১৯তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

১৯তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২১ ২৪ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১৯তম তারাবিতে সূরা আহজাবের ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ৩১-৭৩) পর্যন্ত, সূরা সাবার ১ম থেকে ৯ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৫৪), সূরা ফাতিরের ১ম থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৪৫ ) পর্যন্ত এবং সূরা ইয়াসিনের (আয়াত-১-৮৩) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। 

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২২তম পাড়া।

সূরা আহজাব (আয়াত ৩১-৭৩):
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩১-৩৪) নবী (সা.) এর পরিবারের সদস্যদের ত্যাগ স্বীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী জীবনের শেষদিকে মুসলমানদের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে নবীপত্নীরা ভরণপোষণ একটু বাড়িয়ে দেয়ার আবদার করেন।

তখন তাদের বলা হয়, যদি সম্পদের প্রাচুর্য চাও তাহলে নবীজি থেকে পৃথক হয়ে যাও, আর আখেরাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত চাইলে কষ্ট সহ্য করে নবীজির সঙ্গেই থাকতে হবে। নবীপত্নীরা নবীজির সাহচর্য ও আখেরাতকে প্রাধান্য দেন। 

৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৫-৫২ নবী (সা.) এর উদ্দেশ্যে একান্ত কিছু বিধানের বর্ণনা উপাস্থাপন করা হয়েছে। তারপর ১০টি গুণের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো মুসলমানদের ভেতরে থাকা চাই ইসলাম, ঈমান, সদা আল্লাহর আনুগত্য, সততা, ধৈর্য্য, সালাতে বিনয়-খুশু, সদকা, সিয়াম, লজ্জাস্থানের হেফাজত, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির। তারপর রাসূল (সা.) এর পালকপুত্র জায়েদ (রা.) এর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। 

৭ম থেকে ৯ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৫৩-৭৩) কিছু পারিবারিক ও সামাজিক শিষ্টাচারের কথা বলা হয়েছে ‘কারোর ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ কর না। কারোর বাড়িতে দাওয়াতে গেলে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে স্থান ত্যাগ করো। অনর্থক কথাবার্তায় মশুগুল হয়ে মেজবানের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। যাদের সঙ্গে পর্দা করা ফরজ, এমন নারীর কাছে কোনো জিসিন চাওয়ার হলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। তারপর রাসূল (সা.) এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূরার শেষ দিকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন এবং বিভিন্ন আমানত পালনের দায়িত্ব বিশেষভাবে মানুষকে দান করেছেন। পাহাড়-পর্বত, আসমান-জমিন এই আমানতের দায়িত্ব গ্রহণ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেছিলো। 

সূরা সাবা (আয়াত ১-৫৪):
সূরা সাবা অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫৪ রুকু সংখ্যা ৬। ১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) সূরা শুরুই হয়েছে জ্ঞানী ও সত্য অস্বীকারকারীর মাঝে পার্থক্য বর্ণনা করে। জ্ঞানী ছাড়া অন্যরাই কেবল সত্য অস্বীকার করতে পারে। 

২য় রুকুতে (আয়াত ১০-২১) হজরত দাউদ এবং সুলাইমান (আ.) এর কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে সাবা সম্প্রদায়ের কথাও। 

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২২-৩৬) কাফেরদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং প্রশ্ন করেছেন ও উত্তরও দিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন তুলে ধরে তার অসাড়তা প্রমাণ করেছেন। 

৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৭-৫৪) বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। 

সূরা ফাতির (আয়াত ১-৪৫):
সূরা ফাতির মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আয়াত সংখ্যা ৪৫। রুকু ৫টি। 

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৭) মানুষকে পরকালের প্রতি ঈমানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সূরার সূচনা হয়েছে। 

২য় রুকুতে (আয়াত ৮-১৪) যুক্তির আলোকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে কেন আখেরাতের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক। 

৩য় রুকুতে (আয়াত ১৫-২৬) বলা হয়েছে আখেরাতে একজন মানুষ কত বেশি অসহায় হয়ে পড়বে। শুধু ঈমানই তার একমাত্র সহায় হবে। 

৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত-২৭) নম্বর আয়াতে আবারো যুক্তি দিয়ে বান্দাকে আখেরাতে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হয়েছে। আর বলা হয়েছে, একদিন বান্দাকে হিসাব দিতেই হবেই। 

সূরা ইয়াসিন (আয়াত ১-৮৩):
সূরা ইয়াসিন মক্কায় অবতীর্ণ। ৫টি রুকু ও ৮৩টি আয়াত আছে এ সূরায়। আজ পড়া হবে ২য় রুকুর (আয়াত ১-২১) অর্ধেক পর্যন্ত।

সূরা শুরু হয়েছে কসম দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা কসম করে বলেছেন যে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) একজন সত্য নবী। তারপর কুরাইশ সম্প্রদায়ের কাফেরদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা কুফুর ও ভ্রস্টতায় সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছিলো। তারপর হাবিব নাজ্জারের ঘটনা বিবৃতি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ আগামীকাল পঠিতব্য আয়াতাংশে আলোকপাত করা হবে ইনশাআল্লাহ! 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে