১৩০০ বছর আগেই কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ (সা.)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৫ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

১৩০০ বছর আগেই কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ (সা.)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩০ ২৫ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৩:৪২ ২৬ মার্চ ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাসটি বিশ্বের প্রায় ২০০টির মত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কেড়ে নিয়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখের মত মানুষ।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়াদের বা ঝুঁকিতে থাকাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। পরামর্শ দিচ্ছেন সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার।

তবে মহামারির সময় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এ নির্দেশ আধুনিক সময়ের এই চিকিৎসকদেরও ১ হাজার ৩০০ বছর আগে দিয়েছিলেন একজন মহান ব্যক্তি। তিনি হলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ উইকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন।

টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির এই গবেষক তার প্রতিবেদনে বলেন, ইমিউনোলজিস্ট ডা. অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিকেল রিপোর্টার ডা. সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে। একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

ক্রেইগ কন্সিডাইন তার প্রতিবেদনে লিখেন, আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই সবচেয়ে ভালো কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন?

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইনের ধারণা দেন। যদিও তার সময়ে সংক্রামণ রোগের মতো কোনো বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তারপরও তিনি এসব রোগব্যাধিতে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ছিল কভিড-১৯ এর মতো প্রাণঘাতী রোগ মোকাবেলায় দুর্দান্ত পরামর্শ। তার সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনো মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এর উদাহরণ হিসেবে মার্কিন গবেষক মোহাম্মাদ (সা.) এর একটি বাণী উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন- ‘মোহাম্মাদ বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ করো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।’

তিনি আরও বলেছেন, যারা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।’

এভাবে বিভিন্ন সময়ে মানব জাতিকে সংক্রামণ থেকে রক্ষা করতে মোহাম্মাদ (সা.) রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যাপারে তার অমূল্য বাণীগুলো হচ্ছে- ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’

‘ঘুম থেকে ওঠার পরে হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তা তুমি জান না।’

‘খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ ইত্যাদি।

সবচেয়ে বড় কথা, মোহাম্মাদ (সা.) এটা বলেননি যে, শুধু তুমি প্রার্থনা করে বসে থাকবে। বরং তুমি প্রার্থনার পাশাপাশি চিকিৎসা নেবে। সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে মৌলিক নিয়মগুলি মেনে চলবে।

এর উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মাদ (সা.)-এর সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন গবেষক। তিনি তিরমিজি শরিফের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘একদিন, মোহাম্মাদ এক বেদুইনকে লক্ষ্য করলেন যে, সে তার উটটি না বেঁধে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখছো না কেন?’

জবাবে বেদুইন বললো, ‘আমি ঈশ্বরের (আল্লাহ) উপর ভরসা রেখেছি।’ তখন নবী বললেন, ‘তোমার উটটি আগে বেঁধে রাখ, তারপর আল্লাহর উপর আস্থা রাখ।’

মোহাম্মাদ (সা.) ধর্মীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও গোটা মানবজাতির কাছে অনুকরণীয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী