১৯৯৩ সালে মুম্বাই হামলা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৫ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

১৯৯৩ সালে মুম্বাই হামলা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৮:০৯ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

১৯৯৩ মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে আরো দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিল ভারতের মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষ আদালত। তাহির মার্চেন্ট ও ফিরোজ আব্দুল রশিদ খান নামের দুজনকে ফাঁসির সাজা শোনাল টাডা আদালত।

অন্যদিকে আবু সালেম ও অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী করিমুল্লা খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে । একই সঙ্গে করিমুল্লা খানকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে আদালত।

অপর দোষী রিয়াজ সিদ্দিকিকে ১০ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেছেন টাডা আদালতের বিচারক।

রায়ে আদালত জানিয়েছে, আজীবন জেলবন্দি থাকতে হবে আবু সালেমকে। বিচারক এও জানিয়েছেন, পর্তুগালের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে ফাঁসি দেওয়া ‌যায়নি আবু সালেমকে।

দোষীদের মধ্যে আবু সালেম সহ আরও দু`জনের ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবী। বাকি দুজনের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবনের দাবি জানানো হয়।

এই ভয়ঙ্করতম ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অপরাধে গত ১৬ জুন বিশেষ টাডা আদালত আবু সালেম-সহ আরো পাঁচ জনকে দোষী সব্যস্ত করেছিল। বাকি ছিল সাজা ঘোষণা।

দোষী সব্যস্তরা হলেন, আবু সালেম, মুস্তাফা দোসা, ফিরোজ খান, তাহের মার্চেন্ট, রিয়াজ সিদ্দিকি, করিমুল্লা খান। আজই মুম্বই হামলায় যুক্ত এই ছয় জনের সাজা ঘোষণা করা হবে।

এই হামলার ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী দাউদ ইব্রাহিম ও টাইগার মেমন এখনও পলাতক।

আর ফাঁসি হয়েছে ইয়াকুব মেনন নামে আরও একজনের।

এছাড়া আরো ১০০ জনের বিচার করা হয়েছে আগে।

প্রসঙ্গত, বাইশ বছর আগের এক সকালে হঠাৎই বদলে গিয়েছিল ভারতের বাণিজ্যিক ও বিনোদনের রাজধানীখ্যাত তৎকালীন বোম্বে শহর (বর্তমানে মুম্বাই)। ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ। রক্তঝরা বিস্ফোরণে দুঃস্বপ্নের ঘোর কাটছিল না বোম্বেবাসীর। একযোগে ১৩টি বোমা বিস্ফোরণ চিরতরে বদলে দিয়েছে শহরের চেহারা।

শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত ভবন বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ যেন গুঁড়িয়ে গেল মুহূর্তেই। দক্ষিণের বিমান বাহিনীর এয়ার ইন্ডিয়া ভবন থেকে পশ্চিমের সি রক হোটেল পর্যন্ত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। বলিউড কিংবদন্তি ভি শান্তরাম মালিকানাধীন প্লাজা সিনেমা, সেঞ্চুরি বাজার সব ঝলসে গেল আগুন বোমায়। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার সদর দফতরও ছিল টার্গেটে। ১৩টি গাড়িতে করে এসে একযোগে হোটেল, অফিস ভবন, ব্যাংক, বাজার পেট্রোলপাম্প ধ্বংস করে সন্ত্রাসীরা।

মাত্র ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল ওই হামলা। এতে নিহত হয় ২৫৭ জন ও আহত অন্তত ১৪০০। তদন্ত বলছে এ হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মুম্বাইভিত্তিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা দাউদ ইব্রাহিম। টাইগার মেমন ও তার ভাই ইয়াকুব মেমনকে হামলা করতে দাউদ ইব্রাহিম সবরকম সহযোগিতা ও আয়োজন করেন বলে মনে করা হয়।

১৯৯৩ সালের এ হামলা ছিল ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার সূচনা। পরবর্তী সময় আরও অনেক হামলা হয়েছে। ২০০৬ সালে সুবুরবান ট্রেন নেটওয়ার্কে হামলায় অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়। ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা হয় ২০০৮ সালে তাজ হোটেল, রেলস্টেশন ও ইহুদি সংস্কৃতি কেন্দ্রে। এতে নিহত হয় ১৬৬ জন। পরবর্তী সময়ে ২০১১ ও ২০১৩ সালেও এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি ১৯৯৩ পর্যন্ত মুম্বাইয়ে এক মুসলিমবিরোধী সহিংসতার জেরেই ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাইয়ে এই হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হয়। মুসলিমবিরোধী ওই সহিংসতায় মারা গিয়েছিল ৫৭৫ জন মুসলিম, ২৫৭ জন হিন্দু এবং আরো ৫০ জন। ১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর মুম্বাইয়ের মুসলিমরা এর প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আর তারপরই মুম্বাইয়ের মুসলিমদের বিুরুদ্ধে ওই পরিকল্পিত সহিংসতা চালানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

Best Electronics