১০০ বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লু নাকি করোনাভাইরাস, কোনটি শক্তিশালী?
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191300 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

১০০ বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লু নাকি করোনাভাইরাস, কোনটি শক্তিশালী?

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১১ ১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:২০ ১ জুলাই ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

পুরো বিশ্ব এক ভাইরাসের তাণ্ডবে দিশেহারা। গেলো বছরের শেষ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডব বাড়তে থাকে। সময়টা ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর, চীনের উহান শহরে প্রথম দেখা দেয় ভাইরাসটি। আজানা এই ভাইরাসটির নাম পরবর্তীতে দেয়া হয় কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস। 

চলতি বছরের শুরু থেকেই একে একে হাজারে মানুষের প্রাণ কাড়তে থাকে করোনাভাইরাস। এর কয়েক মাস পরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি রোগ হিসেবে ঘোষণা করে। এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই আবার সুস্থ হয়েও উঠছেন মারাত্মক ব্যাধি থেকে। 

তবে জানেন কি? ভয়ঙ্কর এ মহামারি ছাড়াও বিশ্ব প্রতি ১০০ বছর পর পর আক্রান্ত হয়েছে ব্ল্যাক ডেথ, প্লেগ, স্প্যানিশ ফ্লুতে। ১০০ বছর পূর্বে ঠিক করোনার মতোই স্প্যানিশ ফ্লু পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আদৌ কি কোনো শিক্ষা দিতে পেরেছে এসব মহামারি। নাকি আমরাই নিতে পারিনি কোনো শিক্ষা! 

চিকিৎসকরা তখনো যেমন রোগীদের বাঁচাতে হিমশিম খেত এখনো তেমনই দৃশ্যস্প্যানিশ ফ্লুর ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৯১৮ জানুয়ারি থেকে ১৯২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নাম স্প্যানিশ ফ্লু হলেও স্পেনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই ছিল না। তবে এর উৎপত্তি কোথা থেকে তা এখন পর্যন্ত অজানা। শত বছর কেটে গেলেও আবিষ্কার হয়নি এর প্রতিষেধক।

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল ওয়ান এ ওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এই ফ্লুতে। ধারণা করা হয়, ফ্রান্সের ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটি, নয় তো যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সেনাদের দেহে প্রথম ধরা পরে এ ভাইরাসটি। এরপর চীনা শ্রমিকদের মাধ্যমে ইউরোপে এটি ছড়িয়ে থাকতে পারে। 

মাত্র ছয় মাসে করোনা প্রাণ নিয়েছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের। আর স্প্যানিশ ফ্লুতে এর সংখ্যা ছিল তিন বছরে পাঁচ কোটিরও বেশি। চলুন জেনে নেয়া যাক শত বছর আগের ও পরের এই দুই মহামারি সম্পর্কে-

মৃতের সংখ্যা তখনো বাড়ছিলকরোনা এবং স্প্যানিশ ফ্লুর উৎপত্তিস্থল 

করোনাভাইরাস চীনের উহান শহরে প্রথম দেখা দেয়। ধারণা করা হয়, বন্য বাদুড় আর সাপ থেকেই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে আসে। তবে এ নিয়ে অনেক মতোভেদও রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। অনেক আগেই নাকি অনেকেই এই ভাইরাসের সংকেত দিয়েছিলেন বিভিন্নভাবে। এই ভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত হন এক নারী। তিনি একজন মাছ বিক্রেতা ছিলেন। তিনি উহানের এক বাজারে মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে বন্য বাদুড় আর সাপও বিক্রি হত। সেখান থেকেই তিনি আক্রান্ত হন বলে ধারণা চীনাদের। 

অন্যদিকে ১৯১৮ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সাসের হাস্কেল কাউন্টি স্প্যানিশ ফ্লু রোগটি প্রথম লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ফ্রান্সের এটেপলসে যুক্তরাজ্যের প্রধান সেনা মঞ্চায়ন ও হাসপাতালের শিবিরটি গবেষকরা তাত্ত্বিকভাবে মনে করেন স্প্যানিশ ফ্লুর কেন্দ্রস্থল। এই গবেষণাটি ১৯৯৯ সালে ভাইরাসবিদ জন অক্সফোর্ডের নেতৃত্বে একটি ব্রিটিশ দল প্রকাশ করেছিল। 

আবার অনেক বিবৃতিতে, স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির উৎস হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখিত আছে। ঐতিহাসিক আলফ্রেড ডব্লু ক্রসবি ২০০৩ সালে বলেছিলেন, স্প্যানিশ ফ্লুটির উদ্ভব ঘটে ক্যান্সাসে। একাধিক গবেষণায় নথিভুক্ত করা হয়েছে যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় চীনে ফ্লুতে অপেক্ষাকৃত কম লোক মারা গিয়েছিল। এটি থেকে অনুমান করা হয়েছিল যে ১৯১৮ ফ্লু মহামারীর উৎপত্তি হয়েছিল চীনে।

করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেদুই ভাইরাসের মধ্যকার মিল

বিস্তার ও আক্রান্তের দিক দিয়ে করোনা এবং স্প্যানিশ ফ্লুর মধ্যে খানিকটা মিল রয়েছে। দুটোই সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে ছড়ায়। দুটোই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো ভ্রমণ বৃদ্ধি। আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় সৈন্য, নাবিক এবং বেসামরিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে তখন স্প্যানিশ ফ্লু আরো সহজে ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নিকটতম মহল এবং বিশাল সেনা আন্দোলন মহামারীটি ত্বরান্বিত করেছিল এবং সম্ভবত উভয়ই সংক্রমণ বৃদ্ধি ও পরিবর্ধনকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুদ্ধের ফলে ভাইরাসের প্রাণঘাতীতাও সম্ভবত বেড়ে গিয়েছিল। আর করোনার ক্ষেত্রে অনেকটাই মানুষের অসচেতনতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

স্প্যানিশ ফ্লুর মতোই দিন দিন করোনায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। মাত্র ছয় মাসে পুরো বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এ পর্যন্ত প্রাণ নিয়েছে মোট পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৯১৩ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি।  

স্প্যানিশ ফ্লুর সময়কার হাসপাতালের দৃশ্যস্প্যানিশ ফ্লুর স্থায়িত্ব ছিল দুই বছর। কত জন মারা গিয়েছিল সেটির আনুমানিক হিসাবে পরিমাণের ভিন্নতা রয়েছে।১৯১৯ সালে মাত্র এক বছরেই মারা যায় দুই দশমিক পাঁচ থেকে দুই দশমিক নয় কোটি লোক। তবে ২০০৫ সালের একটি অনুমানে মৃতের সম্ভাব্য সংখ্যাপাঁচ কোটি বা এটি ১০ কোটি পর্যন্তও হতে পারে। সেসময় মৃতের সংখ্যা কোনো দেশ সঠিকভাবে প্রচার করত না। যে কারণে এর সঠিক সংখ্যা অনুমানের উপর ভিত্তি করেই প্রকাশ করা হয়।  

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, স্প্যানিশ ফ্লু কিন্তু করোনার মতো সারাবিশ্বে ছড়ায়নি। এর কারণ হতে পারে সেসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখানকার মতো উন্নত ছিল না। সামাজিক দূরত্ব ১০০ বছর আগের এবং পরের চিত্র কিছুটা একইরকম। ধারণা করা হয়, সেসময়ের প্রাণঘাতী এইডসে ২৪ বছরে যে পরিমাণ প্রানহানি ঘটেছে এক স্প্যানিশ ফ্লুতেই ২৪ সপ্তাহেই মারা গিয়েছিল তার চেয়ে বেশি মানুষ। 

পৃথিবীর এমন কোনো অঞ্চল ছিল না যেখানে এই স্প্যানিশ ফ্লু ছড়ায়নি। ব্রিটিশ উপনেবেশিক আমলে ভারতে এ মহামারিতে প্রাণ যায় প্রায় এক কোটি মানুষের। যুক্তরাষ্ট্রে সেসময় হঠাৎ করেই কয়েক হাজার মানুষের অসুস্থতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে প্রশাসন। তখন স্কুল, কলেজ, থিয়েটারসহ জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। 

সামাজিক দুরত্ব মানার বিধান তখনো ছিলসামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি তখনো ছিল!

সামাজিক দূরত্ব মানার ব্যাপারটি তখন না থাকলেও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বাধ্য করে সরকার। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। এতে আবারো এর সংক্রমন বেড়ে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠেকাতে সন্দেহভাজনদের পাঠানো হয় বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে।

কঠোর পদক্ষেপের পর দীর্ঘ ছয়মাস পর স্প্যানিশ ফ্লু নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন। বর্তমানে করোনাভাইরাস ঠেকাতে ছয় ফিট দূরত্ব মানার কথা বলা হচ্ছে বারবার। তারপরও এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে অনেক বেশি এর কারণ হতে পারে জনসংখ্যা। পৃথিবীতে এখন মানুষের সংখ্যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। 

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭৭০ কোটি। এই সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষ এখন একজন আরেকজনের খুব কাছাকাছি বসবাস করছে। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ বাস করার অর্থই হলো জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের অসুখ বিসুখের সৃষ্টি হয়। 

মাস্কের ব্যবহারভাইরাস ঠেকাতে মাস্কের ব্যবহার

করোনাভাইরাস ঠেকাতে স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই মাস্ক ব্যবহারের কথা বলছেন। জানেন কি? ১০০ বছর আগে স্প্যানিশ ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার হতো মাস্ক। এ মহামারিতেই প্রথম টোকিওর স্কুলছাত্রীরা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক মুখোশ তৈরি করে। যা ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সালের ফ্লুর মহামারি এবং পরবর্তীকালে রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় জাপানি জনগণ ব্যবহার করতেন। আর তখন থেকেই মুখোশ বা মাস্কের ব্যবহার শুরু হয়। সেসময় থেকেই মাস্কের প্রচলন শুরু।

তখনো বাণিজ্যিকভাবে মাস্ক উৎপাদন শুরু হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই রোগীদেরকে মাস্ক বিতরণ করত। মাস্ক তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকত নার্সরা। তবে যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাইকে মাস্ক পরার ঘোষণা দেয়া হয় তখন অবশ্য যে যেভাবে পারত সেভাবেই এক টুকরো কাপড় নাকের উপর থেকে মাথার পেছনের দিকে নেকাবের মতো বাধা হত। তবে ধীরে ধীরে ডাক্তাররা অপারেশনের সময় যে সার্জিকেল মাস্ক ব্যবহার করে তেমন ঘরানার মাস্ক বাজারে আসে।

এর বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যবহৃত কাপড় জীবাণুর ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। এতে করে জীবাণু সহজেই নাকে বা মুখে প্রবেশ করতে পারে না। এই মা্স্কগুলো চিবুক পর্যন্ত জুড়ে থাকে। কিছু মাস্ক দুই কানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। আবার কিছু মাস্কের ডিজাইন অনুসারে মাথার পিছনে বাঁধতে হয়। 

তবে এখন অনেক ধরনের মাস্ক পাওয়া যায়। সার্জিকেল মাস্ক থেকে কাপড়ের বিভিন্ন ধরনের মাস্ক উৎপাদন হচ্ছে। এগুলো অবশ্য চাহিদার ওপর নির্ভর করেই উৎপাদন এবং ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে সবাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার বাড়ালেও অনেকেই জানে না কীভাবে তা ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে হবে।

লাশের সংখ্যা বাড়ছেইভাইরাসের শেষ 

১৯১৯ সালের গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে এই ফ্লুর মহামারি ভাব কেটে যায়। এরই মধ্যে আক্রান্তদের সবাই মারা গিয়েছিলেন। এর প্রায় ৯০ বছর পর ২০০৮ সালে গবেষকরা স্প্যানিশ ফ্লুর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সক্ষম হন। তারা আবিষ্কার করেন, তিনটি জিন দ্বারা গঠিত একটি দলীয় ভাইরাস এটি। 

যা ব্রঙ্কিয়াল টিউব এবং ফুসফুসকে দুর্বল করার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়। এই গবেষণার মাধ্যমেই মহামারি ফ্লু’টি শনাক্ত করে এর নাম দেয়া হয় এইচ ওয়ান এন ওয়ান ভাইরাস। ১৯২০ সালে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে গেলেও পরবর্তীতে ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৮ সালে দেখা দিয়েছিল এই ভাইরাস। এখনো এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। 

আর করোনাভাইরাস গত ছয় মাস যাবত তার তাণ্ডব চালিয়েই যাচ্ছে। আরো কয়েক মাস বা বছরও থাকতে পারে এই ভাইরাস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিষেধক আবিস্কারে দিন পার করছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বিজ্ঞানীরা। এখনো কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। তবে খুব শীঘ্রই আবিষ্কার হবে প্রতিষেধক। দূর হবে করোনাভাইরাস। এমনই আশার আলো দেখছেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস