২৩ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১৩৫ চিকিৎসক 

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

২৩ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১৩৫ চিকিৎসক 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৪১ ২৪ মার্চ ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

করোনা নিয়ে সাতক্ষীরাবাসীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই। দেশে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি কিন্তু সারাদেশের মতো আমাদের ও কিছু সংকীর্ণতা আছে। করোনাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়লে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সরবারহ এবং ১৪টি বেড বরাদ্দ আছে। আপাতত চলার মতো হাসপাতাল কর্মীদের পিপিই (ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম) আছে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ আছে কিন্তু আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট) ব্যবস্থা নেই।

প্রথমেই প্রয়োজন রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া, এর জন্য আমাদের প্রয়োজন করোনা শনাক্তকরণ কিট এবং দক্ষ টেকনেশিয়ান, বর্তমানে যা আমাদের নেয়। করোনাভাইরাসে রোগী আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)’র সঙ্গে হট লাইনে যোগাযোগ করবো।

আইইডিসিআর প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের এখানে রেখে নমুনা পরীক্ষা করে চিকিৎসা করতে পারবে অথবা চীন মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ মোট চার টি হাসপাতালের যে কোনটিতে রোগী হস্তান্তর করে চিকিৎসা করতে পারবে। হঠাৎ করে বেশি সংখ্যক রোগী ভর্তি হলে তাদের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে যাবে। সবাইকে সব প্রকার জনসমাগম বন্ধ করে বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। 

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি করে বেড সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিপিই পৌঁছে দিয়েছি। আইসিইউ’র ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ আছে।

করোনা শনাক্তকরণ কিট কত দিনের মধ্যে আমরা পাব তার কোনো নিদিষ্ট দিকনির্দেশনা আমরা পায়নি। বিভাগীয় পর্যায় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে প্রতিটি জেলা থেকে ১০ জন চিকিৎসক এবং ৪ জন টেকনেশিয়ানের একটি দলকে স্বল্প দিনের একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, নিদিষ্ট সময় জানানো হয়নি। হট লাইন ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইইডিসিআর’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। 

তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সংক্রমণ রোধ করা। স্ব স্ব অবস্থানে থেকে সমাজের প্রতিটি মানুষকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না কারন শরীরের অ্যান্টিবডি জীবাণু করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করতে পারে ফলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠে। বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জেলায় বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। অথচ বিশাল এ জনসংখ্যার বিপরীতে ১৩৫ জন চিকিৎসক ও দুই শতাধিক নার্স কর্মরত রয়েছেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ