১০ বছরে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার লেনদেন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১১ সফর ১৪৪২

১০ বছরে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার লেনদেন

শফিকুল বারী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৫ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৬ ৮ আগস্ট ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অস্ত্রধারী সাত দেহরক্ষী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটে চাঁদাবাজি করে প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জি কে শামীম। পাশাপাশি ঢাকায় তার দুটি বাড়িসহ প্রায় ৫২ কাঠা জমির মালিক হন বিতর্কিত এই ঠিকাদার। এছাড়া ১৮০ অ্যাকাউন্টে ১০ বছরে ছয় হাজার ৫৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৪২ টাকা লেনদেন করেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলার অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শামীম ও তার সাত অস্ত্রধারী দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র দেয়। 

সিআইডির অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- জি কে শামীমের দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, মোহাম্মদ সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক ডেইলি বাংলাদেশকে অভিযোগপত্র দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে আয় করা অর্থ বিদেশে পাচার করার চেষ্টা করেন জি কে শামীম।
 
মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে ১৮০টি অ্যাকাউন্ট খোলেন। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি ছয় হাজার ৫৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৪২ টাকা লেনদেন করেন। আর বেশিরভাগ লেনদেনই হয় ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে।

জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবের পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, জি কে শামীমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে সব মিলিয়ে ক্রেডিট হয় তিন হাজার ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯১ টাকা। আর ডেবিট হয় তিন হাজার ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টাকা।

সিআইডি কর্মকর্তা জিসানুল হক আরো জানান, জি কে শামীমের স্থায়ী আমানত ৩৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৪০৬ টাকার বেশি আদালতের আদেশে ফ্রিজ (লেন-দেন স্থগিত) অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার দুটি বাড়ি ও প্রায় ৫২ কাঠা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য (দালিলিক মূল্য) ৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সিআইডির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এস এম গোলাম কিবরিয়ার প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি একক ও যৌথ নামে ১৫৪টি প্রকল্পের কাজ পায়। জি কে শামীম গ্রেফতারের আগে ৬১টি প্রকল্প শেষ করেন। এসব প্রকল্পের বিল হিসাবে ৭৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৩ টাকা তুলে নেন। চার হাজার ৮১০ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৬২ টাকার বাকি ৯৩ প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। 

সিআইডির অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, শামীমের দেহরক্ষী হিসেবে কর্তব্যরত থেকে আসামিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে কমিশন নিতেন। জি কে শামীম তার দেহরক্ষীদের দিয়ে জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটে চাঁদাবাজি করতেন। এসব অপরাধলব্ধ আয় মজুদ করে বিদেশে পাচারের (মানি লন্ডারিংয়ের) চেষ্টাও করেছেন।

গেল বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমের গুলশানের নিকেতনের বাসা ও তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে জি কে শামীমসহ তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়। 

এছাড়া শামীমের অফিস থেকে মাদক, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর চেকসহ প্রায় দুই কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় শামীমের কাছে একটি অস্ত্রও পাওয়া যায়। পরে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে র‌্যাব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে