Alexa ‘১৫ মিনিট পরে পরীক্ষা হলে ঢুকে মনি’

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

‘১৫ মিনিট পরে পরীক্ষা হলে ঢুকে মনি’

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৮ ২১ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় আরো চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

রোববার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য দেন নুসরাতের সহপাঠী তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আলিম পরীক্ষার্থী আবু বকর ছিদ্দিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আকবর।

নুসরাতের সহপাঠী তাহমিনা আক্তার ও বিবি হাজেরা তাদের সাক্ষ্যতে বলেন, ৬ এপ্রিল পরীক্ষা হলে কাগজ দেয়ার পর স্যার জিজ্ঞেস করেন- কে কাগজ পায়নি? তখনো স্যারের হাতে একটি কাগজ রয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর তাহমিনা আক্তারের সামনের বেঞ্চে বসা কামরুন নাহার মনি হলে প্রবেশ করেন। এ সময় হল সুপার বেলায়েত হোসেন তাকে প্রশ্ন করেন, তুমি দেরি করে এলে কেন? জবাবে মনি বলে, আমার পেটে ব্যথা ছিল। এর কিছুক্ষণ পর শুনি মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে কারা যেন আগুন দিয়েছে। তারা আরো বলেন, কামরুন নাহার মনি পরীক্ষার হলে দেরিতে এলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়েছে।

আলিম পরীক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, যখন নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নামাচ্ছিল তখন তার গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। আমি আমার পাঞ্জাবি খুলে নুসরাতের গায়ে পরিয়ে দেই। তখন পাপোশ ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে মাদরাসার পিয়ন ও পুলিশ কনস্টেবল। আমি তার পরিচয় জানতাম না। পরে জানতে পারি সেও এই মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, ২৭ মার্চ নুসরাতের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ-মানববন্ধনে আমিও ছিলাম। সেখানে শাহাদাত হোসেন শামীমের সঙ্গে আমার দেখা হয়। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনার পর ওই দিন সকালে শামীম আমাকে ফোন করে বলেন, হুজুরের বিরুদ্ধে মামলা করা মেয়েটি মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কিছু জানেন কি? আমি বলি- এ বিষয়ে আমি জানি না। ঠিক আছে, খবর নিচ্ছি।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে ২৭ জুন থেকে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সোমবার পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল হোসেন, এসআই (শিক্ষানবিশ) ডিএইচ এম জহির রায়হান ও মো. আরিফুর রহমান, মো. আজহারুল ইসলাম এমরান ও মো. ওমর ফারুকের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics