১৪তম তারাবি: আয়াত ও বিষয়সমূহ

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

১৪তম তারাবি: আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ১৯ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪৬ ১৯ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১৪তম তারাবিতে সূরা আম্বিয়ার প্রথম রুকু থেকে সপ্তম রুকু (আয়াত ১-১১২) পর্যন্ত এবং সূরা হজের প্রথম থেকে দশম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৭৮) পড়া হবে। 

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৭তম পারা। 

সূরা আম্বিয়া : (আয়াত ১-১২২):
এ সূরায় ১৮ জন নবী ও রাসূলের আলোচনা স্থান পেয়েছে। তাই সূরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সূরাতুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ নবীদের সূরা।

প্রথম রুকুতে (আয়াত ১-১০) বলা হয়েছে দুনিয়ার জীবনের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে। অচিরেই কেয়ামত কায়েম হবে এবং হিসাব-নিকাস করা হবে। তবে এই ভয়ঙ্কর দিনের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই খুব গাফেল ও অসতর্ক।

দ্বিতীয় রুকুতে (আয়াত ১১-২৯) আলোচনা করা হয়েছে আল্লাহ হুকুম না মানার কারণে পূর্ববর্তী জাতি ও সম্প্রদায়ের ওপর কী আজাব নেমে এসেছিল। এ ধরনের শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় আল্লাহ হুকুম মানা। তারপর বলা হয়েছে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে। বিশ্বের এই উন্মুক্ত পাঠশালায় রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদের বহু দলিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই বিশ্বচরাচরে জমিন, আসমান, সূর্য-চন্দ্র এবং রাত-দিনসহ যা কিছু আছে, সেগুলোকে আল্লাহ তায়ালা অনর্থক-বেহুদা সৃষ্টি করেননি, বরং এসবের পেছনে এক বিশেষ হেকমত ও উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হলো বান্দা যেন এগুলো নিয়ে চিন্তাফিকির করে এবং শিক্ষা লাভ করে। 

তৃতীয় রুকুতে (আয়াত ৩০-৪১) মুশরিকদের ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডনের পর সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আসমান ও জমিন উভয়টি মিলিত ছিল, আল্লাহ এ দুটিকে পৃথক করেছেন। প্রত্যেক জীবজন্তুকে তিনি পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। জমিনের ওপর তিনি পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছেন, যেন জমিন স্থির থাকে। জমিনে সহজে চলাচলের রাস্তা বানিয়েছেন। আসমানকে তিনি নিরাপদ ছাদস্বরূপ বানিয়েছেন। রাত-দিন, চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। এগুলো ক্রমাগত একটির পর আরেকটি আসে-যায়; কিন্তু শৃঙ্খলায় কোনো ব্যতিক্রম হয় না।

চতুর্থ রুকুতে (আয়াত ৪২-৫০) বলা হয়েছে সব ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর, পৃথিবীর দেব-দেবীর কোনো ক্ষমতা নেই। পূর্ববর্তী জাতিদের আয়ুষ্কাল অনেক দীর্ঘ ছিল। তাদের যেমন জীবনের হিসেব হবে তেমনি পরবর্তীদেরও জীবনের হিসেব নেয়া হবে।

পঞ্চম থেকে সপ্তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৫১-১১২) পর্যন্ত ১৮ জন নবী (আ.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তারা হলেন ১. হজরত মুসা (আ.); ২. হারুন (আ.); ৩. ইব্রাহিম (আ.); ৪. লুত (আ.); ৫. ইসহাক (আ.); ৬. ইয়াকুব (আ.); ৭. নুহ (আ.); ৮. দাউদ (আ.); ৯. সুলায়মান (আ.); ১০. আইয়ুব (আ.); ১১. ইসমাইল (আ.); ১২. ইদ্রিস (আ.); ১৩. জুল-কিফল (আ.); ১৪. ইউনুস (আ.); ১৫. জাকারিয়া (আ.); ১৬. ইয়াহইয়া (আ.); ১৭. ঈসা (আ.) এবং ১৮. হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

আরো পড়ুন>>> ১৩তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

সূরা হজ : (আয়াত ১-৬৮):
এই সুরায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর মাধ্যমে মানুষের ওপর হজ ফরজ হওয়ার বিধান ঘোষিত হয়েছে, তাই এই সূরাকে ‘সূরা হজ’ নামকরণ করা হয়েছে।

প্রথম রুকুতে (আয়াত ১-১০) কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দেয়া হয়েছে। তারপর একজন মানুষ পৃথিবীতে আগমনের জন্য গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে ও পরে যে ধাপগুলো অতিক্রম করে সেসবের বৈজ্ঞানিক বিবরণ দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে অবশ্যই সক্ষম।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকুতে (আয়াত ১১-২৫) বলা হয়েছে কিছু লোক দ্বিধাদ্বন্ধের, পার্থিব উপকার পেলে কিছু ইবাদত-বন্দেগি করে, দ্বীনের পথে কোনো পরীক্ষা বা বিপদাপদের সম্মুখীন হলে ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এভাবে ধর্মের বিবেচনায় মানুষ বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম রুকুতে (আয়াত ২৬-৩৮) আল্লাহর হুকুমে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর বায়তুল্লাহ নির্মাণ এবং হজের ঘোষণা প্রসঙ্গে আলোচনা শেষে মুমিন বান্দার চারটি আলামত বর্ণিত হয়েছে ১. সর্বদা অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখে; ২. বিপদে ধৈর্যধারণ করে; ৩. নামাজের প্রতি যত্নশীল থাকে এবং ৪. নেক কাজে অর্থ দান করে। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানির আদেশ দিয়ে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত, মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং আল্লাহর কাছে মূল্যবান হলো বান্দার তাকওয়া।

ষষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৯-৪৮) যুদ্ধের জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। সত্য রক্ষায় প্রয়োজনে ঘরবাড়িও ছাড়তে প্রস্তুত থাকতে হবে। যুদ্ধের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, যদি আল্লাহ যুদ্ধ অনুমোদন না করতেন, তাহলে শত্রুরা সীমা ছাড়িয়ে যেত, মাথায় চড়ে বসত এবং মুমিনদের বিনাশে মেতে উঠত। ফলস্বরূপ ইবাদতখানা বিরান হয়ে পড়ত। কিন্তু যখন শত্রুরা ইটের পরিবর্তে পাটকেল খাওয়ার ভয়ে থাকবে, তখন তারা হামলা করার আগে শত চিন্তা করবে যে, কী করা যায়।

সপ্তম রুকুতে (আয়াত ৪৯-৫৭) বলা হয়েছে শয়তানের কাজ হলো সত্যের মধ্যে সংশয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করা, পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালার নিয়ম হলো শয়তানের সৃষ্ট সংশয় দূর করে দেয়া।

অষ্টম রুকুতে (আয়াত ৫৮-৬৪) বলা হয়েছে যারা আল্লাহর জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয় তাদের জীবন ও জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাদের উত্তম রিজিক দান করেন। তারপর আল্লাহ সৃষ্টির কুদরত সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাত-দিনের পালাবদল, আসমান থেকে বৃষ্টিবর্ষণ, গাছের সবুজ পাতা সব আল্লাহর হুকুমে হয়।

নবম ও দশম রুকুতে (আয়াত ৬৫-৭৮) আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের প্রমাণ বর্ণনা করা হয়েছে। কাফেরদের মিথ্যা উপাস্যদের অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে। তারপর মুসলমানদের আল্লাহর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, নামাজ কায়েম করা ও জাকাত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে