ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

২২ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ২০:০৬ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:০৬ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দেশিয় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আট মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আমদানি করবে সরকার। যাতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর এ উদ্দেশে একটি ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট ২২ হাজার কোটি টাকা ২২টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির শেষ সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বুধবার (আজ) ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির শেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোট ১৩টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও ১২টির অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া টেবিলে আরো ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সেগুলোও পরে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৭ দশমিক ৯০৭ থেকে ৮ দশমিক ৮০২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে তিনটি লটে ডিজেল, জেট এ-১, মোগ্যাস এবং ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হবে। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ডিজেলে ২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার, জেট এ ৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার, ফার্নেস অয়েলে ২২ মিলিয়ন ডলার, মোগ্যাসে ৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার। ফলে এতে মোট ব্যয় দাড়াবে ৮ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।

এই ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় দি আরব ও আবুধাবি থেকে ১৩ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে আনা হবে ৭ লাখ মেট্রিক টন আর আবু ধাবি থেকে আনা হবে ৬ লাখ মেট্রিক টন। 

সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরন শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ এমপি০১-এর লট ডব্লিউপি০৬ এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৬৭৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় মরক্কো ও তিউনিশিয়া থেকে আড়াই লাখ করে মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও ডিএমপি সার আমদানি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এছাড়া রয়েছে, এডিবির অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪০টি ব্রডগেজ ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রস্তাব। যাতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১২৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। 

এদিকে খুলনা হতে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যাতে ২৯১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকায়।
  
অন্যদিকে, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পায়রা বন্দরের ডিটেইল মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআইএস