Alexa হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তায় ত্রুটি: এবার ১০০ বিশিষ্ট ব্যক্তির ফোন হ্যাক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তায় ত্রুটি: এবার ১০০ বিশিষ্ট ব্যক্তির ফোন হ্যাক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:১৫ ১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৮:৩৪ ১ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

ছবি: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

হোয়াটসঅ্যাপের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কমপক্ষে ১০০ সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির স্মার্টফোন স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুকের মালিকানাধীন এ জনপ্রিয় ম্যাসেজিং সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েল ভিত্তিক এনএসও গ্রুপের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের কল ফাংশনের মাধ্যমে পেগাসাস ভাইরাস দ্বারা তাদের ফোনগুলো হ্যাক করে। এই ভাইরাসের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল চালু হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওই ভাইরাসের কাছে।

তবে এ বিষয়ে আমেরিকার আদালতে মামলা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এ ধরনের ঘটনার দায়ী সংস্থার বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হলো।

হোয়াটসঅ্যাপ আরো জানায়, ছয় মাসের তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসে, আক্রমণকারীরা মাত্র দুই সপ্তাহে ১৪০০ মোবাইলে টার্গেট করে এ ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়।

তবে এনএসও দাবি করেছে, পেগাসাস শুধু অপরাধ ও সন্ত্রাস রোধে কেবল আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়।

সিটিজেন ল্যাবের সিনিয়র গবেষক জন স্কট রেলটন বলেন, আপনি যদি অত্যাচারী সরকারগুলোকে পেগাসাস চালাবার ক্ষমতা দিয়ে দেন তবে তারা এই প্রযুক্তিটিকে অপব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপ এসব মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং এনএসও দ্বারা আক্রমণের বিষয়টি জানায়।

যেকোনো মোবাইল ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপ কলের উত্তর না দিলেও পেগাসাস দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে।এমনকি মিসড কলগুলোও পেগাসাস দ্বারা কল লগ থেকে মুছে ফেলা হত। ব্যবহারকারীও জানতো না তাদের ফোন ভাইরাস দ্বারা আক্রমণ হয়েছে।

এই ভাইরাসটি ফোনের সব বার্তা ও ইমেলগুলো পড়তে, আগত বা বহির্গামী কল শুনতে ও কথোপোকথন রেকর্ড করতে পারে। এমনকি ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনও চালু করতে পারে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বিষয়টি তদন্ত করছে; কীভাবে এনএসওর ক্লায়েন্টরা পেগাসাস ব্যবহার এবং এর অপব্যবহার করেন।

সংস্থাটি এ বছরের শুরুর দিকেই কমপক্ষে ২০টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পেগাসাস বিক্রি করেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে ২৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে যার অর্ধেকই আসে মধ্য প্রাচ্যের ক্লায়েন্টদের থেকে।

তবে পণ্যগুলোর অপব্যবহারের অভিযোগ ভ্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে বলে দাবি করছে এনএসও। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, অভিযোগগুলো বিতর্কিত। আমরা এর বিরুদ্ধে জোরেশোরে লড়াই করবো। আমাদের প্রযুক্তি মানবাধিকার-কর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন বা লাইসেন্স করা হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/টিআরএইচ