাংকটি। ভবনটির ভূগর্ভস্থ অংশ প্রায় আশি ফুট গভীরে বিস্তৃত। পুরো পৃথিবীর মোট স্বর্ণের দশ ভাগ স্বর্ণ রয়েছে এ ব্যাংকটিতে। পুরো পৃথিবীর মাত্র তিনজন ব্যাক্তি এ ব্যাংকের ভল্টে প্রবেশ করার অধিকার রাখে। যদি কখনো ভল্টে প্রবেশ করার প্রয়োজন হয় তাহলে এই তিনজন ব্যাক্তি একইসঙ্গে একই সময়ে সেখানে উপস্থিত থাকে। ভল্টের প্রবেশদ্বারটি নব্বই টনের একটি সিলিন্ডার, এটি একবার বন্ধ করা হলে ভল্টের ভিতরে বাতাস পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না। কি অবাক হলেন তো? আরো অবাক করা তথ্য হল, এই ভল্ট ও তার আশেপাশের দেয়াল আট ফুট পর্যন্ত পুরু এবং এর চারপাশ সর্বক্ষণ সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। 

কোরিয়ান ডি-মিলিটারাইজড জোন


উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাকে ডি-মিলিটারাইজড জোন বলা হয়। সকল দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয় যাতে দেশের ভিতরে চোরাচালান বা কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যদেশের চেয়ে একটু বেশিই সক্রিয় রেখেছে। এ সীমান্তের ফ্রেঞ্চ বা কাটা তারের সঙ্গে উচ্চ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযুক্ত রয়েছে তার সঙ্গে আরো রয়েছে সক্রিয় মাইন ফিল্ড। আৎকে উঠার মত আরেকটি বিষয় হচ্ছে যদি কাউকে অবৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাহলে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই গুলি করার অনুমতি দেয়া আছে। উপরোক্ত কারণে এ স্থানটিকে 'মোস্ট হেভিলি গার্ডেড প্লেস' ও বলা হয়।


আয়রন মাউনটেইন


আয়রন মাউনটেইন ব্যাংকটি পেনসেলভানিয়ার পাহাড়ে অবস্থিত। বিভিন্ন দেশের ও বিশ্বের অনেক ধনী ব্যাক্তিবর্গের সম্পদ এখানে গচ্ছিত রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে এটি সতেরো লাখ স্কয়ার ফিট নিয়ে গঠিত। এটি বিশেষ সুরক্ষিত স্থান হওয়ার কারণ হচ্ছে এখানে আইনস্টাইনের ছবি, থমাস আলবা এডিসনের লাইট বাল্ব পেটেন্ট, পিকাসোর হাতে আঁকা আসল ছবিসহ রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী। এ ব্যাংক সম্পর্কে আরো কিছু চমকপ্রদক তথ্য দেয়া যাক, সম্প্রতি ব্যাংকটি বিল গেটসের একটি ব্যাবসা কিনে নিয়েছে, পুরো ব্যাংকটিকে ঠান্ডা রাখার জন্য এ.সি নয় বরং ব্যবহার করা হয় লিকুইড কুলিং সিস্টেম। এ ব্যাংকটি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপযোগী। যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে নিজেকে সংক্রিয়ভাবে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের সিকিউরিটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির চারপাশে সরকারি সেনা মোতায়ন রাখা হয়েছে। আর ভিতরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ বিশেষ কক্ষ এ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের ফিঙ্গার প্রিন্ট, রেটিনা স্ক্যানিং, ভয়েজ রিকগনাইজিং ছাড়া খোলা প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও এর অবকাঠামোতে নানা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে যেগুলো আমাদের অজানাই রয়ে যাবে! 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস