Alexa ২০০ কোটি টাকার ‘ভূতুড়ে বাড়িতে’ আতঙ্ক

ঢাকা, সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৪ ১৪২৬,   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

২০০ কোটি টাকার ‘ভূতুড়ে বাড়িতে’ আতঙ্ক

মজার খবর ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২১ ৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৭ ৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচতলা ভবনের বাড়ির সামনে গেলেই যেকোনো ব্যক্তি ভিমড়ি খেয়ে বসবেন। কোনো ঐতিহাসিক রাজার বাড়িতে এসে পড়লেন নাকি! সুনিপুণ নানা কারুকার্য আর চমৎকার নকশা সমৃদ্ধ বাড়িটির সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করবে। আর এ ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে নাকি ২০০ কোটি টাকা। তবে রহস্যজনকভাবে বাড়িটিতে থাকেন না কোনো লোক। তাই বাড়িটি এখন ভূতের বাড়ি হিসেবে অভিহিত করছেন এলাকাবাসী।

এমন চাকচিক্য সমৃদ্ধ ভূতের বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেল ঢাকার বনশ্রীর বি ব্লকের পাঁচ নম্বর সড়কে। বাড়িটির গল্প জানতে গিয়ে বের হলো অজানা রহস্যজনক তথ্য। ব্যয়বহুল এ বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয় ২০০ কোটি টাকা। তবে মানুষের বসবাস না থাকায় কৌতুহলের শেষ নেই। ওই বাড়িতে মানুষ থাকার কথা থাকলেও ভূত নাকি রাজত্ব করছে। ফলে চারদিকে ভূতের বাড়ি হিসেবে শোনা যাচ্ছে স্থানীয়দের মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতে আশপাশের বাড়িতে আলো জ্বললেও ওই বাড়িটি অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। গভীর রাতে বাড়িতে দিকে চোখ গেলেই আঁতকে উঠবেন যে কেউ। ফলে রাতের অন্ধকারে বনশ্রীর পাঁচ নম্বর সড়কে সহজে চলাচল করে না কেউ। দিনে দেখা যায়, পাঁচতলা বাড়িটির সামনে ও ভেতরে সুনিপুণ কারুকাজ রয়েছে। আর বাড়িটির ভবন নির্মাণ করতে নাকি সময় লেগেছে প্রায় ১২ বছর।

স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, বাড়ির মালিক এক খিস্ট্রান মেয়েকে বিয়ে করেছে। বাড়ি করার পর সেখানে তিনি বসবাস করেন না। এক কেয়ারটেকার ছিল। সিঁডিতে পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। এরপর থেকে তিনিও বাড়িতে থাকছেন না। তাই এটি ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

স্থানীয় এক নারী জানান, বাড়িটি ভূতের বাড়ি নামে পরিচিত। ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে দেখা যায়, উপরের দিকে পিলার বা মন্ডপের মতো। আর ভেতরের দিকে সিঁড়ি করা আছে। মাঝখানে একদম ফাঁকা। কিছুই নাই, ছাদ পর্যন্ত নাই।

স্থানীয় এক যুবক জানান, এলাকাবাসী জানে এটি ভূতের বাড়ি। বাড়িটি দেখতে অনেকে আসেন। তবে ভেতরে যাওয়ার আগ্রহ কেউ প্রকাশ করেন না।

আরেক যুবক জানান, মনের ভুলবশত অনেকে মনে করেন বাড়িতে ভূত আছে। আসলে তেমন কিছু না। তবে বাড়িটির নকশা বাংলাদেশের কোথাও আর আছে কিনা তার জানা নেই।

আরেক স্থানীয় জানান, সকাল বেলা হাঁটার সময় বাড়ির সামনে আসলেই শরীরে কম্পন হয়। এতে এখানে আসা ঠিক হবে কিনা ভাবি।

তবে স্থানীয় আরেক বৃদ্ধ জানালেন ভিন্ন কথা। তার মতে, ভূত বলতে কিছুই নেই। বাড়িটির নকশা সুন্দর করে করা হয়েছে। আর মানুষ থাকে না বলে ভূতের বাড়ির গুজব ছড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় এক নারী জানান, এতো টাকা খরচ করে বাড়ি ফেলে রাখার বিষয়টি রহস্যজনক। এতো টাকার বাড়িটি একা রাখায় মানুষের কৌতুহল রয়েছে। মানুষের কৌতুহল ধর রাখতে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে বলে শুনেছিন তিনি।

ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম জানালেন বাড়ির রহস্য। তিনি জানান, তার ভাতিজা রাজউকের প্রকৌশলী ছিলেন । তিনি অ্যামেরিকার অ্যাম্বেসিতে কর্মরত এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। ভাতিজার চাকরি জীবনের শখ ছিল রাজউক এলাকায় একটি বাড়ি করার। তাই বাড়িটি করা হয়েছে।

তবে বাড়ির ভবনে ঢুকতে কাউকে ঢুকতে দিতে নারা এ তত্ত্বাবধায়ক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ