২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির সোনালী দিন

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির সোনালী দিন

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪১ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- ফাইল ফটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- ফাইল ফটো

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি। ১৯৬৯ সালের এই দিনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু উপাধি। ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য সোনালী দিন, শ্রেষ্ঠদিন। 

স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে  বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন মানব দরদি, দুঃখী মানুষের বন্ধু, বাংলাদেশ মানুষকে তিনি ভালবাসতেন বলেই তিনি জীবনের যৌবন কারাগারে কাটিয়েছেন। বারবার কারাগারে গিয়েছেন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার পরেও মাথা নত করেননি। আজ বাংলাদেশে এত উন্নয়ন সবকিছুই মূলে বঙ্গবন্ধু। দেশের উন্নয়নের মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, চিন্তা-চেতনায় সবকিছু ছিল বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি জন্য,  স্বাধীনতা জন্য। তাইতো তিনি ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপন করে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি ধীরে ধীরে জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে গেছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আজকের এই দিনে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী। সেদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  দাঁড়িয়ে আমি এই কথাই বলেছিলাম- বাঙালি জাতি তোমার কাছে ঋণী, আমরা কখনোই এই ঋণ শোধ করতে পারব না। বাঙালি জাতি তোমাকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি  দিয়ে একটু হালকা হতে চায়। সেদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি এই কথায় বলেছিলাম।

তিনি বলেন, বাঙ্গালী জাতির জন্যও সোনালী দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি। আমার ব্যক্তিগত জীবনে এটা শ্রেষ্ঠ দিন। আজকে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নাম বললে সমগ্র বিশ্ব বুঝতে পারে কে এই বঙ্গবন্ধু।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। দেশের মানুষের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতা অর্জনে যিনি জীবনের প্রায় ১৪টি বছর কাটিয়েছেন কারাগারে। শাসকগোষ্ঠীর কোনো দমন-পীড়ন তাকে দমাতে পারেনি। মহান এ মানুষটিকে ১৯৬৯ সালের আজকের দিনে দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু উপাধি। সেই কারণে এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

তিনি বলেন, ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়- যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার আশীর্বাদ-অভিশাপ। ১৯৬৮ সাল; প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের গলায় কাঁটার মতো বিঁধে। আর ঠিক সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান ব্যস্ত জনমত গড়তে; নিরন্তর ঘুরছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানকে দমাতে না পেরে পাকিস্তানি শাসকরা মিথ্যা দেশদ্রোহীর তকমা লাগিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে। গ্রেফতার হন শেখ মুজিব। কিন্তু তাতেও এতটুকু বিচলিত দেখা যায়নি মহান এই নেতাকে। তাকে মুক্ত করতে উত্তাল সারাদেশ। জনতার সেই আন্দোলনে নতি স্বীকার করে পাকিস্তান। ৬৯’র ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান বাঙালির প্রাণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

পরদিনই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০ লাখ মানুষের বিশাল জনসভায় কৃতজ্ঞ জাতি প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে দেয় ’বঙ্গবন্ধু’ উপাধি। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাঙালী অর্জন করে স্বাধীনতা, মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন জাতির জনক।

১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডিইউসিএসইউ’র ভিপি’র দায়িত্ব পালন করা তোফায়েল আহমেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ঐতিহাসিক ১১-দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান জেল থেকে মুক্ত করি। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতির পক্ষে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান করে।’

আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ডিইউসিএসইউ’র ভিপি হিসেবে আমি সমাবেশে সভাপতিত্ব করি। আমি বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলি, আমরা মহান এই নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিচ্ছি, যে নেতা তাঁর যৌবনের পুরোটা সময় পাকিস্তানি জেলে কাটিয়েছেন এবং হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন।

এরপর থেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে পরিচিত হয়ে আসছেন। ‘বঙ্গবন্ধু’- বাংলায় যার অর্থ জনগণের বন্ধু।

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, আমি গর্বের সঙ্গে বলছি আমরা আমাদের দুটি স্লোগানকেই বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। একটি বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত এবং অন্যটি মাতৃভূমি বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। ২২ ফেব্রুয়ারি আমরা আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করি, যিনি একইসঙ্গে জাতির জনকে পরিণত হন। অন্যদিকে ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা দেশকে স্বাধীন করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এসএএম