Alexa ২০তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

২০তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৪১ ২৫ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৮ ২৫ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ২১তম তারাবিতে সূরা ইয়াসিনের ২য় রুকু থেকে ৫ম রুকু (২২-৮৩) পর্যন্ত, সূরা সাফফাতের ১ম রুকু থেকে ৫ম রুকু (আয়াত ১-১৮২) পর্যন্ত, সূরা সোয়াদের ১ম রুকু থেকে (আয়াত ১-৮৮) ৫ম রুকু পর্যন্ত এবং সূরা জুমারের ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু পর্যন্ত (১-৩১) পঠিত হবে। 

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৩তম পারা। 

সূরা ইয়াসিন: (২২-৮৩):
২য় রুকুতে (আয়াত ২২-৩২) হজরত ঈসা (আ.) এর পূর্ব যুগে একজন নবীর ঘটনা আলোচিত হয়েছে। তিনি তার কওমকে আল্লাহর দিকে ডাকতেন। কেউ তার কথায় কর্ণপাত করতো না। উপরন্তু নানা অত্যাচারে জর্জরিত করতো। শহরের প্রান্ত থেকে হাবিব নাজ্জার নামক এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে নবীর পক্ষ অবলম্বন করে এবং কওমকে তাকে অনুসরণ করতে বলে। ফলে তাকে শহিদ করে দেয়া হয়। 

আরো পড়ুন>>> ১৯তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

৩য় রুকুতে (আয়াত ৩৩-৫০) বলা হয়েছে আল্লাহর সৃষ্টি প্রসঙ্গে। আল্লাহ কীভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, ফসল উৎপন্ন করেন, রাত্র দিনের আবর্তন ঘটান এসব বলে মানুষকে তার প্রতি বিশ্বস্ত ও অনুগত হতে বলা হচ্ছে।

৪র্থ ও ৫ম রুকুতে (আয়াত ৫১-৮৩) নবীদেও প্রতি কাফেরদেও উপহাস ও তার পরিণতি প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর পর আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব, একত্ববাদ ও কুদরতের কিছু দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আলোচনা রয়েছে। সূরা ইয়াসিনের বেশির ভাগ আলোচনা মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে। এর সমাপ্তিও হয়েছে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের আলোচনা দিয়ে।

সূরা সাফফাত : (আয়াত ১-১৮২):
১ম রুকু ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-৭৪) আলোচনা করা হয়েছে সেসব ফেরেশতাদেও সম্পর্কে যারা আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর সপ্রশংস তাসবিতে মশগুল থাকেন। তারপর জিনদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, তারা যখন লুকিয়ে লুকিয়ে আসমানের সংবাদ শোনার চেষ্টা করে, তখন জ্বলন্ত উজ্জ্বল অঙ্গার তাদের পেছনে ধাওয়া করে এবং সবদিক থেকে তাদের ওপর আঘাত আসে।

৩য় রুকু থেকে ৫ম রুকু (আয়াত ৭৫-১৮২) পর্যন্ত জাহান্নামিদের একে অপরকে দোষারোপ প্রসঙ্গে আলোচনা শেষে জান্নাতিদেও পারস্পরিক কথোপকথন বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। তারপর হজরত নুহ (আ.), হজরত ইব্রাহীম (আ.), হজরত মুসা (আ.), হজরত হারুন (আ.), হজরত ইলিয়াস (আ.), হজরত লুত (আ.) এবং হজরত ইউনুস (আ.) এর বিভিন্ন ঘটনা আলোচিত হয়েছে। নবীদেও এসব ঘটনা শেষে এরশাদ হয়েছে, ‘আমার প্রেরিত বান্দাদেও জন্য আমার ফয়সালা নির্ধারিত যে, তারাই সাহায্য লাভ করবে এবং বিজয়ী হবে আর আমার বাহিনীরই জয় হবে।’

সূরা সোয়াদ : (আয়াত১-৮৮):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৪) বলা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা কোরআনের শপথ করেছেন। এই শপথের মাধ্যমে কোরআনের অলৌকিকতা এবং রাসূল (সা.) এর সত্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহর বড়ত্ব ও একত্ববাদেও বাহ্যিক প্রমাণের আলোচনার পর মুশরিকদেও অহংকার, মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

২য় রুকু ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১৫-৪০) হজরত দাউদ (আ.) এর কথা আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাকে বিশেষ ক্ষমতা দান করেছিলেন। লোহা তার হাতে গলে যেত। মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪র্থ রুকু ও ৫ম রুকুতে (আয়াত ৪১-৮৮) পূর্ববর্তী বিভিন জাতি গোষ্ঠীর অহংকারী ও অবিশ্বাসীদেও পরিণতি বলে রাসূলে আকরাম (সা.)-কে সবরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপর হজরত দাউদ (আ.), তারপুত্র সোলাইমান, আইয়ুব, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ইসমাইল, ইয়াসা ও জুলকিফল (আ.) এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ এসেছে। তারা ছিলেন আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত এবং শুকরগুজার বান্দা। এরপর হজরত আদম (আ.) ও অভিশপ্ত ইবলিসের কাহিনী কিছুটা বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সূরা জুমার : (আয়াত ১-৩১):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) বলা হয়েছে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহর একত্ববাদেও বিশ্বাসই হলো ঈমানের বুনিয়াদ ও ভিত্তিমূল। এরপর নবী (সা.) এর মাধ্যমে সমগ্র উম্মতকে হুকুম দেয়া হয়েছে যে, ইবাদত যেন শুধু আল্লাহর জন্যই হয়, লোক দেখানো বা রিয়ার কোনো আভাস যেন এতে না থাকে।

২য় রুকু ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১০-৩১) আল্লাহ তায়ালা একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত দুই দলের দুটি উদাহরণ দিয়েছেন। মুশরিকের উদাহরণ হচ্ছে এমন দাসের মতো যে কয়েকজন মালিকের মালিকানাধীন। মালিকদের মেজাজ এবং আচার-আচরণও একধরনের নয়, মিল-মহব্বত বা কোনো ধরনের ঐক্য কিংবা সমঝোতা নেই তাদেও মাঝে। এক মালিক দাসটিকে ডানে পাঠালে অন্যজন তাকে বাঁয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়। একজন বসার কথা বললে অপরজন দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। দাসটি পেরেশান যে, সে কার কথা শুনবে আর কারটা ছাড়বে। পক্ষান্তওে একত্ববাদে বিশ্বাসীর উপমা হলো এমন দাসের মতো, যার মালিক একজন। মালিকের চরিত্রও ভালো এবং সে নিজ অধীনস্থ দাসের প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে