Alexa ২০ বছর পর মা’র দেখা অতঃপর...

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৬,   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

২০ বছর পর মা’র দেখা অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৬ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর মিশরে দেখা হল ফিলিস্তিনের এক মা ও তার ছেলের। ফিলিস্তিনের সাংবাদিক আমজাদ ইয়াঘির মা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্বল্প সময়ের জন্য গাঁজা ছেড়ে মিশরে গিয়েছিলেন। তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর ছিল। তবে চলতি সপ্তাহের সোমবার পুনরায় তাদের আনন্দময় সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর তারা একে অন্যকে দেখেনি। খবর- রয়টার্স'র 

১৯৯৯ সালে গাঁজা ছাড়ার পর ইয়াঘির মা নেভাইন জুহির সেখানে আর ফিরে আসতে পারেনি। কারণ তার মেরুদন্ডের ব্যাথা ছিল যার জন্য তার অপারেশন দরকার।  

২০০৭ সাল থেকে সশস্ত্র সংগঠন হামাস গাঁজা অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করার পর সেখান থেকে আর বের হতে পারেনি ইয়াঘি। ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে অবরোধ আরোপ করা হয় যার মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে ১৪ বার চেষ্টা করার পরেও মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেননি তিনি।
 
ইয়াঘিকে বেশ কয়েকটি বিদেশি সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সেগুলো সমাপ্তির পরেই সীমানা অতিক্রম করার বৈধ কারণ ছাড়াই ভ্রমণ ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তিনি।
   
অবশেষে জর্ডান হয়ে মিশরে প্রবেশের জন্য ভিসা পেয়েছিল ইয়াঘি। যা তাকে তার মায়ের বানহার নিলি ডেল্টা শহরের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছানোর রাস্তা করে দেয়। 

নিজ অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়েই ছেলেকে দেখতে পান জুহির। কান্নাজড়িত কন্ঠে সেখান থেকেই ছেলের নাম ডাকতে শুরু করেন তিনি। এরপর দৌড়ে নিচে গিয়েই ছেলেকে আলিঙ্গন করেন মা। এরপর একসঙ্গে হাত ধরে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে মা ছেলে। 

২০০৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সশস্ত্র সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন ইয়াঘি। তিনি বলেন, 'এটা ভাবাও অনেক কষ্টের যে, আপনি আপনার স্বপ্নগুলো অনুধাবন করা ছাড়াই, নিজের পরিবার, নিজ মা'কে না দেখেই আপনি মারা যেতে পারেন।'  

তিনি আরো বলেন, 'সব পরিস্থিতির মধ্যে একজন মা দরকার হয়। হ্যাঁ, আমার বয়স ২৯ বছর তবুও আমার পাশে আমার মাকে দরকার। আমার অনেক আত্মীয়স্বজন আছে যারা সবাই খুব ভালো। তবে মায়ের থাকাটা অনেক জরুরী।' 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/মাহাদী