Alexa ২০১৯-এ দেশ কাঁপাবে যেসব সিনেমা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

২০১৯-এ দেশ কাঁপাবে যেসব সিনেমা

সৈয়েদা সাদিয়া

 প্রকাশিত: ০৮:৪৯ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০৮:৪৯ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলচ্চিত্রে খরা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এক দুইটি সিনেমা ছাড়া বাকি সব সেভাবে দর্শক টানতে পারেনি সিনেমাহলগুলোতে। গেলো মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ছবিই যেন ব্যবসা সফল হতে পারছিল না। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। এক কথায় বলা যায়, বাণিজ্যিক ও বিকল্প ধারার ছবি মিলিয়ে গত বছর মোট ৫৬টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তবে খাতা-কলমে এই ৫৬ ছবির মধ্যে যৌথ প্রযোজনার রয়েছে চারটি। আর আমদানি করা ৪টি।

আর নিরেট দেশি ছবির হিসেব কষলে দাঁড়ায় ৪৮টি! এদিকে শুরু হয়েছে নতুন বছর। পার হতে চলেছে একটি মাসও। তবে এ বছর ঠিক কয়টা সিনেমা মুক্তি পাবে তা আগে থেকে জানা না গেলেও, জানা গেছে কিছু মুক্তি সম্ভব্য সিনেমার নাম যা আলোচনা তৈরী করতে পারে পুরো বছর।

আজ ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য থাকছে এই আলোচিত ছবিগুলোর আলোচনা, যা জানলে ভিন্ন আনন্দ পাওয়া যাবে।

ফাগুন হাওয়ায়

ফাগুন হাওয়ায়। নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ অভিনীত এই ছবিটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। আমাদের জাতিসত্তার মূলই হচ্ছে বায়ান্নর এই ভাষা আন্দোলন। কিন্তু মহান এই আন্দোলনকে নিয়ে সিনেমায় কোনো পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি। সে হিসেবে সিনেমাটির প্রতি দর্শকের একটা অন্যরকম টান থাকবে।

টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় তৌকির আহমেদ নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এর প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এতে আরো বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খানের লাগান ছবি-খ্যাত ভারতীয় অভিনেতা যশপাল শর্মা। তাকে পাকিস্তানি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেখা যাবে ওই ছবিতে। ঢাকা শহরের এক টগবগে তরুণ নাসির ভাষা আন্দোলনের প্রাক্কালে কোনো এক ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। সেখানে এসে দেখেন গ্রামে ঢেউ লেগেছে ভাষা আন্দোলনের। তিনি এলাকার যুবক ছেলেমেয়েদের মাঝে ওঠা ওই ঢেউকে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আরো বেগবান করার চেষ্টা করেন। আর ছবিতে সেই নাসির চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ।

আর কাকতালীয়ভাবে সিয়ামের বাবার নামও ছবিতে নাসির। বাকিটা দেখা যাবে গল্পে।

যদি একদিন

যদি একদিন। একটি বছর পার করে ফেলল ছবিটি। গত বছরের ৬ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল ছবিটির শুটিং। ২৯ জুন এর পুরো ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। কথা ছিল বছরের শেষদিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে যদি একদিন। তবে টিজার ও একটি গান ছাড়া এখনো মুক্তি পায়নি ছবিটি। এ বছর ফেব্রুয়ারীতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ছবিটির।

এটি পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এটি ক্যারিয়ারের পঞ্চম ছবি তার। তবে এ ছবির সবচেয়ে বড় চমক গায়ক তাহসান ও কলকাতার শ্রাবন্তী জুটি। গানের মানুষ তাহসানকে এরই মধ্যে নাটক ও টেলিছবির অভিনয়ে পাওয়া গেছে। তবে গানের জন্য তিনি যতটা প্রশংসা পেয়েছেন, অভিনয়েও ঠিক কম পাননি। এবার তাকে বড় পর্দায়ও দেখা যাবে। এই ছবিতে তাহসানের চরিত্রের নাম ফয়সাল। আর শ্রাবন্তী অভিনয় করছেন অরিত্রী চরিত্রে।

ছবিতে রয়েছে একটি বিশেষ চমক। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত তাসকিনও এতে অভিনয় করেছেন। একটি পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প ‘যদি একদিন’। এর মাঝে প্রেম আছে, আছে প্রতিহিংসাও। সিনেমায় গল্প অবর্তিত হয়েছে আফরিন শিখা রাইসা নামের এক শিশুশিল্পীকে ঘিরে। যার চরিত্রটির নাম রূপকথা।

শনিবার বিকেল

শনিবার বিকেল একটি অন্যরকম চলচ্চিত্র হবে এমনই আশা পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। তিনি ২০১৭ সালের অক্টোবরে ‘ডুব’ মুক্তির আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ নামের একটি ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। এর বাইরে কৌশলগত কারণেই তখন কিছুই জানাননি নির্মাতা। পরে আস্তে আস্তে ছবি সম্পর্কে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছবির বিষয় বস্তু। আর এই ছবিটি মূলত জঙ্গিবাদ নিয়ে। শোনা যাচ্ছিলো বিস্ময় জাগানিয়া ছবিটির কাহিনি গড়ে উঠেছে গুলশানে জঙ্গী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

যদিও এখনো পর্যন্ত নির্মাতা এই বিষয়টি স্বীকার করেননি। কিংবা সিনেমা মুক্তির আগে এমন রহস্য খোলাসা করতে চাননি। তাছাড়া ছবির কাস্টিংয়েও রয়েছে বিশেষ চমক। অভিনয় করেছেন ফিলিস্তিনের চলচ্চিত্র তারকা ইয়াদ হুরানি, পশ্চিম বঙ্গ সিনেমার জনপ্রিয় মুখ পরমব্রত চ্যাটার্জী, ছোট পর্দার তারকা অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, মামুনুর রশিদ, ইন্তেখাব দিনার এবং জাহিদ হাসানের মত তারকা।

মাত্র সাত দিনে ছবির শুটিং শেষ করেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পরে তিনি এও বলেছেন, টানা ১৫ দিন মহড়ার ফাঁকে ফাঁকে শুট করেছেন তিনি।

এদিকে, ছবিটির কয়েকটি বিশেষত্ব বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত হয়েছে। বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ভাষাতেও হয়েছে এর ডাবিং। জার্মানিতে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয়েছে। আর এই ছবিতে কাজ করেছেন ৯ দেশের অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলি।

বাংলাদেশ, ভারত, চায়না, জাপান, প্যালেস্টাইন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও আলবেনিয়ার থেকে ছিল অভিনয়িশিল্পী। রাশিয়ার একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করেছে ‘শনিবার বিকেলে’। সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন কাজাকস্থান থেকে আজিজ জাম্বাকিয়েভ।

রায়হান রাফি ‘আনটাইটেলড’

রায়হান রাফি নব্য আসা একজন জনপ্রিয় পরিচালক। যিনি কিনা দুইটি ছবি মুক্তি দিয়ে নিজের সুনাম কুড়িয়েছেন। তার প্রথম সিনেমা ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে দৃশ্যগল্প নির্মাতা হিসেবে নিজের মেধার জানান দিয়েছেন পরিচালক রায়হান রাফি। পরের সিনেমা ‘দহন’ দিয়ে শক্ত করেছেন নিজের অবস্থান। দুটি ছবিই দারুণ ব্যবসা করেছে সিনেমা বাজারে।

তার দুই ছবির গল্প বলার মুন্সিয়ানা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সমালোচক, দর্শকসহ চলচ্চিত্রবোদ্ধারাও। এ বছরের মার্চ মাসে শুরু করবেন নতুন সিনেমার দৃশ্যধারণের কাজ। ছবিটি প্রযোজনায় থাকবে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ঈদুল ফিতরে মুক্তি দেয়ার ইচ্ছে নিয়ে ছবিটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই।

রাফির আগের দুটি সিনেমাতেই প্রধান দুটি চরিত্রের বিয়োগান্তক পরিণতি দেখে প্রেক্ষাগৃহে বসে কেঁদেছেন দর্শক। এবারের গল্পটিতে বিচরণ করবে অন্ধকার জগতের মানুষেরা। মানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্পে নির্মিত হবে এই ছবিটি। অভিনয়শিল্পী হিসেবে থাকবে সেই সিয়াম-পূজা। তাদের সঙ্গী হবেন নায়ক রোশান। ছবিতে তিনটা চরিত্রই বেশ শক্তিশালী। এর বেশি আর কিছু জানা যায়নি, জানাতে চায়নি পরিচালকও। সময়ের সঙ্গে নাকি আরও বড় চমক নিয়ে হাজির হবে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়।

সার্ফিং

সার্ফিং। ২০১৬ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘আইসক্রিম’ মুক্তির দীর্ঘ সময় পর শরীফুল আবার ফিরলেন নতুন একটি চলচ্চিত্র নিয়ে। আর এর জন্য তিনি টানা তিন মাস ছিলেন পরিবার থেকে দূরে। থেকেছেন সাগরপাড়ে। শিখেছেন সার্ফিং। সিনেমার জন্য নিজেকে তৈরী করেছেন বহুদিন ধরে। আপাতত ছবিটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফ্রি’।

এই প্রসঙ্গে পরিচালক তানিম রহমান জানিয়েছেন, নামটি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। ছবির শুটিং শেষ। টানা এক মাসের শুটিং হয়েছে কক্সবাজারে। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত, যার কলম ঘুরে উঠে এসেছে বুনোহাঁস ও পিংক চলচ্চিত্রের মতো গল্প।

এই গল্পে দেশের প্রথম নারী সার্ফার নাসিমার জীবনের কিছু অংশ থাকবে। এই নাসিমার চরিত্রে দেখা যাবে সুনেরাহ বিনতে কামালকে। এই মডেল প্রথমবারের মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। তিনিও অনেক দিন ধরে সার্ফিং শিখেছেন। ছবিটি প্রযোজনা করছে স্টার সিনেপ্লেক্স। এটাও সিনেমার একটি বড় চমক। এদিকে সার্ফিং এ বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

রূপসা নদীর বাঁকে

এই বছরের আরেক চমক রূপসা নদীর বাঁকে। তানভীর মোকাম্মেলের নতুন এই চলচ্চিত্রটির এরই মধ্যে ৯০ ভাগ শুটিং শেষ হয়েছে। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে একজন ত্যাগী বামপন্থী নেতাকে ঘিরে, যাকে ১৯৭১ সালে রাজাকাররা হত্যা করে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘাটতি বাজেট সমন্বয়ের জন্য পরিচালক গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

এতে বিভিন্ন বয়সে বামপন্থী নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান শোভন, খায়রুল আলম সবুজ ও তাওসিফ সাদমান তূর্য্য, রামেন্দু মজুমদার, চিত্রলেখা গুহ, ঝুনা চৌধুরীর মত অভিনয়শিল্পী। দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির ছবিটিতে ত্রিশ দশকের স্বদেশি আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্টদের হত্যাসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ একজন বিপ্লবীর জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত হবে।

আসলেই তানভীর মোকাম্মেলের সিনেমা মানে জাতীয় পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি পুরস্কারে ভরপুর। তার সিনেমা বরাবরই প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এটার তাই হবে। সে হিসেবে এই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ থাকবে।

মিশন এক্সট্রিম

এই বছরের আরেক জনপ্রিয় নাম মিশন এক্সট্রিম। ঢাকা অ্যাটাক সফল হওয়ার পর আরেকটি পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার ছবি আসছে। যার নাম দেয়া হয়েছে মিশন এক্সট্রিম। অ্যাকশননির্ভর মৌলিক গল্পের ছবি হবে এটি। সিনেমার কাহিনী সংলাপ রচনা ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সানী সানোয়ার। তিনি ঢাকা অ্যাটাক ছবিরও গল্পকার ছিলেন।

সানী সানোয়ার পেশাগতভাবে পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। জানা যায়, সিনেমাটি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হবে। মিশন এক্সট্রিম-এর চিত্রনাট্য শেষ। এখন চলছে কলাকুশলী নির্বাচনের কাজ। এরই মধ্যে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরিফিন শুভ। মিশন এক্সট্রিম-এ তাকে পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের একজন চৌকস, সাহসী অফিসারের ভূমিকায় দেখা যাবে।

মিশন এক্সট্রিম পরিচালনা করবেন ফয়সাল আহমেদ। তিনি ঢাকা অ্যাটাক ছবির প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ বছরের মার্চ মাস থেকে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। আর বছরের শেষদিকে গিয়ে এর মুক্তি দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা। থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস এটি। মূলত মাসুদ রানা উপন্যাসটি প্রচন্ড জনপ্রিয় এদেশের পাঠকদের কাছে। তাই তাদের কথা মাথায় রেখে নির্মিত হচ্ছে ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্র।

‘মাসুদ রানা’ সিরিজের তিনটি উপন্যাস থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। যার মধ্যে ‘ধ্বংস পাহাড়’ -এর কাজ শুরু হবে প্রথম দিকে। ছবিটি হবে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের হিসেবে চমকে ওঠার মত বাজেটে। জাজ মাল্টিমিডিয়া সূত্রে জানা গেছে ‘মাসুদ রানা’র বাজেট ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। একটি রিয়্যালিটি শোর মাধ্যমে মাসুদ রানার নায়ক-নায়িকা খুঁজে নেয়া হবে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ সিরিজ থেকে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ছবিটি নিয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করার ইচ্ছে। সেমতেই এই সিনেমা নিয়ে প্ল্যান। ছবিটি নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম পর্ব ‘ধ্বংস পাহাড়’ -এর চিত্রনাট্য লিখেছেন নাজিম উদ দৌলা।

মাসুদ রানার সিনেমাটোগ্রাফার থাকবেন পাবলো ডায়াজ, যিনি অনেক বিখ্যাত হলিউড ছবির সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন। অ্যাকশন পরিচালকও হলিউড থেকে নেয়া হচ্ছে। তার নাম ফিল টান, যিনি ‘ট্রান্সফরমার’, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’-এর মতো ছবির অ্যাকশন ডিরেক্টর ছিলেন। টেকনিক্যাল টিম আসবে হলিউড থেকে। ৫০ ভাগ শুটিং হবে হলিউডে। ৪০ ভাগ বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে।

আনন্দ অশ্রু

আবার আসছে আনন্দ অশ্রু। এর আগে, নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ছবির একটি শিবলী সাদিকের ‘আনন্দ অশ্রু’। শাবনূর ও সালমান শাহ অভিনীত ছবিটি ১৯৯৭ সালে মুক্তির পর ব্যাপক সাড়া ফেলে। এবার একই নামে আরেকটি ছবি তৈরি হচ্ছে, তবে এটি আগের ছবির সিক্যুয়াল নয়। তাছাড়া পরিচালক জানিয়েছেন অনুকরণও নয়। এই ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহি ও নায়ক সাইমন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান মানিক।

এদিকে, গত বছর মানিক-মাহি- সাইমন জুটির ‘জান্নাত’ সিনেমাটি প্রশংসা পেয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামীন পটভূমির এ সিনেমা এ বছর দর্শকের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে সকলের বিশ্বাস। ছবিটি ভিলেন হিসেবে আছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। ছবির শুটিং শেষ। বর্তমানে এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। এ বছরই মুক্তি পাবে ছবিটি।

নোলক

অনেক দিন ধরে আটকে ছিল বাংলা চলচ্চিত্র নোলক। মূলত পরিচালক-প্রযোজকের দ্বন্দ্বে আটকে ছিল বিগ বাজেটের এই ছবিটির শুটিং। এ কারণে ছবির কাজ শেষ করা যায়নি। গত বছর কয়েক দফায় মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ‘নোলক’ এখনো মুক্তি পায়নি। ‘নোলক’ ছবিটির প্রায় শুরুর দিকে পরিচালনা করেছেন রাশেদ রাহা।

এরপর ছবির বাকি অংশ পরিচালনা করছেন প্রযোজক সাকিব সনেট নিজেই। ছবি প্রযোজক তিনি। ছবির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন ফেরারি ফরহাদ। রামুজি ফিল্ম সিটিতেও সিনেমাটির শুটিং হয়। আসছে ভালবাসা দিবসে মুক্তি পাবে বলে সর্বশেষ জানা যায়।

সিনেমাটিতে শাকিব খানের লুক দেখে সবাই প্রশংসা করেছেন। আর শাকিবের ছবি মানেই তো দেশী দর্শকের অন্যরকম আগ্রহ। সে হিসেবে এ বছর শাকিবের এ ছবিটি নিয়ে দর্শক আগ্রহ থাকবে বলা চলে। শাকিবের সঙ্গে জুটি হিসেবে আছেন ববি। ছবিতে উঠে এসেছে গ্রামীণ জীবন। বিশেষ করে পাহাড় ঘেরা একটি গ্রামের গল্প থাকছে এতে। আর এই ছবিতে ববিকে দেখা যাবে, গ্রামের মিষ্টি মেয়ের চরিত্রে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics