Alexa ১০ হাজার মানুষের সেবায় একজন চিকিৎসক

ঢাকা, রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

১০ হাজার মানুষের সেবায় একজন চিকিৎসক

নাজিম উদ্দিন, রাঙামাটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৯ ১৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৮ ১৮ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার আবর্তনে বেহাল অবস্থায় আছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির স্বাস্থ্যসেবা। অধিকাংশ চিকিৎসকের পদ খালি থাকার পাশাপাশি নার্স ও কর্মচারী সংকটও তীব্র থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বরাবরের মতোই বঞ্চিত হচ্ছেন রাঙামাটিবাসী।

১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যা দিয়ে চালু হওয়া রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালটি পরবর্তীতে ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত হলেও ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি।

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সরকারি মঞ্জুরিকৃত পদের অনুকূলে চিকিৎসক নিয়োজিত থাকার কথা ১৭৬ জন। কাগজে কলমে কর্মরত ৮৪ জন চিকিৎসককে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যেও আবার ১৩ চিকিৎসক রাঙামাটি সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা এবং জেলার একমাত্র গাইনি কনসালটেন্ট ও চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রেষণে চলে গেছে। সব মিলিয়ে রাঙামাটির সাড়ে ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় মাত্র ৭১ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার মানুষের সেবায় একজন চিকিৎসক বরাদ্দ আছেন। বাকি ৯২টি পদ বছরের পর বছর ধরে খালি রাখা আছে। 

রাঙামাটি সদর উপজেলা ছাড়া অন্য নয় উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা আরো প্রকট। জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী উপজেলাগুলোর মধ্যে জেলা শহরেই সিভিল সার্জন অফিসের জন্য মঞ্জুরিকৃত পাঁচ চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন কর্মরত আছে। আরো দুইটি পদ শূন্যই রয়েছে। শহরের একমাত্র চিকিৎসাস্থল জেনারেল হাসপাতালে ৩১টি পদের মধ্যে ১৩টি পদই খালি আছে। কাগজে কলমে জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্বপালন করছেন ১৮ চিকিৎসক।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. শহিদ তালুকদার জানান, রাঙামাটি সদর হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিসিন কনসালটেন্ট, সার্জারি কনসালটেন্ট, অর্থো-সার্জারি কনসালটেন্ট, চক্ষু, অ্যানেস্থেসিয়া ও প্যাথলজিক্যাল এবং রেডিও কনসালটেন্টসহ কনসালটেন্ট পদগুলোতে দীর্ঘদিন কোনো ডাক্তার নেই বললেই চলে। তবে প্রকট সংকটের মধ্যেও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা মোটামুটি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতিমাসে গড়ে ১৩৭টি ডেলিভারি করানো হচ্ছে।

এদিকে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী জানান, আমাদের স্বল্প লোকবল নিয়েও আমরা যথাসাধ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছি। তিনি বলেন, স্থান স্বল্পতা অন্যতম একটি প্রধান কারণ। অপারেশন থিয়েটার, কেবিনসহ ডাক্তারদের বসার স্থান কম হওয়ায় একটু কষ্ট হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে সরকার আমাদের জেনারেল হাসপাতালটিকে আরো উন্নতকরণসহ ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সেটি হয়ে গেলে সেবার মান বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বিগত কয়েক দশক ধরে রাঙামাটির স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামমাত্র ছোঁয়া লাগলেও দক্ষ জনবলের অভাব, স্থান সংকুলান না হওয়াসহ নানা মহলের খামখেয়ালীপনায় রাঙামাটিবাসী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে এখনো পর্যন্ত বঞ্চিতই রয়ে গেছে। ২০১৪ সালে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে রাঙামাটির বাসিন্দারা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস