১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা

 প্রকাশিত: ২৩:৫৭ ১২ জুন ২০১৭   আপডেট: ১৬:৩৫ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দাফনের ৪২ দিন পর আদালতের নির্দেশে আজ সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যবসায়ীর ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়।

এ অভিযোগ উঠেছে রেল পুলিশের ১১ সহস্যসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর এলাকার উত্তর ভৈরবপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৪২) দীর্ঘ দিন চট্টগ্রামে মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে তিনি সেখানেই থাকতেন। গত ১ মে তিনি ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রাম থেকে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের ‘খ বগির ৪৪ নম্বর’ সিটে বসে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হাবিবুর ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে নিহতের ভাই অ্যাডভোকেট আয়ুব হোসেন প্রায় দুই সপ্তাহ খোঁজ খবর নিয়ে তাঁর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন।

পরে নিহতের ভাই আয়ুব হোসেন গত ১৭ মে চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগ করেন, গত ১ মে রেল পুলিশের ১১ সদস্যসহ ১৯ জন মিলে তাঁর ভাইয়ের ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে। ঘটনার সময় হাবিবুর রহমান চট্টগ্রাম থেকে মেঘনা আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন।

ওই দিন ট্রেনটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে পুলিশ যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে। এ সময় হাবিবুর রহমানের ব্যাগে পুলিশ দেশি-বিদেশি টাকা দেখে তাঁকে বাথরুমের কাছে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁর টাকার ব্যাগটি পুলিশ জোর করে নিতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন। এ সময় পুলিশ তাঁকে মারধর করে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

পরে পুলিশ প্রচার করে হাবিবুর ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হাবিবুর রহমানের  লাশ তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। তারপর তাঁর ভাই মামলার বাদী দুই সপ্তাহ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন রেলওয়ে পুলিশ ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে। এই হত্যার সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের ১১ সদস্যসহ ১৯ জন জড়িত রয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।

তাঁর মধ্যে— চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সীতাকুণ্ড রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, কনস্টেবল মিথিল, জাকির, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার এটিএসআই মশিউর রহমান, চাদঁপুর রেলওয়ে থানার এটিএসআই দুলাল চন্দ্র সাহা, চট্টগ্রাম প্লাটফর্মের স্টেশন মাস্টার প্রহল্লাদ চন্দ্র, এসআই আব্দুর রউফ, মেঘনা ট্রেনের গার্ড এস এ ঘোষ রয়েছেন।

আদালতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৫ মে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার হাবিবুর রহমানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভৈরব পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়।

লাশ উত্তোলন করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চিত্রা শিকারী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ভৈরব থানার এসআই আসাদুল হক আসাদ, বাদী অ্যাডভোকেট আয়ূব হোসেনসহ ভৈরব থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। ডেইলি বাংলাদেশ/আইজেকে