Alexa ১১তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

১১তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০০ ১৬ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:০৫ ১৬ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১১তম তারাবিতে পড়া হবে সূরা হিজরের ১ম রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ১-৯৯) পর্যন্ত এবং সূরা নাহলের ১ম রুকু থেকে ১৬তম রুকু (আয়াত ১-১২৮) পর্যন্ত।

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।
 
সূরা হিজর (১-৯৯):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৫) আলোকপাত করা হয়েছে হাশরের ময়দানে কাফেরদের পরিণতি কেমন হবে, কাফেররা রাসূল (সা.) এর সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করছে, পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গেও অনুরূপ আচরণ করেছে। তাই নিরাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এসব আয়াতে।

আরো পড়ুন>>> ১০ম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১৬-৪৪) বলা হয়েছে এই বিশ্বচরাচর ও তার নিজের মাঝে অসংখ্যা নেয়াতম রাজি ছড়িয়ে আছে এসব স্মরণ করা ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। হজরত আদমকে (আ.) কীভাবে সৃষ্টি করেছেন, তার মর্যাদা কত ওপরে তুলে ধরেছেন, ইবলিস কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, তা-ও বলা হয়েছে। যেন মানুষ নিজের মর্যাদা বোঝে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

৪র্থ ও ৫ম রুকুতে (আয়াত ৪৫-৭৯) বর্ণনা করা হয়েছে হজরত ইব্রাহীম (আ.) এর কাছে মেহমান বেশে দু’জন ফেরেশতার আগমন প্রসঙ্গে। ফেরেশতারা হজরত ইব্রাহীমকে (আ.) সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেয়ার পর বলেছেন, আমরা লুত (আ.) এর কওমের কাছে যাচ্ছি। তাদের আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেব। তারপর হজরত শোয়াইব (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ঘটনা বলে রুকু শেষ করা হয়েছে।

৬ষ্ঠ রুকুর (৮০-৯৯) আলোচ্যবিষয় হলো সামুদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দেয়ার ঘটনা, মক্কার কাফেরদের বিরোধিতা দেখে যেন রাসূল (সা.) হতাশ না হয়ে পড়েন সে সম্পর্কে উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি।

আরো পড়ুন>>> পবিত্র কোরআনের সাংকেতিক চিহ্ন

সূরা নাহল (১-১২৮):
১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-২৫) পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিভিন্ন নেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন, আমার অনুগ্রহ তোমরা যদি গণনা কর তারপরও শেষ হবে না। তাই আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ইবাদত কর না। তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। তারই দাসত্ব কর।

৪র্থ ও ৫ম রুকুতে (আয়াত ২৬-৪০) বলা হয়েছে যারা দুনিয়াতে আল্লাহকে ভয় করে জীবনযাপন করে, তাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। তারা সঠিক জবাব দিতে পারবে। ওই জবাবের ভিত্তিতে তাদেরকে সুখময় জান্নাত দান করা হবে। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবনযাপন করবে না, তাদেরকে যতই বলা হোক না কেন, তারা আল্লাহর রঙে জীবন রাঙাবে না। তাদের জন্য পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।

৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪১-৪২) মুহাজিরদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। আর যারা সত্য অস্বীকার করে তাদেরকে সহজ কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে অন্তরে সত্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

৭ম রুকুতে (আয়াত ৫১-৬০) শিরক থেকে দূরে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

৮ম থেকে ১১তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৬১-৮৩) শিরকের অসাড়তা ও তাওহিদের যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। সহজে বোঝানো জন্য কিছু উদাহরণ প্রদান করা হয়েছে, যা নিয়ে চিন্তা করলে মানুষের বিবেক নাড়া দেবে।

১২তম রুকুর (আয়াত ৮৪-৮৯) আলোচ্যবিষয় হলো সত্য অস্বীকারকারী পার্থিব জীবনে সত্যকে স্বীকার করলে পরকালে তাদের বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। সেদিন তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

১৩তম থেকে ১৫তম রুকু (আয়াত ৯০-১১৯) পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তবিরোধী কোনো কাজে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।

১৪ ও ১৫তম রুকুতে (১০১-১১৯) মুসলমানদের বিশেষ নসিহত করা হয়েছে, যাতে পরকালের পাকড়াও থেকে তারা বাঁচতে পারে।

১৬তম রুকুতে (আয়াত ১২০-১২৮) বিশ্বাসীদের জন্য জাতির পিতা হজরত ইব্রাহীম (আ.) এর জীবনাদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে হজরত ইব্রাহীম (আ.) এর ধর্ম ও হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর ধর্ম এক এবং অভিন্ন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে