৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-মোদি

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৯ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:৫৫ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে তিনশো কোটি ডলারের এক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এছাড়া আরো সাক্ষর হয় তিনটি সমঝোতা পত্র। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প ও মোদি এ চুক্তি স্বাক্ষরের খবর নিশ্চিত করেন।

এর আগে সোমবার ভারত সফরের প্রথম দিনে এই চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আভাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অ্যাপাচে ও রোমিও হেলিকপ্টার কিনবে ভারত।

সাধারণত রুশ অস্ত্রে অভ্যস্ত হলেও চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘টু ফ্রন্ট’ লড়াইয়ে প্রস্তুত থাকতে মার্কিন অস্ত্র চাইছে ভারত। কারণ প্রযুক্তি ও মারণ ক্ষমতার দিক থেকে মার্কিন অস্ত্র বেশ শক্তিশালী। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৬০ কোটি ডলার মূল্যের ২৪টি এমএইচ-৬০ রোমিও সি-হক হেলিকপ্টার ও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৬টি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তারা। 

কিন্তু বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। মোদি এবং ট্রাম্প দু’জনেই বলেছেন, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিদল বানিজ্য চুক্তি নিয়ে অনেকটা এগিয়েছে। আমি আশাবাদী। আমরা এমন একটা চুক্তিতে পৌঁছতে পারব যেখানে দুই দেশেরই সুবিধা হবে। তবে আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি ৬০ শতাংশ বেড়েছে। আর ভারতে শক্তিক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বেড়েছে ৫০০ শতাংশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘মূলত তিনটি ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বাণিজ্য সম্পর্ক, শক্তি ক্ষেত্র এবং সন্ত্রাস বিরোধী ব্যবস্থা।’

প্রধানমন্ত্রী মোদির দাবি, ‘ট্রাম্প হলেন ভারতের খুব বড় বন্ধু। সোমবার ট্রাম্পকে আহমেদাবাদে অসাধারণ অভ্যর্থনা দেয়া হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের থেকে অনেক বেশি মজবুত।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাকিস্তান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে সিএএ প্রসঙ্গ আসেনি। ভারতীয় প্রতিনিধিদল মার্কিন ভিসার প্রসঙ্গও তুলেছিল।

এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে সিএএ নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি শক্তিশালী নেতা । ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ভারত খুবই ভালো কাজ করছে। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লির হিংসা নিয়ে কথা হয়নি। এটা পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। 

কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চান। এটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই দুই দেশ চাইলে তিনি মধ্যস্থতা করবেন। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে তার মন্তব্য, ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং সন্ত্রাসের মোকাবিলায় সক্ষম। আর পাকিস্তান এখন সন্ত্রাস থামাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এভাবেই বিতর্কিত বিষয় ট্রাম্প এড়িয়ে গিয়েছেন। 

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্প যে সিএএ নিয়ে, কাশ্মীর নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেননি, এটা নিঃসন্দেহে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/এসএমএফ