Alexa ১৪ কিলোমিটার মরণফাঁদ

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

১৪ কিলোমিটার মরণফাঁদ

এমাদুল হক শামীম, শরণখোলা (বাগেরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ২৬ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ২২:৩৫ ২৬ আগস্ট ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আমড়াগাছিয়া কাঠের পুল থেকে সুন্দরবন অভিমুখী তাফালবাড়ি সাম ব্যাপারীর ব্রিজ পর্যন্ত যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

১২ ফুট প্রশস্ত সড়কের দুই পাশের কার্পেটিং ধসে গিয়ে বর্তমানে কোথাও ছয়-আট ফুট আবার কোনো স্থানে সড়কের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। প্রচুর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। সরু এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। 

স্থানীয়রা জানান, সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে খুড়িয়াখালী পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৬ সালে শরণখোলা অংশের এই ১৪ কিলোমিটার পূর্বের অবস্থায় রেখে বাকি ৩৮ কিলোমিটার ১৮ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে প্রায় তিন বছর ধরে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রায়েন্দা খালের ওপরের সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কের নিচের অংশের বালু সরে আট-দশটি পয়েন্টে বিশাল সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। বালুর বস্তা দিয়ে সেই ধস ঠেকানোর চেষ্টা করছে এলাকাবাসী। এতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে সেতুটিও। এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক বছরে এই সড়কে প্রাণ গেছে দুইজনের। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এরমধ্যে ৫ আগস্ট উপজেলার পাঁচরাস্তা বাদল চত্বর মোড়ে বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী নাছিমা বেগম মারা যান। মেরুদণ্ড ভেঙে গুরুতর আহন হন নাছিমা বেগমের কলেজপড়ুয়া ছেলে নাজমুল এবং দুটি পা ভেঙে যায় ভ্যানচালক প্রতিবন্ধী সবুর মিয়ার। এছাড়া গত বছরের ১৮ আগস্ট রায়েন্দা-রাজৈর বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাসচাপায় নিহত হন ভাড়ায় যাত্রীবহনকারী মোটরসাইকেল চালক ইউনুচ আলী। সরু সড়কের কারণে এভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেককেই।

বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন মানিক বলেন, মহাসড়ক এবং সেতুর পাশেই আমার স্কুল। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সবসময় সংশয়ে থাকতে হয়। তাই এই ১৪ কিলোমিটার প্রশস্তকরণসহ সেতুর দুই পাশের গর্ত দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। 

শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ-মোংলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শামীম আহসান পলাশ বলেন, ১৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যানবাহন চলাচল মোটেই সম্ভব না। তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে ভ্যান, অটোরিকশা, নছিমন চলার কারণে সরু সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে বহুবার সওজ বিভাগে দাবি জানিয়েও ফল হয়নি। 

বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণের কথা থাকলেও অর্থ সংকুলান না হওয়ায় শরণখোলা অংশের ওই ১৪ কিলোমিটার আগের অবস্থায় রেখে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে ওই ১৪ কিলোমিটার খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কয়েক দফা পিএমপি (মেজর) পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। দুই মাস আগেও প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এছাড়া সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম