১০ বছর ধরে রেলের সিগন্যালম্যান এই বানর, মাস শেষে পেয়েছে বেতন!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=187869 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

১০ বছর ধরে রেলের সিগন্যালম্যান এই বানর, মাস শেষে পেয়েছে বেতন!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৬ ১৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১২:২৫ ১৫ জুন ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

প্রাণী হয়েও মানুষের মতো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে এক বানর। তার সুখ্যাতি গোটা বিশ্বজুড়ে। তার কর্মক্ণ্ড যারা দেখেছে তারাই অবাক বনে গিয়েছে। কীভাবে একটার পর একটা মানুষের মতো করে কাজ করে যেতে পারে একটি বানর?   

দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথের কাছে ইউটেনহেগ রেলওয়ে স্টেশন। সেখানে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের দিকে এক বানরকে সিগন্যালম্যানের কাজ করতে দেখা যেত। যাত্রীরা অবাক হতেন সবাই। এমনকি রেলের কয়লার বাক্স তোলার কাজও করত সে। 

সিগন্যালম্যান জ্যাকপ্রায় ১০ বছর দক্ষতার সঙ্গে সিগন্যালম্যানের দায়িত্ব পালন করেছে বানরটি। এজন্য মাস গেলে বেতনও ছিল তার। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়? হ্যাঁ, কখনো তার কোনো ভুল হয়নি কাজে। বানরটির নাম ছিল জ্যাক। এটা তার মালিকের দেয়া নাম। জ্যাক কেপ সরকারি রেলওয়ের আইনত নিযুক্ত সিগন্যালম্যান ছিল। 

জ্যাকের মালিকের নাম জেমস এডউইন ওয়াইডের। জেমস রেলওয়ে স্টেশনে রক্ষীর কাজ করতেন। বেশ বেপরোয়া আর সাহসী ছিলেন জেমস। এক রেল থেকে লাফিয়ে অন্য রেলে চড়তে পারতেন তিনি। এজন্য বন্ধুরা তাকে ডাকত জাম্পার বলে। তবে একদিন এভাবে লাফাতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে যান এডউন। 

বানর জ্যাক ও তার মালিক জেমসট্রেনের চাকায় তার পা দুটি কেটে যায়। প্রাণে বেঁচে গেলেও পা দুটি হারায় সে। এরপর হাঁটার জন্য কাঠের তৈরি পা লাগিয়ে নেন। এতে জেমস আর আগের মতো চলাচল করতে পারত না। রেলওয়ে সংস্থা তাকে ইউটেনহেগ রেলওয়ে স্টেশনে সিগন্যালম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে।    

একদিন জেমস তার কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।  হঠাৎই তার নজরে পড়ে একটি বানর কয়েকটি ষাঁড়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা দেখে তার খুব ভালো লেগে যায়। বানরটিকে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর তার নাম দেয় জ্যাক। বানরটি তাকে ঘরের কাজে সাহায্য করত। ঘর মোছা, ময়লা বাইরে রাখাসহ সব কাজ করতে থাকে। 

রেলের কয়লাসহ মালিককেও টানত জ্যাকএরপর জেমস জ্যাককে ষ্টেশনে এনে তার কাজ শেখাতে থাকে। অল্প দিনেই জ্যাক এই কাজ শিখে যায়। বাড়ি ফেরার সময় একটি ট্রলিতে বসে থাকতেন জেমস। আর জ্যাক তাকে ঠেলে বাড়ি নিয়ে যেত। খুবই যত্ন নিত জেমসের। তারপর থেকে রেলওয়ে স্টেশনে সিগন্যালম্যান হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে থাকে বানরটি। 

অবশেষে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায় এ খবর। একজন নারী যাত্রী জ্যাককে দেখে তার কথা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর রেলওয়ে স্টেশনে কর্তৃপক্ষ তাকে আইনগতভাবে নিয়োগ দেয়। তাকে একজন রেলওয়ের সরকারি কর্মী হিসেবে দেখা হত। এমনকি তার মাসিক বেতন ছিল ২০ সেন্ট এবং আধা বোতল বিয়ার। 

সিগন্যালম্যান জ্যাকজেমস বানরটিকে দিয়ে রেলের কয়লা তুলে দেয়ার কাজও করাতো। জ্যাককে চাবি দিয়ে পাঠালেই সে সঠিকভাবে রেলে কয়লার বাক্স তুলে দিত। জ্যাক অস্বাভাবিক বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। ট্রেনের চালকদের নির্দেশে সে ট্রেনের সিঁড়িও বদলে দিত। বানরটি রেলমাষ্টারের কাজও করত মাঝে মাঝে।

জ্যাক তার কাজে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠল যে জেমসের আর নির্দেশ দেয়া লাগত না। সে নিজেই সমস্ত কাজ করতে পারে। ১৮৯০ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় জ্যাক। টানা ১০ বছর বানরের কাজে কোনো ত্রুটি পাননি কর্তৃপক্ষ। একটি বানর হয়েও মানুষের মতো নিয়ম-নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কাজ করে ইতিহাসে নাম উঠিয়েছে জ্যাক। 

সূত্র: অ্যামিউজিংপ্লানেটস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস