১১ টায় ইউপি কার্যালয়ের দরজা বন্ধ!

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

১১ টায় ইউপি কার্যালয়ের দরজা বন্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৪ ১৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২১:০২ ১৮ মার্চ ২০২০

জালালাবাদ ইউপি কার্যালয়, বুধবার বেলা ১১ টায় তোলা ছবি

জালালাবাদ ইউপি কার্যালয়, বুধবার বেলা ১১ টায় তোলা ছবি

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা। সিলেট সদরের জালালাবাদ ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হন ওই ইউপির সেবাপ্রার্থী আব্দুর রহিম (ছদ্মনাম)।সেখানে এক গ্রাম পুলিশ ও কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ছাড়া দায়িত্বশীল কাউকে দেখতে পাননি তিনি। বেলা সাড়ে ১১ টা গড়ালেও কার্যালয়ের দরজা বা জানালা খোলা হয়নি। নেই ইউপির চেয়ারম্যান বা সচিবের উপস্থিতি। এ দৃশ্য আজকের নয়, কিছুদিন পরপর এমনভাবে কার্যালয়ের দরজা ও জানালা বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইউপির চেয়ারম্যান মনফর আলী অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কারাগারে রয়েছেন। ওই ইউপিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ইউপি সদস্য মানিক মিয়া। জনসম্পৃক্ত বা সাংঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ইউপি কার্যালয়ে কম আসা হয় তার। তবে ইউপি কার্যালয়ের সচিবের উপস্থিতি সঠিক সময়ে দেখা যায় না। কখনো বেলা ১২ টায়, কখনো বেলা ১ টায় ইউপি কার্যালয়ে হাজির হন সচিব। আবার অনেকদিন কার্যালয়ে দেখা যায় না তাকে। এতে সেবাপ্রার্থীরা সঠিক সময় সঠিক সেবা পান না। ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। তবে প্রতিদিন কার্যালয়ে গ্রাম পুলিশ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জালালাবাদ ইউপির বাসিন্দা আব্দুস শহীদ বলেন, ইউপি কার্যালয়ে সঠিক সেবা পেতে সেবাপ্রার্থীদের হিমশিম খেতে হয়। দায়িত্বে থাকা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবকে আরো আন্তরিক হওয়া উচিত। চেয়ারম্যান জনসম্পৃক্ত কাজে ব্যস্ত থাকলে কার্যালয়ের সব সেবা সচিবের দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ইউপির জন্মনিবন্ধনের চার নম্বর ভলিয়ম বইয়ে আমার জন্মসনদ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেটি অনলাইনে নিবন্ধন হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

জালালাবাদ ইউপির সচিব রাজিব দাশ বলেন, অস্ত্রসহ চেয়ারম্যান গ্রেফতারের পর চেয়ারম্যানের সব দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ইউপি কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যালয়ের দূরত্ব অনেক বেশি। বিভিন্ন ভাতা, খাদ্য গুদামের কাজ অর্থ্যাৎ চেয়ারম্যানের সব কাজ করতে হয়েছে। সম্প্রতি ইউপি সদস্য মানিক মিয়া প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজ কমেছে। আগের থেকে এখন বেশি সময় দিতে পারছি। পাশাপাশি নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মানিক মিয়াকে সহযোগিতা করতে হচ্ছে। এছাড়া কারো অভিযোগ থাকলে আমাকে জানাতে পারতেন।

সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ইউপি কার্যালয়ের দরজা-জানালা বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। এছাড়া কর্মীদের সচেতন হতে নির্দেশনা দেব। 

জালালাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মানিক মিয়া বলেন, সচিব শহরে বসবাস করেন। ইউপি কার্যালয় শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। শহর থেকে দ্রুত সময়ে ইউপি কার্যালয়ে আসতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন তিনি। তবে ইউপি কার্যালয়ের কাজ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতে পারেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হিংসাত্বক মনোভাব কেউ প্রকাশ করতে পারে।

সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ উল্লেখ করলে তিনি বলেন, কার্যালয়ে সচিবের উপস্থিতি নেই বলে কোনো খবর বা অভিযোগ পাইনি। পেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতাম।

তিনি আরো বলেন, নিজে সড়কে দাঁড়িয়ে অনেক সময় সেবাপ্রার্থীদের স্বাক্ষর দেই। বুধবার সকালে একজনের মেয়ের বিয়ের জন্য জন্মসনদ অনলাইন করা প্রয়োজন। সেই ব্যক্তিকে নিজের মোটরসাইকেলে বহন করে এনেছি। জনসম্পৃক্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় হয়তো কার্যালয়ে বেশি সময় দিতে পারছি না। তবে আপত্তি মেটাতে জনগণ যেভাবে চায়, সেভাবে সচিবকে দ্রুত কার্যালয়ে আসতে বলব।

এ ব্যাপারে সিলেট সদরের ইউএনও কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ