২৭ বছর আগে এক যুবতীর সম্মানরক্ষা করেছিলেন মোদি
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=112976 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

২৭ বছর আগে এক যুবতীর সম্মানরক্ষা করেছিলেন মোদি

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:২৫ ১৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৭:০৬ ১৯ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সালটা ছিল ১৯৯০। রেলের পরীক্ষা দিতে লখনউ থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন দুই যুবতী। ট্রেনের কামরায় ১২ জন ছেলে তাদের দিকে অস্বস্তিকর দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। ওইসব ছেলেদের কাছে কোনো রিজার্ভেশন ছিল না। তারা এ যুবতীদের সরিয়ে সে জায়গায় ব্যাগ-পত্র রাখতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, তাদের লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষাও ছুঁড়ে দিতে থাকে, যাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান ওই দুই যুবতী। রাতটা কিভাবে কাটাবেন বুঝতে পারছিলেন না। অন্যান্য যাত্রীদেরও বিশেষ কোনো হেলদোল ছিল না। উধাও হয়ে যান টিটিও।

কোনোভাবে রাতটা পার করেন তারা। পরের দিন আরো একটা ট্রেন সফর। এবার দিল্লি থেকে গুজরাত। একজন ভয়ে দিল্লিতেই রয়ে গেলেন। অপর যুবতী ট্রেনে উঠলেন, তবে ছিল না কোনো রিজার্ভেশন। ওই যুবতীর সঙ্গে যোগ দেন আরো এক জন। টিকিট ওয়েটিং লিস্ট থাকার কারণে ভীষণ ভয় পাচ্ছিল তারা। স্টেশনে পৌঁছে তারা ছুটল চার্ট দেখতে কিন্তু কিছুই লাভ হলো না কারণ টিকিট কনফার্ম হয়নি। কর্মরত টিটিকে জানাল তাদের অসুবিধার কথা, টিটি বলল ট্রেনে উঠে বসতে পরে যদি কিছু করা যা রাতের সফর। তার উপরে আগের ট্রেনে তাদের ভীষণ খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাই ভয়ে ভয়ে একটা কামরায় উঠে বসল তারা,তাদের সামনের সিটে দুজন ব্যক্তি বসেছিল ওদের উপর চোখ পড়তে আরো ভয় করতে লাগল কে জানে এরাও সেই আগের ট্রেনের লোকেদের মত কিনা? ওই দুই ব্যক্তির চোখে ওদের অস্বস্তি ধরা পড়ল। অবশেষে টিটি এসে জানাল কোনো সিট খালি নেই এ সিট দুটো ও পরের স্টেশনে ভরে যাবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তাদের তখন। কিন্তু কিছু করার কোনো উপায় নেই।

সে যুবতী আজ ভারতীয় রেলের ইনফরমেশন সিস্টেমের জেনারেল ম্যানেজার। লীনা শর্মা। ঘটনার বছর পাঁচেক বাদে অসমের এক এমন সময় ওই দুই ভদ্রলোক উঠেপড়ে সিট ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে কামরার মেঝেতে একটা চাদর পেতে শুয়ে পড়ে। সকাল বেলা হকারদের শব্দে ওদের ঘুম ভাঙে। সে সময় তাদের মধ্যে এক যুবক বলে ওঠেন, ‘বোন আপনাদের কোন অসুবিধা হয় নি তো? আর গুজরাতে কোন দরকার পড়লেও নির্দ্ধিধায় জানাবেন।’ এ কথা শোনার পর ওই দুই যুবতী আশ্বস্ত হন। এরপর একজন যুবতী তার পেন ও ডাইরি দিয়ে সে দুই সহযাত্রীকে বলে তাদের নাম ও ঠিকানা লিখে দিতে। ওই দুই যুবক ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পর তারা দেখেন দুই যুবকের নাম নরেন্দ্র মোদীজি ও শঙ্কর সিং বাঘেলা।

সংবাদপত্রে এ গল্পটি লিখেছিলেন তিনি। লীনার কাছে তখন মোদী কিংবা বাঘেলা, দুজনেই অপরিচিত মুখ। এরপর বাঘেলা গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন, পরে নরেন্দ্র মোদিও মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে একদিন যে সে নরেন্দ্র মোদিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন সেকথা ভাবেননি রেলের এ অফিসার। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘The Hindu’ পত্রিকায় এ গল্পটি লেখেন তিনি। শিরোনাম ছিল A train journey and two names to remember. আজও যতবার টিভি-তে দেখেন মোদিকে সেদিন রাতের সে ব্যবহারের কথা ভুলতে পারেন না তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ